প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ চার সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন চান চট্টগ্রামের নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের পরিকল্পনায় থাকা কালুরঘাট রেল ও সড়ক সেতু দ্রুত হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। তিনি বলেন, ‘না চাইতেই প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে অনেক কিছু দিয়েছেন। কর্ণফুলী টানেল, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, মেরিন ড্রাইভ, কক্সবাজার-ঘুমধুম রেললাইন ও বাইপাস সড়ক হচ্ছে। কর্ণফুলী সেতু থেকে ফোর লেইনের কাজ হচ্ছে। বাঁশখালী দিয়ে কক্সবাজারের বিকল্প সড়ক হবে। উপজেলা পর্যায়ে স্টেডিয়ামে হবে। দাবির মধ্যে একটাই- কালুরঘাট রেল ও সড়ক সেতু। আশা করি, এটা দ্রুত হয়ে যাবে।’
গতকাল সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে কালুরঘাট রেল ও সড়ক সেতুসহ চারটি সরকারি সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন চট্টগ্রামের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীতে কালুরঘাট রেল ও সড়ক সেতু নির্মাণের সরকারি সিদ্ধান্ত, কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে বন্দর সম্প্রসারণ, দক্ষিণ চট্টগ্রামে একটি বিভাগীয় মানের স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাথে কক্সবাজার আরাকান সড়ক চার লেইন করার সরকারি ঘোষণা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর প্রত্যাশা থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম বলেন, ‘রাজনীতির উর্বর ভূমি চট্টগ্রাম। ১৭ বছর পর পটিয়ায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী। ২০০৯ সালে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু থাকাবস’ায় এসেছিলেন কর্ণফুলীতে। তিনি অনেক প্রকল্পের ভিত্তি স’াপন ও উদ্বোধন করবেন। পটিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সামান্য জনদুর্ভোগ হতে পারে। জনসাধারণকে সামান্য দুর্ভোগ মানসিকভাবে মেনে নিতে হবে। তারপরও আমাদের দিক থেকে, দল, সরকার ও প্রশাসনের দিক থেকে চেষ্টা করব জনদুর্ভোগ যাতে কম হয়। জনসভায় প্রবেশের ক্ষেত্রে ও মানুষ যাতায়াতের ক্ষেত্রে যাতে প্রতিবন্ধকতা না হয় সেদিকে আমাদের লক্ষ থাকবে।
পটিয়ার সংসদ সদস্য শামসুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ২০০১ সালে এ মাঠে সমাবেশ করেছেন। জনসাধারণের আসা-যাওয়ার জন্য এ মাঠে চারটি গেইট আছে।’
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘মহানগরে যারা থাকেন তারাও উত্তর ও দক্ষিণের। জনসভা উপলক্ষে আমরা মাইকিং, পোস্টারিং, বিজ্ঞাপন ও বর্ধিত সভা করেছি। সমাবেশ সফল করতে আগামীকাল মঙ্গলবার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় বিশেষ করে ৪১ ওয়ার্ড ও তিনটি সাংগঠনিক ওয়ার্ডে জনসভা সফল করতে মিছিল করব।’
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ সালাম বলেন, ‘উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বুধবার দুপুর বারোটার মধ্যে মাঠে উপসি’ত থাকার জন্য বলা হয়েছে। অপ্রীতিকার ঘটনা এড়াতে দুই শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হবে।’
উল্লেখ্য, প্রায় ১৭ বছর পর চট্টগ্রামের পটিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। কাল বুধবার দুপুর দুইটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিশাল জনসভায় গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন।