তালসরা দরবারের টাকা লুটের মামলা

প্রধান আসামির আবেদনে সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

দিন ধার্য থাকলেও গতকাল সোমবার আলোচিত আনোয়ারার তালসরা দরবারের টাকা লুটের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। মামলার প্রধান আসামি উচ্চ আদালতে আবেদনে করার কথা জানালে গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নূর এ আলম সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২ নভেম্বর নতুন দিন ধার্য করেন। মামলার প্রধান আসামি র‌্যাব-৭ এর তৎকালীন অধিনায়ক (চাকরিচ্যুত) জুলফিকার আলী মজুমদার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে গত ১৫ অক্টোবর উচ্চ আদালতে আবেদন করেন।
বাদি পক্ষের আইনজীবী সাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, সাক্ষ্য দিতে মামলার বাদি তালসরা দরবারের পীরের গাড়ি চালক মো. ইদ্রিস গতকাল সোমবার আদালতে হাজির ছিলেন। কিন্তু প্রধান আসামি মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে হাইকোর্টে একটি আবেদন করার কথা আদালতকে জানান। পাশাপাশি তিনি ওই আবেদনের সার্টিফাইড কপি দাখিল করলে বিচারক সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে আগামী ২ নভেম্বর নতুন দিন ধার্য করেন।
এর আগে অভিযোগ গঠনের দিন আসামিরা মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। ওই আবেদন আদালত নামঞ্জুর করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। ওই আদেশ বাতিল চেয়ে গত ১৫ অক্টোবর উচ্চ আদালতে আবেদন করেছেন প্রধান আসামি। তবে ওই আবেদনে এখনও কোনো আদেশ দেয়নি হাইকোর্ট।
সূত্রটি জানায়, মামলাটি বাতিল চেয়ে ২০১২ সালে প্রধান আসামি জুলফিকারের করা আবেদনটি ২০১৫ সালের ১১ মার্চ বাতিল করে দিয়েছিল হাইকোর্ট। গত ১২ সেপ্টেম্বর এ মামলায় সাবেক চার র‌্যাব সদস্যসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
তালসরা দরবারে ২ কোটি ৭ হাজার টাকা লুটের মামলার আসামিরা হলেন র‌্যাব-৭ এর তৎকালীন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (চাকরিচ্যুত) জুলফিকার আলী মজুমদার, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট (বাধ্যতামূলক ছুটিতে) শেখ মাহমুদুল হাসান, র‌্যাব-৭ এর সাবেক ডিএডি আবুল বাশার, এসআই তরুণ কুমার বসু, র‌্যাবের তিন সোর্স দিদারুল আলম ওরফে দিদার, আনোয়ার মিয়া ও মানব বড়ুয়া। এ মামলার সাত আসামিই জামিনে আছেন।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ৪ নভেম্বর আনোয়ারা উপজেলার তালসরা দরবার শরীফে টাকা লুটের এ ঘটনা ঘটে। র‌্যাব সদস্যরা অভিযানের নামে ওই দরবারে গিয়ে দুই কোটি সাত হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ আনে দরবার কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় ২০১২ সালের ১৩ মার্চ দরবারের পীরের গাড়ি চালক মো. ইদ্রিস বাদি হয়ে আনোয়ারা থানায় র‌্যাবের ১২ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
তালসরা দরবার শরীফে পরিচালিত ওই অভিযানে মিয়ানমারের পাঁচ নাগরিককে আটক করা হয়। বিচারের জন্য তাদের হস্তান্তর করা হয় আনোয়ারা থানায়। কিন্তু সেখান থেকে টাকা সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে উল্লেখ করেনি র‌্যাব। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে র‌্যাব সদর দফতর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যাওয়ার পর লে. কর্নেল জুলফিকার ও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মাহমুদুল হাসানকে সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়।
২০১২ সালের মে মাসে ঢাকার মগবাজার থেকে গ্রেফতার হন জুলফিকার আলী। একই বছর ২১ জুন উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে মুক্তি পান তিনি। মামলার অন্যতম আসামি মাহমুদুল হাসানের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত করতে চট্টগ্রামে এসে ২০১২ সালে ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু হয় বিমান বাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার মামুনুর রশীদের। নগরের একটি হোটেল থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।