প্রাথমিকে শিশুদের অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ

সম্পাদকীয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পড়াশোনার জন্য শিশুদের অতিরিক্ত চাপ না দিতে এবং লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে অভিবাবক, শিক্ষক সহ সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৯ এর উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী কোমলমতি বয়সে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার কঠোর শৃংখলে আবদ্দ করাকে এক ধরনের মানসিক অত্যাচার বলেও অভিহিত করেন, শিশুরা যাতে হেসে খেলে আনন্দের মধ্যে পড়াশোনাকে নিজের মতো করে করতে পারে সেই ব্যবস’া করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি শিশুদের প্রতিযোগিতায় ঠেলে না দিতেও অভিভাবকদের পরামর্শ দেন। তিনি প্রাথমিক শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে ছাপানো প্রশ্নপত্র দেওয়ারও সমালোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এসব বক্তব্য সুচিন্তিত এবং শিশুর লেখাপড়া ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে গাইড লাইন হওয়া উচিত। আমাদের দেশে প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে যে অব্যবস’াপনা, শিক্ষকদের দায়সারা গোছের দায়িত্ব পালন এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বেড়ে ওঠার সময়টিতে যে মনোযোগ ও পরিচর্যা প্রয়োজন সে ক্ষেত্রে প্রবল ঘাটতি রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বিদ্যালয়গুলিতে নিম্নমানের পাঠদান, মানোন্নয়নের দুর্বল কর্মসূচি স্কুল ব্যবস’াপনা কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারির অভাব, শিক্ষায় সরকারি বিনিয়োগ কম এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
আমাদের দেশে প্রাথমিকে এখন ভর্তি প্রায় শতভাগ এটি আশাব্যঞ্জক তবে তারা কি শিখছে, কিভাবে শিখছে সে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। শহর এলাকার প্রাথমিকে ভর্তির জন্য শিশুদের যে শারীরিক ও মানসিক চাপে পড়তে হয় তা এক কথায় অমানবিক। প্রাথমিকে কোমলমতি ছাত্রদের পিঠে বইয়ের ভারী ব্যাগ একটি পরিচিত দৃশ্য। হাইকোর্ট থেকে এ ব্যাপারে নির্দেশনা সকলেও তা কোথাও মানা হচ্ছে না স্কুল কর্তৃপক্ষ সরকারি বইয়ের পাশাপাশি স্কুলের নিজস্ব বই, খাতা এসব দিয়ে শিশুদের ওপর ‘বিদ্যার জাহাজ’ চাপিয়ে দেয়। অধিকাংশ স্কুলে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ নেই, শহরে স্কুলের প্রশস্ত জায়গা নেই, খালি জায়গা সংকুচিত হয়ে আসছে। শিক্ষকরাও এসব চর্চায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেন না। অন্যদিকে স্কুলে, কোচিং সেন্টারে, বাসায় পড়ার চাপের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয় শিশু কিশোরদের, অভিভাবকরা সন্তানদের শৈশব কৈশোরের স্বাভাবিক বিকাশে মনোযোগী নন, সন্তানদের যে ভাবে হোক মেধাবী বানাতে হবে, তাই একেবারে ভোরে ঘুম থেকে উঠেই তাকে স্কুলে, কোচিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। উন্নত দেশে ৭ বছরের আগে স্কুলে শিশুদের পাঠানো হয় না। কিন’ আমাদের দেশে ৫ বছরের আগেই সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে অভিভাবকরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সরকার শিশুদের স্কুলে মানসিক বিকাশে প্রাক-প্রাথমিক চালু করেছে।
শৈশবকাল মানবজীবনের ভিত তৈরির সময়। আর প্রাথমিক শিক্ষার সম্পূর্ণতা ও সাফল্য ভবিষ্যৎ লক্ষ নির্ধারণে সহায়ক হয়। সুতরাং এই সময় তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ পুষ্ট করতে অভিভাবক, শিক্ষক এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।