গ্রামীণফোনের অনুষ্ঠানে আলোচকরা

প্রযুক্তির সাথে পাল্লা দিতে না পারলে পিছিয়ে পড়তে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সময়ের সাথে পরিবর্তন প্রকৃতিরই দাবি। যোগাযোগ প্রযুক্তির বদৌলতে এ পরিবর্তন এখন অত্যধিক গতিশীল। কেউ যদি সেই পরিবর্তনের গতির সাথে তাল মেলাতে না পারে, তাহলে সে অপরাপর পৃথিবী থেকে যোজন-যোজন পিছিয়ে পড়বে। এজন্য যোগাযোগ প্রযুক্তিকে ইতিবাচক মানসিকতায় গ্রহণ করতে হবে।
গতকাল বিকেলে হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউতে গ্রামীণফোনের আয়োজনে ‘ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট : রোড টু এমপাওয়ারমেন্ট’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় বক্তারা তথ্য-প্রযুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
বক্তারা বলেন, নতুন প্রজন্ম-পুরনো প্রজন্ম নির্বিশেষে সবাইকে তথ্যপ্রযুক্তির নব-নব উদ্ভাবনের সাথে সঙ্গতি রাখতে হবে। একজন সচেতন অভিভাবকের উচিত, পুরনো ধ্যানধারণা থেকে বের হয়ে তথ্যপ্রযুক্তিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা এবং তাদের সন্তানদের ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে নিজেকেও যুক্ত রাখা।
দৈনিক আজাদীর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ওয়াহেদ মালেকের সঞ্চালনায় উক্ত প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বিএসআরএম-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমির আলীহোসেন, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ সভাপতি মাহবুবুল আলম, কেডিএস স্টিল পরিচালক মূনির এইচ খান, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ইলেকট্রনিক্স এন্ড টেলিকম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মূহাম্মাদ আহসান উল্লাহ, গ্রামীণফোনের ডেপুটি সিইও ইয়াসির আজমান এবং টেলিনর হেলথ-এর সিইও সাজিদ রহমান।
আলোচনাকালে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী। দেশের অর্থনীতিতে ৪০ শতাংশ শিল্পোৎপাদন আসে চট্টগ্রাম থেকে, ৮০ শতাংশ বৈদেশিক বাণিজ্য চট্টগ্রামকেন্দ্রিক এবং সরকারের ৫০ শতাংশ রাজস্বের যোগান আসে এই চট্টগ্রাম থেকেই। এতদসত্ত্বেও চট্টগ্রামকে ডিজিটালাইজেশনে সংশ্লিষ্ট সবার মনোযোগের যথেষ্ট অভাব আছে। এই অঞ্চলের অন্যান্য বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক কেন্দ্রগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এই শহরের আরো উন্নয়ন দরকার। এক্ষেত্রে গ্রামীণফোন বড় ভূমিকা রেখে এগিয়ে আসতে পারে।
আলোচনায় চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম শহর দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হলেও এখানে কোনো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির হেডকোয়ার্টার নেই। সব বড় কোম্পানির হেডকোয়ার্টার ঢাকাকেন্দ্রিক। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে আমরা এখনও পিছিয়ে আছি। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়িয়ে গতি আনার ক্ষেত্রে এর আগাগোড়া ডিজিটালাইজেশনের কোনো বিকল্প নেই।
আমির আলিহোসেন বলেন, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং উৎপাদনশীল শিল্পকে অবশ্যই ডিজিটালাইজেশন মেনে নিতে হবে। অন্যথায় আমরা এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে পিছিয়ে পড়বো।
মুনির এইচ খান বলেন, প্রযুক্তি আমাদের হাতে বিস্তর সমাধান তুলে দিয়েছে। যদি এগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, তাহলে ব্যবসার চেহারা বদলে যাবে।
অধ্যাপক ড. মূহাম্মাদ আহসান উল্লাহ বলেন, সফল ডিজিটালাইজেশনের জন্য তথ্যের নিরাপত্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে সেবাপ্রদানকারীদের জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে, অন্যদিকে ব্যবহারকারীদের ও তাদের ব্যবহৃত সেবা সম্পর্কে অধিকতর সচেতন হতে হবে।
সাজিদ রহমান বলেন, ডিজিটাল সেবার সুবিধা পেতে গ্রাহকদের আচরণগত পরিবর্তন আনতে হবে। কারণ তারা তাদের সমস্যার জন্য ভার্চুয়াল সমাধান মেনে নিচ্ছেন।
ইয়াসির আজমান বলেন, গ্রামীণফোন ডিজিটাল পরিবর্তনকে ঘরেবাইরে বাস্তবায়ন করছে। একদিকে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সেবা ও প্রক্রিয়া ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে করা হচ্ছে, অন্যদিকে গ্রাহকের সাথে যোগযোগ, বিক্রয় ও বিতরণ ব্যবস্থার পরিবর্তন আনা হচ্ছে। যাতে সবকিছু ডিজিটালভাবে করা যায়।
এর আগে গ্রামীণফোন হেড অব কমিউনিকেশনস নেহাল আহমেদের বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর গ্রামীণফোনের ডেপুটি সিইও ইয়াসির আজমান এবং টেলিনর হেলথ-এর সিইও সাজিদ রহমান যথাক্রমে টেলিযোগাযোগখাতে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্য, তথ্য ও সেবা নিয়ে দুটি মূল আলোচনাপত্র উপস্থাপন করেন।