প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চট্টগ্রাম সফর

বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো গতি পাক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম মহানগরীতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২টি অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে আজ বিকেলে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় ভাষণ দেবেন। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ায় জাতিসংঘের স্বীকৃতির পরপরই চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ও জনসভায় ভাষণদান সবিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বিশেষ করে দেশের অর্থনীতি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন প্রকল্পগুলো গতি পাবে বলে চট্টগ্রামবাসী আশা করছে।
প্রধানমন্ত্রী পটিয়া থেকে চট্টগ্রামের উন্নয়নে গৃহীত ৪১টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স’াপন করবেন। এগুলির অধিকাংশই যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত; শিক্ষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নেও বেশ কিছু প্রকল্প এর মধ্যে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে গৃহীত মেগা প্রকল্প, লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণ, কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু হতে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক ও চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রভৃতি উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স’াপন করবেন। গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ চট্টগ্রাম জেলার আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ কর্ণফুলী নদীর ওপর রেল ও সড়ক সেতু নির্মাণ, কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ে বন্দর সম্প্রসারণ, দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাথে কক্সবাজার আরাকান সেতু ৪ লেইনকরণ, দক্ষিণ চট্টগ্রামে একটি বিভাগীয় মানের স্টেডিয়াম নির্মাণের দাবি জানান প্রধানমন্ত্রীর কাছে।
সম্প্রতি সিঙ্গাপুর ভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘দ্য স্টাটিসটিকস ইন্টারন্যাশনাল’ দক্ষ নেতৃত্ব, মানবিকতা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও রাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকার কারণে শেখ হাসিনাকে বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা প্রধানমন্ত্রীর স্বীকৃতি দিয়েছে। স্বাধীনতার মাসে এই স্বীকৃতি জাতির জন্য গৌরব বয়ে আনল।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের ফলে চট্টগ্রাম ও বৃহত্তর চট্টগ্রাম কক্সবাজার অঞ্চলে চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে গতিসঞ্চার হবে বলে আমরা আশা করি। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন বে-টার্মিনাল এবং কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি খুবই মন’র। মহেশখালীতে আগামী এপ্রিলের শেষে এলএনজি টার্মিনাল প্রকল্পের উদ্বোধন হবার কথা, এর ফলে দেশে গ্যাস সরবরাহ পরিসি’তির উন্নতি ঘটবে। মিরেরসরাই ও সাবরাং অর্থনৈতিক জোনের অগ্রগতি দেশের অর্থনীতিকে অনেক দূর এগিয়ে নেবে। পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে দোহাজারী-কক্সবাজার-গুমধুম রেলপথ নির্মাণ কাজ দ্রুততর করা বাঞ্ছনীয়। চট্টগ্রাম-দোহাজারী, চট্টগ্রাম-নাজিরহাট ও চট্টগ্রাম-মিরেরসরাই রেলপথে ডেমু ট্রেন বাড়ানো হলে চট্টগ্রাম মহানগরের ওপর অভিবাসন চাপ কমবে। এছাড়া চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ যোগাযোগ বিবেচনায় নগরীর অভ্যন্তরে সার্কুলার ট্রেন চালু করার বিষয় চিন্তা করা যেতে পারে। মোট কথা, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলাগুলি নিয়ে রেল, সড়ক ও নৌ যোগাযোগ সম্প্রসারণ আমাদের পর্যটন ও সার্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তাছাড়া এসব অঞ্চলে যোগাযোগ অবকাঠামো সমৃদ্ধ হলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্যের পরিধিও বাড়বে।
উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে জাতিসংঘ আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে সামাজিক অগ্রগতি, শান্তি ও সি’তিশীল পরিবেশ গড়ে তুলতে আমাদের সচেষ্ট হতে হবে। একটি সমৃদ্ধ ও উন্নতিশীল দেশ প্রতিষ্ঠায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধে জীবনদানকারী শহীদদের স্বপ্নকে আলোকবর্তিকা ধরে জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে।