মিরসরাইয়ে মধ্যস্বত্ত্বভোগীর উপদ্রব

প্রয়োজন হিমাগার স্থাপন

রাজু কুমার দে, মিরসরাই

কৃষিপ্রধান জনপদ মিরসরাই। যেখান থেকে দেশের যে কোনো স’ানে খুব সহজেই বহন করা যায় যে কোনো কৃষিপণ্য। বিশেষ করে উন্নত জাতের টমেটো, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন এ অঞ্চলের সেরা মৌসুমী সবজি। কিন’ এক শ্রেণির মধ্যস্বত্ত্বভোগীর জন্য এ অঞ্চলের কৃষকরা মারাত্মক লোকসানের সম্মুখীন হন। দালালদের হাত থেকে কৃষকদের রক্ষায় এ অঞ্চলের চাহিদা অনুযায়ী কয়েকটি হিমাগারের আবশ্যকতার কথা জানান বিভিন্ন পর্যায়ের পর্যবেক্ষকরা।
গেল বছর এখাকার কৃষকরা ৫ টাকা কেজি করেও মুলা বিক্রি করতে পারেননি। ভোক্তারা সারা বছর চড়া দামে টমেটো কিনলেও গত মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে ৫ টাকায় কিনেছেন পাইকাররা। অথচ একটি হিমাগার থাকলে এখানকার চাষিরা ন্যায্যদাম পেতেন। প্রতিদিন ভোরে মহাসড়কের পাশে ছোট বড় অন্তত ২০টি হাটে সবজির পাইকারি হাট বসে। চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা থেকে পাইকাররা এসব হাট থেকে কৃষকদের উৎপাদিত সবজি কিনে ট্রাকে করে এখান থেকে নিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলার সোনাপাহাড়, বারইয়াহাট, মিঠাছড়া, বড়তাকিয়া, ছড়ারকূল, নয়দুয়ারিয়া, হাদিফকিরহাট, বড়দারোগারহাট, জোরারগঞ্জ অন্যতম হাট। মিরসরাই উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলায় মৌসুমি সবজি উৎপাদন হয় প্রায় ৪ হাজার ২শ১০ হেক্টর জমিতে। এবছর শুধু শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে ১৯শ হেক্টর জমিতে। এখানে উৎপাদিত সবজির মধ্যে বেগুন, টমেটো, মুলা, গাজর, বাঁধাকপি, ফুলকপি, শালগম, লাউ, মিষ্টিকুমড়া, করলা, বরবটি, শিম, চালকুমড়া, ঝিঙ্গা অন্যতম। শাকের মধ্যে রয়েছে, পুইশাক, পালংশাক, লালমাক, মুলাশাক ও মিষ্টি কুমড়া শাক উল্লেখযোগ্য। চলতি বছর শিম চাষ হয়েছে ৬শ হেক্টর, বেগুন-১শ২০ হেক্টর, ফুলকপি ৬০ হেক্টর, পাতাকপি- ৫৫ হেক্টর, টমেটো-১শ৫০ হেক্টর, করলা-৫০ হেক্টর, বরবটি-৫৫ হেক্টর। এছাড়া বিভিন্ন রকমের শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে।
স’ানীয় চাহিদা মেটানোর পর কয়েক হাজার টন টমেটো, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, তিতা করলা, মুলা ও অন্য সবজি উৎপাদিত হয়। মৌসুমের শুরুতে কৃষকরা মোটামুটি মূল্য পেলেও পৌষ মাসের মাঝামাঝি থেকে ফলন পুরোদমে বাজারে আসতে শুরু করলে অনেকটা পানির দরে পাইকারদের হাতে তুলে দিতে হয়। হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পূর্ব হিঙ্গুলী গ্রামের কৃষক প্রকাশ চৌধুরী বলেন, অনেক দিন ধরেই শুনে আসছি একটা হিমাগার হবে। আমাদের আর সস্তায় বিক্রি করতে হবে না। কিন’ হচ্ছে না।এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা কৃষি অফিসার বুলবুল আহমেদের বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা সমন্বয় সভায় আলোচনা করব। তিনি বলেন, একটি হিমাগার কোনোভাবে গড়ে উঠলে এলাকার সবার জন্যই মঙ্গল। ভালো দামে অন্যত্র বিক্রি সম্ভব হবে। আয় বাড়বে এখানকার কৃষকদের।