আদালতে জবানবন্দি

প্রেমিকের হাত ধরে স্বেচ্ছায় ভারতে চলে যান মনিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

অপহরণ নয়, প্রেমিকের হাত ধরে স্বেচ্ছায় ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন সাত মাস নিখোঁজ থাকা সংগীত শিক্ষক মনিকা বড়ুয়া রাধা। পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে কমলেশ কুমার মল্লিক (৩৫) নামে এক ভারতীয় যুবকের সঙ্গে কলকাতায় পাড়ি জমান মনিকা। সেখানে গিয়ে তাকে বিয়ে করে নাম বদলে বসবাসও শুরু করেছিলেন তিনি। গ্রেফতারের পর পুলিশ কর্মকর্তাদের এ তথ্য জানিয়েছেন মনিকা বড়-য়া রাধা।
গতকাল বৃহস্পতিবার আলোচিত মনিকা বড়ুয়া রাধা (৪৫) নিখোঁজ ও অপহরণ নাটকের রহস্য উদঘাটন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম। মনিকা বড়ুয়া নগরের লালখান বাজারের বাসিন্দা। তিনি সাংবাদিক দেবাশীষ বড়ুয়া দেবুর স্ত্রী। দুই মেয়ের মা মনিকা কাতালগঞ্জের লিটল জুয়েলস স্কুলে গান শেখাতেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তা আমেনা বেগম জানান, কমলেশ কুমার মল্লিক একজন ভারতীয় নাগরিক। পেশায় ব্যবসায়ী। ফেসবুকে তার সঙ্গে পরিচয় হয় মনিকার। দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ঘনিষ্ঠতার এক পর্যায়ে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। গত ১২ এপ্রিল শ্যামলী পরিবহনের গাড়িতে মনিকাকে নিয়ে বেনাপোল সীমান্তে যান কমলেশ। পাসপোর্ট-ভিসা না থাকায় সেখানে অবৈধভাবে তাকে সীমান্তের ওপারে ভারতে নিয়ে যান। কলকাতায় একটি মন্দিরে বিয়ে করেন তারা। পরে সিদ্ধেশ্বরী এলাকার একটি ফ্ল্যাটে সংসার পাতেন। মনিকা নাম বদলে রাখেন অনামিকা মল্লিক।
পুলিশ কর্মকর্তা আমেনা বেগম আরও জানান, ব্যবসায়িক কাজে ৩ নভেম্বর ঢাকায় আসেন কমলেশ। ৪ নভেম্বর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর থেকে তাকে গ্রেফতার করে মহানগর ডিবি পুলিশ। কমলেশের মাধ্যমে মনিকাকে কৌশলে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ৬ নভেম্বর বাংলাদেশে আনা হয়। পরে তাকে আটক করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আমেনা বেগম জানান, মনিকা অপহরণ হয়েছে বলে অভিযোগ এনেছিলো তার পরিবার। তারা চট্টগ্রাম ও ঢাকায় মানববন্ধনও করেছিল। কিন’ তার পরিবার জানত মনিকা স্বেচ্ছায় ভারতে চলে গেছেন। ভারত থেকে বোনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন মনিকা। এমনকি বাড়ি ছাড়ার আগে দুই মেয়েকেও বলে যান তিনি। কিন’ ঘটনার তদন্তকালে মনিকার মেয়ে বা বোনেরা কেউ পুলিশকে কোনো সহযোগিতা করেননি।
প্রসঙ্গত, গত ১২ এপ্রিল লালখান বাজারের হাই লেভেল রোডের বাসা থেকে গান শেখানোর জন্য বের হয়েছিলেন মনিকা। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এ বিষয়ে তার স্বামী দেবাশীষ বড়-য়া গত ১৩ এপ্রিল খুলশি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ২৮ এপ্রিল অপহরণ সন্দেহে মামলা করেন তিনি। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপসি’ত ছিলেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার উত্তর মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত উপকমিশনার উত্তর মো. কামরুজ্জামান।
আদালতে মনিকার জবানবন্দি
লালখান বাজার থেকে নিখোঁজ হওয়া গানের শিক্ষিকা মনিকা বড়-য়া রাধা আদালতে হাজির হয়ে ফৌজধারি কার্যবিধির ২২ ধারা মতে জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল অতিরিক্ত মহানগর হাকিম মহিউদ্দিন মুরাদের আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক এ জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, স্বেচ্ছায় ভারতীয় যুবক কমলেশ কুমার মল্লিকের সঙ্গে ভারতের কলকাতায় পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গতকাল মনিকা বড়-য়া রাধা এবং ভারতীয় নাগরিক কমলেশ কুমার মল্লিককে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর আদালত জবানবন্দি রেকর্ড করে মনিকাকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেয় এবং ভারতীয় নাগরিক কমলেশকে জামিনে মুক্তি দেয়।
নগর পুলিশের সহকারী উপপুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) শাহাবুদ্দিন সুপ্রভাতকে বলেন, পুলিশ মনিকা ও কমলেশকে আদালতে হাজির করেন। মনিকা আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং তাকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেন। অন্যদিকে কমলেশ কুমার মল্লিককে তার আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জামিনে মুক্তি দেয় আদালত।