প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় পটিয়া

সালাহ উদ্দিন সায়েম, পটিয়া থেকে ফিরে

নগরীর কর্ণফুলী সেতু চত্বর থেকে ২৭ কিলোমিটার পথ বেয়ে পটিয়া পৌরসভায় প্রবেশ করতেই চোখে পড়লো শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত রঙ-বেরঙের চোখ ধাঁধানো ব্যানার আর মোড়ে মোড়ে তোরণ। ভাঙাচোরা সড়কে চলছে সংস্কার কাজ, রাস্তার দুই পাশের গাছপালাগুলো সেজেছে রঙিন সাজে। অলি-গলিতে চলছে জনসভার মাইকিং। রাস্তার পাশে লাগানো মাইকে ভেসে আসছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ।
বাস স্টেশনে নেমে দেখা গেল, যেন উৎসবের আমেজ। রাস্তায় উৎসুক জনতার ভিড়। সবার চোখ পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। যেখানে নির্মাণ করা হচ্ছে বিশালাকারের জনসভার মঞ্চ।
এসব আয়োজন জানান দিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে প্রস’ত পটিয়া।
আগামীকাল বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটায় ঐতিহ্যবাহী পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাজির হবেন শেখ হাসিনা। যে মাঠে তিনি ২০০১ সালে এসেছিলেন নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা করতে। অবশ্য তখন তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। দীর্ঘ ১৭ বছর পর এবার তিনি আসছেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। অবশ্য এটাও নির্বাচনী জনসভা। স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে এ মাঠে এসে জনসভা করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী কাল চট্টগ্রাম আসবেন সকালে। পতেঙ্গা নেভাল একাডেমি ও ঈশা খাঁ ঘাঁটিতে নৌবাহিনীর দুটি অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেবেন। এরপর সেখান থেকে তিনি সরাসরি হেলিকপ্টারে করে যাবেন পটিয়ায়। হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য জনসভাস’ল থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে খরণার জলুয়ারদীঘি পাড় এলাকায় বিলের মাঝখানে নির্মাণ করা হয়েছে দুটি হেলিপ্যাড। স’ানীয় সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী হেলিপ্যাড দুটি নিজ উদ্যোগে নির্মাণ করেছেন বলে সুপ্রভাতকে জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর জনসভার মঞ্চ হচ্ছে নজরকাড়া। নৌকার আদলে নির্মাণ করা হচ্ছে দুই হাজার চারশত বর্গফুট আয়তনের নান্দনিক এই মঞ্চ। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একজন নেতা জানিয়েছেন, এ মঞ্চ নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১২ লাখ টাকা।
জানা গেছে, এ মঞ্চে সর্বোচ্চ দুইশ জন নেতা অবস’ান নিতে পারবেন। এরমধ্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার কার্যনির্বাহী কমিটির ৭০ জন নেতা ঠাঁই নিতে পারবেন মঞ্চে। কিন’ মহানগর ও উত্তর জেলার জন্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে ২০ জন করে ৪০ জন নেতার সংখ্যা।
আওয়ামী লীগ নেতারা দাবি করেছেন, মাঠটি দুই লাখ বর্গফুট আয়তনের। যেখানে প্রায় দেড় লাখ লোকের ধারণক্ষমতা হবে বলে তারা মনে করছেন। এছাড়া মাঠের বাইরে আশেপাশের ৫ কিলোমিটার এলাকার বিভিন্ন সড়কে আরও দেড় লাখ লোক অবস’ান নেবেন বলে ধারণা করছেন তারা। সবমিলিয়ে জনসভায় তিন লাখ লোকের সমাগম হবে বলে আশা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের।
জানা গেছে, স্কুল মাঠের বাইরে ৫ কিলোমিটার জুড়ে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে প্রজেক্টরের ব্যবস’া থাকবে। এসব প্রজেক্টরের মাধ্যমে জনসভার দৃশ্য দেখতে পারবে জনসাধারণ। এছাড়া মাঠের বাইরে বিভিন্ন সড়কে দুই কিলোমিটার জুড়ে ঢাকা থেকে নিয়ে আসা ‘কল রেডি’র ১১০টি মাইক থাকবে।
সড়কে আওয়ামী লীগের নেতারা রঙ-বেরঙের ব্যানার টাঙালেও জনসভার মাঠে কারও কোনো ব্যানার চোখে পড়লো না। জানা গেছে, এসএসএফের নির্দেশের কারণে জনসভার মাঠে কোনো নেতার কোনো ব্যানার উঠেনি।
প্রধানমন্ত্রীর এ জনসভাকে ঘিরে আওয়ামী লীগ নেতাদের দম ফেলার যেন ফুরসত নেই। দফায় দফায় ঘরোয়া বৈঠক করছেন তারা। গত এক সপ্তাহ ধরে কর্মীদের নিয়ে সভাও করেছেন তারা। যার অন্যতম কারণ হলো জনসভায় কর্মীদের কারণে যাতে কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।
পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগে নেতাদের একাধিক ধারা-উপধারা রয়েছে। এসব ধারা-উপধারায় প্রভাব যেন জনসভায় না পড়ে সেজন্য এককাতারে চলে এসেছেন জেলা আওয়ামী লীগের বিবাদমান নেতারা।
গতকাল দুপুরে জনসভার মাঠ ও মঞ্চ নির্মাণের কার্যক্রম তদারকি করতে এসেছিলেন পটিয়ার সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী। এ প্রতিবেদক তাঁর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দুই হাতের দুটি আঙ্গুলকে একত্রিত করে জানালেন, ‘আমাদের মধ্যে ধারা-উপধারা আছে বটে কিন’ আমরা মতো মুহূর্তে একত্রিত হতে পারি। জনসভায় এর কোনো প্রভাব আপনারা দেখবেন না।’
ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ জনসভাস’ল পরিদর্শন করেন।
জনসভা ঘিরে মাঠে ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তার মহড়া দিচ্ছিলো প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ‘এসএসএফ’র সদস্যরা। সভার মঞ্চের আশপাশে লাগানো হয়েছে একাধিক সিসি ক্যামেরা।
জনসভার সার্বিক প্রস’তি প্রায় সম্পন্ন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে জনসভা সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদী দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান।
জনসভার দুই দিন আগ থেকেই পটিয়ায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। নির্বাচনের বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণ চট্টগ্রামের গ্রামীণ জনপদে এসে কী ঘোষণা দেবেন- সেই প্রতীক্ষায় আছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে পটিয়ার সাধারণ মানুষ।
গতকাল দুপুরে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভার প্রস’তি দেখতে এসেছিলেন স’ানীয় বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব জামাল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তো চট্টগ্রামের দায়িত্ব নিয়েছেন বলেছিলেন। ইতোমধ্যে এ সরকার চট্টগ্রামে অনেক কাজ করেছে। কিন’ আরও অনেক কিছু দরকার চট্টগ্রামে। দেখি, প্রধানমন্ত্রী কী বলে যান।’