পরীক্ষা শুরু ১ এপ্রিল

প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এসএসসির কৌশল এইচএসসিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে এসএসসির কৌশল প্রয়োগ হচ্ছে এইচএসসিতে। গত এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রগুলো বাদামী রঙয়ের খামের পরিবর্তে এলুমিনিয়ামের ফয়েল খামে ছিল। আর কেন্দ্রভিত্তিক প্রশ্নপত্রগুলো ছিল নিরাপত্তা খামে। এ পদ্ধতিতে গত এসএসসি পরীক্ষায় কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। তাই এবার এইচএসসিতে একই পন’া নেয়া হচ্ছে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবারের পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে ৯৯ হাজার ৬৫১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসান বলেন, ‘প্রশ্নপত্র থাকবে বাদামী রঙয়ের খামের পরিবর্তে এলুমিনিয়ামের ফয়েল খামে। বিগত পাবলিক পরীক্ষার মতো ট্রেজারিতে কেন্দ্রভিত্তিক প্রশ্নপত্রগুলো একটি নিরাপত্তা খামে থাকবে। আর তা দিয়ে একবারই প্যাকেট খোলা যাবে।’
ফয়েল খাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত এসএসসি পরীক্ষায় আমরা তা ব্যবহার করেছি। এ খাম কেবল একবারই খোলা যাবে। তা কেটে প্রশ্নপত্র বের করতে হবে। এর আগে ব্যবহৃত হলুদ খামগুলো সিলগালা থাকতো।
তিনি আরও বলেন, একইসাথে প্রশ্নপত্র ট্রেজারিতে আসার পর কেন্দ্রসচিব ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপসি’তিতে ফয়েল পেপারের খামগুলোর পরীক্ষার তারিখ অনুযায়ী একটি নিরাপত্তা খামে প্রবেশ করিয়ে তা কসটেপ দিয়ে আটকে দেয়া হবে। এই কসটেপযুক্ত খাম পরীক্ষার দিন কেন্দ্রে একবারই খোলা যাবে।
পরীক্ষার সেট কোড

কিভাবে নির্ধারণ করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরীক্ষার দিন ২৫ মিনিট পূর্বে জেলা প্রশাসককে বোর্ডের পক্ষ থেকে সেট কোড জানিয়ে দেয়া হবে। জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের মাধ্যমে কেন্দ্র সচিবকে তা অবহিত করবেন।
কিন’ গত এসএসসি পরীক্ষায় কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষায় দেখা গেছে নিয়মিত পরীক্ষার্থীর প্রশ্নে অনিয়মিত এবং অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর প্রশ্নে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এবার এ বিষয়ে কি উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আগামী ২৪ মার্চ কেন্দ্র সচিবদের সভায় নির্দেশনা দেয়া হবে। কেন্দ্র সচিবরা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করলে তা সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে ৯৯ হাজার ৬৫১ জন পরীক্ষার্থী
আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের ২৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৯৯ হাজার ৬৫১ জন পরীক্ষায় অংশ নেবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৯৭ হাজার ৬৮৪ জন। বোর্ডের আওতাধীন ১০৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেবে। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত ৭১ হাজার ৯৩ জন, অনিয়মিত ২৫ হাজার ৯৭৬ জন, মান উন্নয়ন ২ হাজার ৩৮২ জন ও প্রাইভেট পরীক্ষার্থী ২০০ জন। এরমধ্যে ৪৯ হাজার ৩৬৫ জন ছাত্র এবং ৫০ হাজার ২৮৬ জন ছাত্রী। পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২২ হাজার ৭৬২ জন, মানবিক বিভাগ থেকে ৩৭ হাজার ৮৮১ জন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ৩৮ হাজার ৯৯৪ এবং গার্হস’্য অর্থনীতি থেকে ১৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
এদিকে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ৫০টি ভিজিল্যান্স টিম রয়েছে। এরমধ্যে ৪০টি সাধারণ ও ১০টি বিশেষ টিম।