প্রতিমা তৈরির কারখানায় ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

মো. নাছির উদ্দিন অনিক, সীতাকুণ্ড
sitakunda2-(1)

এক হাতে রঙের থালা অন্যহাতে তুলি, চোখে হাই পাওয়ারের সানগ্লাস। অতি যত্নে মা’র (প্রতিমা) চোখ ফুটানোতে ব্যস্ত সংগ্রাম পাল। কথা বলার সময় নেই সংগ্রাম পালের। আগামী দশ দিনের মধ্যে ডেলিভারি দিতে হবে ১৫টি দুর্গাপ্রতিমা। এটি সীতাকুণ্ডের বড় বাজারস্থ শ্রীকৃষ্ণ প্রতিমালয়ের মৃৎশিল্পী সংগ্রাম পালের অতিব্যস্ত জীবন সংগ্রামের চিত্র।
আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচাইতে বড় পূজা দুর্গাপূজা। তাই সীতাকুণ্ডের মৃৎশিল্পীরা আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রতিমা তৈরিতে অতি ব্যস্ত সময় পার করছে। সীতাকুণ্ডে ৩টি প্রতিমা তৈরির বড় কারখানা আছে। এগুলো হল বড় বাজারের শ্রীকৃষ্ণ প্রতিমালয়, কলেজ গেটের সামনে শনি ঠাকুর প্রতিমালয় ও আস্তান বাড়ি সংলগ্ন মা প্রতিমালয়।
বুধবার দুপুরে সরেজমিনে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন প্রতিমা তৈরির কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, কোনো কারখানায় প্রতিমার গায়ে মাটির শেষ প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে, কোনোটিতে প্রতিমার গায়ে রঙ লাগানো, কোনোটিতে মায়ের (প্রতিমা) চোখ ফুটানোর কাজ চলছে। প্রতিমা তৈরির কারখানাগুলোতে শিল্পীরা এখন শেষদিকের কাজ তথা রঙের কাজ নিয়েই বেশি ব্যস্ত।
সীতাকুণ্ড পূজা উদযাপন পরিষদ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক স্বপন বণিক ও নান্টু পালের সাথে আলাপ করে জানা যায়, সীতাকুণ্ডে এ বছর ৫৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন চলছে। যেখানে গত বছর ছিল ৫৮টি। এসব পূজামণ্ডপের আয়োজনকারীরা সীতাকুণ্ডের এই ৩ কারখানা থেকে প্রতিমা নিয়ে যায়। এখান থেকে বিভিন্ন জেলাতেও প্রতিমা নিয়ে যেতে দেখা যায়। আবার কোনো কোনো মণ্ডপে বাইরে থেকেও প্রতিমা আসে।
মা প্রতিমালয়ের স্বত্বাধিকারী মৃৎশিল্পী আদিত্য আচার্য্যর সাথে কথা বলে জানা যায়, দুর্গাপূজার ৩-৪ মাস আগ থেকে প্রতিমা তৈরির অর্ডার পাওয়া যায়। তিনি বলেন, অর্ডার পাওয়ার পর থেকে আমাদের ব্যস্ত সময় পার করতে হয়। এবছর ছোটবড় ২২টি প্রতিমার অর্ডার পাওয়া গেছে। আকার এবং সাজসজ্জার ওপর প্রতিমার দাম নির্ধারণ হয়ে থাকে। সর্বনিম্ন ৩০ হাজার হতে সর্বোচ্চ ১ লাখ ২০ হাজার টাকার প্রতিমা তৈরি করা হয়। প্রতিমা তৈরির অর্ডারগুলো সীতাকুণ্ডের বাইরের। এর মধ্যে রাঙামাটি, মাটিরাঙা, বান্দরবান থেকে অর্ডার বেশি আসে। অনেকে আবার মণ্ডপে গিয়ে প্রতিমা তৈরি করে থাকে বলে এক্ষেত্রে মণ্ডপে-মণ্ডপে গিয়ে কাজ করে দিয়ে আসতে হয়। বড়গুলোতে ১০ হতে ১৫ হাজার টাকা এবং ছোট প্রতিমাতে ৫ হতে ৭ হাজার টাকা লাভ থাকে। শ্রীকৃষ্ণ প্রতিমালয়ের কারিগর সংগ্রাম পাল বলেন, আমার পূর্ব পুরুষেরা এ কাজের সাথে জড়িত ছিল। সেই সূত্রে আমি ও আমার বড়ভাই শ্রীকৃষ্ণ পাল ৪০ বছর আগে শরিয়তপুর থেকে এখানে আসি। প্রথমে ২-৪টি প্রতিমা তৈরি করে সরবরাহ করতাম। বর্তমানে চাহিদা বাড়ছে। এখন প্রতিবছর ৫ জন কারিগর দ্বারা ২৫-৩০টি দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে সরবরাহ দিয়ে থাকি। প্রতিমা তৈরির শেষদিকের কাজ সম্পর্কে মা প্রতিমালয়ের প্রধান কারিগর সুভাষ চক্রবর্তী জানান, এ সময় আমাদের অর্ডারকৃত প্রতিমা সরবরাহে খুবই ব্যস্ত থাকতে হয়। মায়ে’র (দুর্গা) চোখ ফুটানোই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং শ্রেষ্ঠ কাজ। এই কাজটি ঠিক মতো করতে পেরে খুবই ভাল লাগে। তাড়াহুড়ার কাজ ভাল হয় না। সময় নিয়ে কাজ করতে পারলে সুন্দর প্রতিমা তৈরী করা যায়।