প্রেমিকের সঙ্গে অন্য নারীর পরকীয়া দ্বন্দ্বে খুন হন লাকি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরের হালিশহরে ব্যবসায়ী নারী খুন হওয়ার কারণ জানিয়েছে পুলিশ। গত ১৯ মার্চ রাতে নিজের মালিকানাধীন দোকানের স্টোর রুমে লাকি আক্তার (৩২) নামের ওই নারীকে খুন করে পালিয়ে যায় কর্মচারী খালেদ। পুলিশ তাকে গ্রেফতারে প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে।
হালিশহর থানার ওসি (তদন্ত) বদরুল আনোয়ার জানান, দোকান কর্মচারী খালেদের সঙ্গে লাকির পরকীয়া সম্পর্ক ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। সম্প্রতি লাকির বুটিক হাউজে বোরকা সেলাই করতে আসা আরেক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে খালেদ। এ নিয়ে ঘটনার দিন রাতে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে লাকিকে লোহার একটি ভারী বস’ দিয়ে মাথায় আঘাতের মাধ্যমে খুন করে পালিয়ে যায় খালেদ। তবে তদন্তের স্বার্থে বোরকা সেলাই করতে আসা ওই নারীর পরিচয় গোপন রেখেছে পুলিশ। সূত্রটি জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ওই নারীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে হালিশহর থানা পুলিশ।
এদিকে ঘটনার চারদিন পরেও খুনি গ্রেফতার না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন মামলার বাদি নিহত লাকির ছোটভাই মো. মামুন। একমাত্র আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি। জানা গেছে, আসামি খালেদের বাড়ি কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানা এলাকায়। তদন্তের স্বার্থে তার পুরো নাম-ঠিকানা প্রকাশ করতে চাইছে না পুলিশ। তবে দুই-একদিনের মধ্যে খালেদ ধরা পড়বে বলে জানান ওসি (তদন্ত) বদরুল অনোয়ার।
প্রসঙ্গত, গত ১৯ মার্চ দিবাগত রাত ১১টায় হালিশহর কে ব্লক এলাকার তিন নম্বর রোড দুই নম্বর লেইনের চার নম্বর রোডে লাকির মালিকানাধীন দোকানের পেছনে স্টোর রুমে এ ঘটনা ঘটে। লাকির গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জে। তার স্বামী একজন শ্রীলংকান নাগরিক। তার নাম নাস সু নাগাম। তিনি ইপিজেড এলাকার একটি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা। ১০ বছর আগে ভালবেসে ওই শ্রীলংকান নাগরিককে বিয়ে করেন লাকি।
১২ বছর ধরে হালিশহর এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন লাকি। তার দুই মেয়ে দুই ছেলে। ছোট মেয়ের বয়স দুই মাস। স্বামী, ছোটভাই ও চার সন্তানকে নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অদূরে একটি ফ্ল্যাট বাড়িতে থাকতেন লাকি আক্তার।
স্টোর রুমের জমিদার লুৎফুল হায়দার জানান, এক বছর আগে তার মালিকানাধীন একটি দোকান ভাড়া নেন লাকি আক্তার। দোকানটির নাম ‘কে আই স্পাইস ক্যাফে’। দুই মাস আগে এ দোকানের পেছনে অবসি’ত একটি বাসা তার (লুৎফুল হায়দার) কাছ থেকে স্টোর হিসেবে ভাড়া নেন লাকি। ওই স্টোরে ফাস্ট ফুডের বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ও বুটিক সরঞ্জাম রাখতেন। ঘটনার দিন বিকালের দিকে দুই মাস বয়সী কন্যাসন্তান কোলে নিয়ে নিজের দোকানে আসেন লাকি। এরপর লাকি ও খালেদ ঢুকেন স্টোরে। রাত ১১টার দিকে ঘটে নির্মম এ হত্যাকাণ্ড। এসময় ঘটনাস’লে ছিল লাকির দুই মাস বয়সী কন্যাসন্তান। খবর পেয়ে পুলিশ লাকির লাশ উদ্ধার করে।