জিপিএইচ ইস্পাত প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ

প্রথম জয়ের স্বাদ পেলো বন্দর

নিজস্ব ক্রীড়া প্রতিবেদক

জিপিএইচ ইস্পাত চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে অবশেষে জয়ের স্বাদ পেয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর ক্রীড়া সমিতি। টানা তিন খেলায় পরাজয়ের পর গতকাল ৪র্থ খেলায় তারা শতদল ক্লাবকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করতে সক্ষম হয়। তাদের পক্ষে ময়না, অধিনায়ক পাভেল, অন’ ও কিংসলে ১টি করে গোল করেন। শতদলের একমাত্র গোলটি করেন বদলি মন্টু। এ পর্যন্ত ৪ খেলা শেষে বন্দরের ৩ পয়েন্ট হলেও শতদল কোন পয়েন্ট পায়নি।
দু’দলেই এবারে টানা তিন খেলায় পরাজিত হয়। লিগে টিকে থাকার জন্য উভয়ের জয় ছাড়া বিকল্প ছিল না। তাই শুরু থেকে পরিকল্পনা করে আক্রমণে নিজেদের ব্যস্ত রাখে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। গোলের সুযোগ পেয়েও কেউ বল জালে পাঠাতে পারেনি। কিন’ দ্বিতীয়ার্ধের ১৪ মিনিটের মধ্যে দুই গোল পেয়ে স্বস্তিতে থাকে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। ৫৩ মিনিটে বন্দরের গোলের সূচনা করেন ময়না। ডানপ্রান্ত থেকে সতীর্থের সেন্টার গোলমুখে পেয়ে ময়না সহজেই জালে পৌঁছে দেন (১-০)। দুই মিনিট পর ক্রিস্টোফার বক্সে ঢুকে শট নিতে দেরি করায় সমতা আনা হয়নি শতদলের। ৫৯ মিনিটে ডানপ্রান্তের সেন্টার গোলমুখে ফাঁকায় পেয়ে পাভেল টোকা দিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন। গোল করার আগে পাভেলের হাতে বল লাগে বলে দাবি করে শতদলের খেলোয়াড়রা রেফারিকে ঘিরে প্রতিবাদ জানান। এক পর্যায়ে কিপার শামীম ফকির রেফারিকে দু’দফা ধাক্কা দিলে হলুদ কার্ড দিয়ে সর্তক করা হয়। ৭৪ মিনিটে ময়না কিপারকে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হলে দুই মিনিট পর বদলি অন’ জালের ঠিকানা খুঁজে পেলে বন্দর তৃতীয় গোলের দেখা পায় (৩-০)। ৭৮ মিনিটে পেনাল্টি পেয়েও শতদলের বিদেশি জুয়েল বাইরে শট করেন। ৮০ মিনিটে বামপ্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে ২ জন ডিফেন্ডার ও পরে কিপারকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠিয়ে শতদলের কফিনে শেষ পেরেক ঠুঁকে দেন (৪-০)। শেষ দিকে শতদলের মন্টু গোল করলে ব্যবধান ৪-১ হয়।
এর আগে খেলার ২৫ মিনিটে বক্সের ডানপ্রান্তে ফাঁকায় থেকে শতদলের জুয়েলের শট সাইডবারের নিচে লেগে প্রতিহত হয়। দুই মিনিট পর পাভেলের সেন্টারে হাবিবের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে বন্দরের লিড নেয়া হয়নি। আরেকবার পাভেলের বিপজ্জনক শট কিপার কর্নার করে প্রতিহত করেন। মাচ সেরা বন্দরের ময়নার হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন সিজেকেএস নির্বাহী সদস্য দিদারুল আলম চৌধুরী।
দু’দলে যারা খেলেছেন-
বন্দর ক্রীড়া সমিতি: আরমান, ইমতিয়াজ, মোক্তারুল, হাবিব মিয়া (রিংকু), পাভেল (অন’), পায়েল, পিটার, ময়না, কিংসলে, লিয়ন, স্টিফেন।
শতদল ক্লাব: শামীম ফকির, জাকারিয়া শেখ, রাজু, জান্নাত (মন্টু), ক্রিস্টোফার, সুমন, আবিদুর, সবুর, সামিউল, ব্রাইট, জুয়েল। রেফারি: শিমুল বড়-য়া।