ফটিকছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

নিজস্ব প্রতিনিধি, ফটিকছড়ি
03072_n

টানা প্রবল বর্ষণে পা্লবিত হয়েছে ফটিকছড়ির নিম্নাঞ্চলসহ উপজেলার ২টি পৌরসভাসহ পুরো এলাকা। অনেক বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
ডুবে গেছে রাস্তাঘাট, মৎস্য খামার, গরুর খামার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার। খোলা হয়েছে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং সেল। যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে রামগড়-হেঁয়াকো-বারইয়ারহাট সড়ক, খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়ক, নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়ক। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন চট্টগ্রামের সাথে। পানি উন্নয়ন বোর্ড নারায়নহাট স্টেশন ইনচার্জ খোরশেদ চৌধুরী জানান, বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে হালদা, ফেনী, গজারিয়া, সর্তা ও ধুরুং খালের পানি। ফটিকছড়ির উপজেলা সদরের সাথে উত্তর ফটিকছড়ির যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। হেঁয়াকো গহিরা সড়কের শান্তিরহাট, নারায়নহাট, দাঁতমারা এলাকায় আটকা পড়ে আছে শত শত পণ্যবাহী যানবাহন।
দাঁতমারা ইউপি চেয়ারম্যান জানে আলম জানান, তিন দিনের টানা বর্ষণে ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে।
দাঁতমারা জিলতলী সড়কের একাংশ পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে সড়কে যান চলাচল। দাঁতমারা এলাকার মৎস্যচাষি মো. জাহাঙ্গীর ও মো. ফারুক বলেন, প্রবলবৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে তার মৎস্য প্রজেক্টের সবকটি লেক ভেসে গেছে। এতে অর্ধলক্ষ টাকার মাছ ভেসে গেছে। বাগানবাজার ইউনিয়নের সিকদারখীল এলাকার মৎসচাষি নুরনবী বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির পানিতে তার কয়েক হাজার টাকার মাছ ভেসে গেছে। নারায়নহাট ইউপি চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ জানান, প্রবল বর্ষণে নারায়নহাট বাজারে পানি জমেছে। হালদা ও গজারিয়ার পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ভুজপুর ইউপির চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম বলেন, প্রবল বর্ষণে ইউনিয়নের বড়বিল, মির্জারহাট, ফকিরাচান, সিংহরিয়া, কোটবাড়িয়া, পশ্চিম কৈয়া, হরিণা, পূর্ব আজিম পুরের একাংশ, আমতলি, ভুজপুরসহ ব্যাপক এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। প্রবল বর্ষণে জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। সারা দিনের বর্ষণে এলাকার হাটবাজার উপসি’তি ছিল খুবই কম। কাঞ্চননগর ইউপির চেয়ারম্যান রশিদ উদ্দিন চৌধুরী কাতেব বলেন, পুরো এলাকা পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে, এমন বন্যা আর দেখি নাই। উপজেলার সব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার রায় বলেন, বন্যায় উপজেলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সব জনপ্রতিনিধিকে এলাকায় থেকে জনগণের যাতে দুর্ভোগ না হয়, সে দিকে লক্ষ রাখতে নির্দেশ দিয়েছি।