প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সোহেল হত্যা মামলা

১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর বেসরকারি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ’র ছাত্র নাসিম আহমেদ সোহেল হত্যার ঘটনায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার মহানগর হাকিম আল ইমরান খানের আদালতে অভিযোগপত্রটি দাখিল করা হয়। চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় পুলিশ অভিযোগপত্রে ১৮ জনকে আসামি এবং ৫১ জনকে সাক্ষী করেন। এর আগে গত রোববার অভিযোগপত্রটি নগর পুলিশের প্রসিকিউশন শাখায় জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফ হোসাইন।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী সুপ্রভাতকে বলেন-সোহেল হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গত রোববার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিতে আসেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। কিছু ভুলক্রটি থাকায় তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তা সংশোধনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার ভুলক্রটি সংশোধনের পর আদালতে ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
আদালতসূত্রে জানা যায়- অভিযোগপত্রে দেখা যায়, নগরীর প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাছিম আহমেদ সোহেল হত্যাকাণ্ডে কোনও ধরনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়নি পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে খাবার সরবরাহ নিয়ে দুইদল শিক্ষার্থীর মধ্যে বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
দিনেদুপুরে নাসিম আহমেদ সোহেলকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারীদের মধ্যে কোন্দলের জেরে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গন। নাছির অনুসারীদের অভিযোগ ছিল, সোহেল তাদের কর্মী। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আধিপত্য বজায় রাখতে মহিউদ্দিনের অনুসারী কর্মীরা তাকে হত্যা করে।
চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- ওয়াহিদুজ্জামান নিশান, জিয়াউল হায়দার চৌধুরী, এসএম গোলাম মোস্তফা, তামিম উল আলম, ইব্রাহিম সোহান, কাজী মো. জয়নাল আবেদীন, সাইফ উদ্দিন, মো. আবু জাহের উজ্জ্বল, সাইকুল ইসলাম তারেক, নুরুল ফয়সাল, মো. সাইফুল ইসলাম সাকিব, আবু ফয়েজ, রাশেদুল হক ইরফান, মো. নাজমুল হক, সোলায়মান বাদশা, আসিফ ও শামীম ওরফে ব্লেড শামীম।
আদালতসূত্রে জানা যায়, চার্জশিটভুক্তদের মধ্যে ১৪ জন হলেন নিহত সোহেলের বাবার দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। বাকি চারজনকে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যুক্ত করা হয়। তবে এজাহারভুক্ত মূল আসামি আশরাফুল ইসলাম আশরাফ এবং অপর দুজন মো. নিজাম উদ্দিন আবিদ ও সাজ্জাদের বিরুদ্ধে তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা আরিফ হোসেন বলেন- ভিডিও ফুটেজ দেখে ১৫ জন এবং তদন্তে তিন জনের তথ্য পাওয়ার পর ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। আসামিদের মধ্যে ১৫ জন বিভিন্ন সময় এই মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। বর্তমানে আসামিদের মধ্যে সবাই জামিনে পলাতক রয়েছেন।
অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে ওয়াহিদুজ্জামান নিশান, জিয়াউল হায়দার চৌধুরী, এস এম গোলাম মোস্তফা, তামিম উল আলম, রাশেদুল হক ইরফান ও নাজমুল হক প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ’র ছাত্র, ইব্রাহীম সোহান, কাজী জয়নাল আবেদীন, সাইফ উদ্দিন, আবু জাহেদ উজ্জ্বল ও নুরুল ফয়সাল স্যাম এমবিএ’র ছাত্র এবং বাকিদের মধ্যে আবু ফয়েজ এলএলএম এবং সাইফুল মোহাম্মদ তারেক ও সাইফুল ইসলাম সাকিব এলএলবি’র ছাত্র ছিলেন।
২০১৬ সালের ২৯ মার্চ নগরীর ওয়াসার মোড়ে বেসরকারি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ অনুষদে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নাছিম আহমেদ সোহেলকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন সোহেলের বাবা আবু তাহের তার ছেলেরই এক সময়ের বন্ধু ইব্রাহীম সোহানসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে চকবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।