বিঘ্নিত হচ্ছে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম

প্রধান শিক্ষক নেই ফটিকছড়ির সরকারি ৮১ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

মো. আবু মনসুর, ফটিকছড়ি

ফটিকছড়িতে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৮১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যাহতের পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডেও নানা সমস্যা হচ্ছে। অতিরিক্ত ক্লাস নিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের। মানসম্মত শিক্ষাব্যবস’া নিশ্চিত করতে শূন্যপদগুলো দ্রুত পূরণ করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৭ ইউনিয়ন, ২টি পৌরসভায় ২শ২৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮১ টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। কোন বিদ্যালয়ে ৪-৫ বছর, কোন কোন বিদ্যালয়ে ৫-৭ বছর ধরে প্রধান শিক্ষক না থাকার কারণে উক্ত বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ৮১ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকলেও তারমধ্যে ১৮ বিদ্যালয়ে মামলা জটিলতার কারণে শূণ্যপদে প্রধানশিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছেনা বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে উক্ত স্কুলগুলোতে প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকরা পাঠদান দিয়ে থাকলেও দপ্তরিক কাজ পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। উত্তর ফটিকছড়ির একাধিক শিক্ষকের সাথে কথা জানা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রমের দশা একেবারেই বেহাল। ফটিকছড়ির ভুজপুর থানার স্কুলগুলোতে মাত্র দুই থেকে তিনজন শিক্ষক দিয়ে কোনরকমে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। দূর্গম হওয়ায় ওই ইউনিয়নগুলোতে অবসি’ত স্কুলে যোগদান করতে চায় না কোন শিক্ষক। আবার যোগদান করলেও কিছুদিন পরে শিক্ষা অফিসে তদবির করে বদলি হয়ে যায়। কেউ কেউ আবার খুঁজেন ডেপুটেশনে অন্যত্র যাওয়ার পথ। এমন সংকটে খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চালানো হয় বলে জানা যায়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিমেল কদর বলেন, উপজেলার ৮১ টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদের তালিকা করে উধ্বর্তন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। ২০১৩ সালের ২৬ হাজার স্কুল জাতীয়করণ করা হয় তখন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব থাকার কিছু প্রধান শিক্ষককের যোগ্যতা থাকায় তাঁরা প্রধান শিক্ষকের স্কেল পেয়েছে। অনেকের যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে তাদের মধ্যে থেকে ১৮ জন রিট মামলা করে। মামলা জটিলতার আইনগতভাবে ১৮ টি বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছেনা, অবশিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ বা প্রমোশন হতে পারে হবে বলে জানায়।