প্রধানমন্ত্রীর আগমন পতেঙ্গায় সাগরপাড়ে হবে সুধী সমাবেশ

ভূঁইয়া নজরম্নল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় আসছেন উপমহাদেশের প্রথম টানেল নির্মাণ প্রকল্পের বোরিং কার্যক্রম উদ্বোধন করতে। একইসাথে তিনি লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যনত্ম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলারের পাইলিংয়ের কাজও উদ্বোধন করবেন। আর দুই প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে প্রায় দেড় হাজার মানুষের উপসি’তিতে হবে সুধী সমাবেশ। একইসময় সমাবেশের পাশে আউটার রিংরোডের উপর লড়্গাধিক লোক সমাগমেরও প্রস’তি চলছে। গতকাল বিকেলে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ৭২ ফুট দীর্ঘ্য নৌকার আদলে নির্মিত হয়েছে সুধী সমাবেশের মঞ্চ। মূল স্টেজের দৈর্ঘ্য ৪৮ ফুট ও চওড়া ২৮ ফুট।
জানা গেছে, সুধী সমাবেশের ঁ ২য় পৃষ্ঠার ১ম কলাম
আয়োজক টানেল নির্মাণ কর্তৃপড়্গ। প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী হারম্ননুর রশিদ চৌধুরী বলেন, ‘সুধী সমাবেশে দেড় হাজার লোকের বসার আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী রোববার টানেলের বোরিং কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে সুধীজনদের উপসি’তিতে সমাবেশ হবে। রাজনীতিবিদ, শিড়্গাবিদ, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন সেক্টরের প্রধানগণ এই সমাবেশে উপসি’ত থাকবেন। জেলা প্রশাসন তাদের তালিকা তৈরি করে চিঠি প্রেরণ করছেন।’
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের তালিকায় কী কী প্রকল্প রয়েছে তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না। গতকাল এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবার আগে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের বোরিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এরপর একই এলাকায় সিডিএ’র এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করবেন। আর দুই প্রকল্পের উদ্বোধনের পর সাগড়পাড়ে সুধী সমাবেশে বক্তৃতা দেবেন।’
সরেজমিনে দেখা যায়, সুধী সমাবেশের পাশে আউটার রিং রোডের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত থেকে খেজুরতলা পর্যনত্ম প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় জনসমাগমের প্রস’তির কার্যক্রম চলছে। এই এলাকার রাসত্মার উপর মাটি সমানের কাজ চলছে। সমাবেশে প্রবেশের জন্য মুসলিমাবাদ ও র্যাব-৭ অফিসের পাশ দিয়ে খেজুরতলা অংশে রিং রোডে উঠার সুযোগ রাখা হয়েছে। এজন্য দীর্ঘ এলাকায় সাউন্ড সিস্টেম এবং প্রজেক্টেরও বসানো হবে। তবে সাধারণ এসব মানুষ সুধী সমাবেশের প্যান্ডেলের নিচে আসতে পারবে না। শুধুমাত্র আমন্ত্রিত অতিথিরাই সমাবেশ স’লে উপসি’ত হতে পারবেন।
এদিকে টানেল নির্মাণ কার্যক্রম উদ্বোধনের স্পটে গিয়ে দেখা যায়, টানেল বোরিং মেশিনটি ইতিমধ্যে মাটির নিচে স’াপন করা হয়েছে। কম্পিউটারের বাটন অনের মাধ্যমে এর বোরিং কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে একটি গেইটও নির্মাণ করেছে টানেল কর্তৃপড়্গ।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বোরিং কার্যক্রমের উদ্বোধন কোথায় হবে জানতে চাইলে প্রকল্পের পরিচালক ও সিডিএ’র নির্বাহি প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘টানেল গেটের কাছে আমাদের একটি বোরিং পয়েন্ট রয়েছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী এলিভেটেড প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করবেন।’
উলেস্নখ্য, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ৯ হাজার ৮৮০ কোটি টাকায় নির্মিত হতে যাচ্ছে এই টানেল। নদীর তলদেশের সর্বনিম্ন ৩৬ ফুট (১২ মিটার) থেকে সর্বোচ্চ ১০৮ ফুট (৩৬ মিটার) গভীরে স’াপন করা হবে দুটি টিউব। একেকটি টিউবের চওড়া হবে ১০ দশমিক ৮ মিটার (৩৫ দশমিক ৪৩ ফুট) এবং উচ্চতা হবে ৪ দশমিক ৮ মিটার। আর এই দুই টিউবে যুক্ত হবে নদীর দুই তীর। ৩ হাজার ৫ মিটার দীর্ঘ টানেলটি নেভাল একাডেমি পয়েন্ট থেকে শুরম্ন হয়ে নদীর অপর পাড়ে কাফকো ও সিইউএফএল পয়েন্টের মাঝখান দিয়ে বের হবে। অপরদিকে লালখান বাজার থেকে বিমান বন্দর পর্যনত্ম চার লেনের ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার প্রকল্পটি ২০১৭ সালের ১১ জুলাই একনেকে অনুমোদন পায়। গত বছর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স র্যানকিন জেবি ২ হাজার ৮ ৫৪ কোটি ৫৬ লাখ ১২ হাজার ১১৩ টাকায় প্রকল্পটি বাসত্মবায়ন করছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের সয়েল টেস্টের কাজ শেষ এখন পাইলিংয়ের কাজ শুরম্ন করার কথা।