প্রাকৃতিক দুর্যোগে ম্লান ঈদের আনন্দ

মোহাম্মদ মনজুরুল আলম চৌধুরী

সমপ্রতি আগাম প্রবল আর ভারী বর্ষণে কয়েকদিন পানির নিচে ডুবে ছিল চট্টগ্রাম। জলাবদ্ধতার কারণে মানুষ ঈদের বাজার করতে বেরুতে পারেনি। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে নিম্নআয়ের অসহায় গরিব দুঃখী মানুষদের। তারা তাদের কেনাকাটা ফুটপাথে বসা স’ায়ী বা ভ্রাম্যমাণ হকারদের কাছ থেকে করে থাকে।
বৃষ্টির জন্য হকাররা যত্রতত্র বসতে পারেনি আবার তাদের সেই নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ক্রেতারাও তাদের কাছে আসতে পারেনি। এই গরিব দুঃখী ভাসমান হকারদের বসার জন্য কোন নির্দিষ্ট স’ান নেই, নেই এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনের কোন সুব্যবস’া। নেই শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পণ্য সামগ্রী নিয়ে বসার নির্দিষ্ট জায়গা। এরা কখনো এখানে কখনো ওখানে যাযাবরের মতো তাদের জীবন, ভ্যান গাড়ি বা পণ্যসামগ্রী মাথায় নিয়ে ঘুরে ফিরে। এরা ফুটপাত দখল করে পথচারীদের চলাচলে ব্যাঘাতের সৃষ্টি করছে। আবার ফুটপাত এবং রাস্তা দখল করে থাকায় ছোটখাট সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে এসব হকাররা। চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় পথচারী এবং বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের সাথে তাদের ঝগড়া বিবাদ একটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিম্ন আয়ের লোকদের কেনাকাটার জন্য হকারদের জন্য এলাকাভিত্তিক কিছু স’ান নির্দিষ্ট করে দেয়া উচিত। উচিত এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনের ব্যবস’া করা।
অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে চসিক চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার ব্যাপারে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাদের দায়দায়িত্ব মেগা প্রকল্প সমন্বয়কারী সিডিএ’র কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছে।। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে চট্টগ্রামের মেগা প্রকল্প যেহেতু সিডিএ’র মাধ্যমে হচ্ছে সেহেতু এগুলো সিডিএ’র দায়িত্ব। চট্টগ্রামের এই মেগা প্রকল্প নিয়ে চসিক-সিডিএ’র এতো টানা হেঁচড়া আর রেষারেষি বা পরস্পরের প্রতি দোষারোপ কেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, চউক-চসিক টানাপড়নে প্লাবনের আশঙ্কায় নগরবাসী- এরকম একটি খবর এ মাসের গোড়ায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন পত্রিকায় এসেছে। সেই প্রতিবেদনে বর্ণিত আশংকার সত্যতা পাওয়া গেল গত কয়েকদিনের আগাম এবং ভারী বৃষ্টিতে। চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতার কারণে জনজীবন ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দুঃখ, দুর্ভোগ, দুর্দশা আর ভোগান্তির যেন শেষ নেই চট্টগ্রামবাসীর। একটা গণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেই কি করে একটি প্রতিষ্ঠান তাদের দায় দায়িত্ব আর কর্তব্য এখানেই শেষ মনে করছে। চটগ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে, জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কাকে দায়িত্ব দিলেন আর কে এই দায়িত্ব পেলেন না সেই মনোবেদনা নিয়ে নিজের দায়দায়িত্ব ভুলে যাওয়া একমাত্র আমাদের দেশেই সম্ভব।
আগাম বর্ষার কারণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপ জেলার লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে গত ১৩ জুন দৈনিক সুপ্রভাতে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, রাঙামাটির নানিয়ার চর উপজেলায় পাহড় ধসে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে আরেক খবরে জানা যায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারেও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহত্তর চট্টগ্রামের গ্রাম-শহরের মানুষ আগাম এবং ভারী বর্ষণের কারণে পানিবন্দি হয়ে আছে। বাড়িঘর আর শহরের বাসা বাড়িতে পানি উঠায় অবর্ণনীয় দুঃখ, দুর্দশা আর চরম দুর্ভোগ আর ভোগান্তিতে আছে। এই দুঃখ, দুর্ভোগ, দুর্দশা আর ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি সমাজের অসহায় হত-দরিদ্র নিঃস্ব মানুষদের।
এই সময়ে আর্তমানবতার সেবায় বিত্তবান এবং যাকাত প্রদানকারী মানুষদের এগিয়ে আসা উচিত। লোক দেখানো, ঢাক ঢোল পিটিয়ে নয়, সঙ্গোপনে, মানুষ যেন অস্বস্তি বোধ না করে সেভাবে তাদেরকে নিজেদের সামর্থ অনুযায়ী যাকাতের টাকা এবং অন্যান্য সাহায্য সহযোগিতা পৌঁছিয়ে দেওয়া মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব। এবং তা নৈতিক ও ধর্মীয় কর্তব্যের মধ্যেও পড়ে। ঈদ মানে খুশি। ঈদ মানে আনন্দ। ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রামের গরিব দুঃখী মানুষ আজ বিপর্যস্ত। বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম বাসী। এই দুঃখের বিষাদের দিনে আসুন, ইসলামের শান্তি আর সাম্যের জয়গান গাই। গরিব দুঃখীদের ঈদের আনন্দে শরিক শামিল হই। ‘রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। সবার চোখে মুখে খুশি ও আনন্দের এক অদ্ভুত তৃপ্তিভরা হাসি ছড়িয়ে পড়ুক সবখানে। ঈদ মোবারক।