প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী-২০১৮’ শীর্ষক অনুষ্ঠান

‘বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করেন রবীন্দ্রনাথ’

বিজ্ঞপ্তি
ROBINDRA-&-NAZRUL-JOYONTI-p

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সমাজবিজ্ঞানী প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম এমন এক সময়ে (১৮৬১), যখন বাংলা কবিতার বন্ধন-মুক্তির সময়। এ সময় মাইকেল মধুসূদন দত্তের মহাকাব্য ‘মেঘনাদ বধ’ প্রকাশিত হয়। মূলত মাইকেলের অমিত্রাক্ষর ছন্দ সম্বলিত ও অন্ত্যমিলহীন কাব্য, মহাকাব্যের মাধ্যমে বাংলা কবিতার বন্ধন-মুক্তি ঘটে। পূর্বে পয়ার ও ত্রিপদি ছন্দে অন্ত্যমিল রক্ষা করে কাব্য রচিত হতো। মাইকেলের পরে রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যে আবির্ভূত হয়ে তাঁর অসাধারণ রচনার মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর রচিত গোরা, শেষের কবিতা, ঘরে বাইরে, চোখের বালি, নৌকাডুবি অসামান্য উপন্যাস। তাঁর রূপক নাটক ডাকঘর, রাজা, রক্তকরবী সবকিছুকে ছাপিয়ে যায়। তাঁর গান বিটোফেন সুরারোপিত গ্যাটের লেখা গানের চেয়েও অতুলনীয়। তিনি নৃত্যনাট্য ও কাব্যনাট্যও লিখেছেন। তাঁকে কবিগুরু বলা হলেও বস’ত এমন কোন ক্ষেত্র নেই, যেখানে তিনি লিখেননি। নগরীর জিইসি মোড়স’ প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ভবনে ইংরেজি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী-২০১৮’ শীর্ষক দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্পের প্রশংসা করে বলেন, বিশ্বে তিনজন সবচে’ উল্লেখযোগ্য ছোট গল্পকার হিসেবে বিবেচনাযোগ্য-চেখভ, মোপাসা ও রবীন্দ্রনাথ। রবীন্দ্রনাথ বাংলার মানুষের চিত্রকে অসাধারণভাবে তাঁর ছোট গল্পে উপস’াপন করেছেন।
তিনি নজরুল সম্পর্কে বলেন, রবীন্দ্রনাথের বয়স যখন ষাটের কাছাকাছি, তখন সাহিত্যে নজরুলের আবির্ভাব। তখন প্রথম মহাযুদ্ধের শেষ। নজরুল সাহিত্যে আবির্ভূত হয়েই অসামান্য গান, কবিতা লিখলেন। সবচে’ বড়ো কথা, তিনি সাহিত্যের মাধ্যমে স্বাধীনতার বাণী প্রচার করলেন। পৃথিবীতে তাঁর মতো করে স্বাধীনতার কথা সাহিত্যে কেউ বলতে পারেননি। তাঁর রচিত স্বাধীনতার চেতনাসমৃদ্ধ ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সমকক্ষ কবিতা আর নেই। ব্রিটিশ ভারতে যথাযথ সময়ে যথাযথভাবে স্বাধীনতার বাণী সাহিত্যে উচ্চারণ করায় রবীন্দ্রনাথ অভিভূত হন। তিনি ‘বসন্ত’ নাটক নজরুলকে উৎসর্গ করেন।
ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান সাদাত জামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহীত উল আলম।