প্রহসনের ভোট করতে সেনাবাহিনীকে বাইরে রাখার ষড়যন্ত্র : খসরু

সুপ্রভাত ডেস্ক

আরেকটি ‘প্রহসনের’ নির্বাচন করতে ক্ষমতাসীনরা সেনাবাহিনীকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার ‘ষড়যন্ত্র’ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘তারা (সরকার) প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাইরে রাখতে চাচ্ছে সেই প্রহসনের নির্বাচনের দিকে আবার যাওয়ার জন্য। অর্থাৎ নির্বাচন নয়, ক্ষমতায় যাওয়ার প্রক্রিয়ায়, ক্ষমতা দখল করার প্রক্রিয়ায় তারা আছে।’ খবর বিডিনিউজ’র।
প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় অন’র্ভুক্ত করে তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনী দায়িত্বে মোতায়েনের দাবি জানিয়ে বিএনপির স’ায়ী কমিটির এই নেতা বলেন, ‘এর বাইরে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রক্রিয়া এদেশের মানুষ গ্রহণ করবে না।
‘যদি তাদের (সেনাবাহিনী) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা না হয় তাহলে সুস’ মস্তিষ্কে সেই নির্বাচনের দিকে যাওয়াটা বিপজ্জনক হবে।’
নির্বাচনের
আগে সংসদ ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়ে খসরু বলেন, ‘বিশ্বের সংসদীয় গণতন্ত্রের কোথাও সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন হয় না। বাংলাদেশেও ছিল না, বাংলাদেশে সব সময় সংসদ বাতিল করে নির্বাচন হয়েছে। এই সরকার সেটাও সংশোধন করেছে এবং একমাত্র উদ্দেশ্য তারা ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়ায় আছে, তারা নির্বাচনের দিকে যেতে চায় না।’
সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার দুটো দিক আছে-একটা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার ক্ষমতা, অন্যটি বিচার করার ক্ষমতা। আমরা বিচার করার ক্ষমতার কথা বলছি না, আমরা ম্যাজিস্টেসি ক্ষমতাটা দিতে বলছি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য।’
‘একজন পুলিশ কমিশনারেরও ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা আছে, সেটা বিচারের ক্ষমতা নয়। সেটা হচ্ছে কোনো রকমের বিপদ দেখা দিলে তখন কিন’ পুলিশ কমিশনার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত দিয়ে সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে থাকেন।’
নির্বাচনের সময়ে ‘নিরপেক্ষ’ সরকারের দাবিও তুলে ধরেন এই বিএনপি নেতা।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আগামী প্রজন্মের নেতৃত্ব এবং তারেক রহমান’ শিরোনামে এই আলোচনা সভা হয়।
তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে আমীর খসরু বলেন, ‘তারেক রহমান সাহেব প্যারাসুটেড কোনো নেতা নন। উনি তার পিতার মতো তৃণমূল থেকে নেতা হয়ে এসেছেন। তিনি জনপ্রিয় নেতা। আজকের ক্ষমতাসীনরা তারেক রহমানের ভয়ে ভীত।
‘আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের যে স্বপ্ন ছিল, সেটা বাস্তবায়ন ছিল তারেক রহমান সাহেবের স্বপ্ন। এই যে ঢাকা বিমানবন্দরের সৌন্দর্যকরণ সেটাও কিন’ তারেক রহমান সাহেবের চিন্তা থেকে এসেছে। আজকে আপনারা যে দেখছেন, বিমানবন্দরের সড়কের দুই পাশে খেজুর গাছ থেকে শুরু করে সুন্দর সুন্দর দৃশ্য।’
আয়োজক সংগঠনের সভানেত্রী খালেদা ইয়াসমীনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সালাম আজাদ, নিপুন রায় চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।