প্রতিবন্ধিতাকে জয় করলো খালেদা

সুমন শাহ্, আনোয়ারা

প্রতিবন্ধিতাকে জয় করে স্বাবলম্বী ও চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ট জয়িতা হয়েছেন আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনয়িনের শিলাইখড়া গ্রামের সৈয়দবাড়ির আবু ছৈয়দের মেয়ে খালেদা বেগম (৩৫)। তিনি সংসারের অভাবমোচন করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স’াপন করেছেন। দুই বছর বয়সে যখন তিনি টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হলেন তখন থেকেই তাঁর দুদর্শার জীবন শুরু হয়। প্রবল জ্বরের পাশাপাশি স্বাস’্য সেবার অভাবে খালেদার কোমরের নিচ থেকে পা পর্যন্ত অবশ হয়ে যায়। মাত্র ১৩ বছর বয়সে খালেদার বিয়ে হওয়ার বছরখানিক পরে একটি সন্তান জন্ম দেন। জন্মের পাঁচ দিন পর সেই সন্তান মারা যায় এবং তাঁর স্বামী তাঁকে ছেড়ে চলে যায়। আনোয়ারায় প্রতিবন্ধিদের নিয়ে কাজ করা একটি বেসরকারি এনজিও সংস’ার মাধ্যমে পিএইচআরপিবিডি প্রকল্পের সদস্য হন। তখন থেকেই তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। খালেদা বেগম বলেন, আমি শুনতে পেলাম প্রতিবন্ধিদের নিয়ে কাজ করে এনজিও সংস’া সংশপ্তক। এটা আমার কাছে পুর্নজন্মের মতো। একসময় খালেদা গড়ে তুলেন সামাজিক সংগঠন ফুটন্ত গোলাপ। নিজের প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনের মাধ্যমে যোগদানের পর খালেদাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তাঁর উদ্যোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রচার প্রশিক্ষণের ব্যবস’া করেছে, যেখানে ৪০ জন প্রতিবন্ধী মানুষ অংশগ্রহন করেছে। খালেদা বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছেন। তার প্রতিবেশিদের মতে খালেদা নিজে বা ইউপি সদস্যদের সহায়তায় এ ধরনের অনেক সমস্যা সমাধান করেছেন।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংযুক্তকরণের ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর ২০১০ সালে খালেদা বেগমকে একটি শ্রেষ্ট প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসাবে সম্মাননা প্রদান করে। তাঁর উপার্জিত অর্থ তিনি এখন সন্তানের শিক্ষা নিশ্চিতের জন্য এবং পরিবারের খরচ মেটানোর ক্ষেত্রে ব্যয় করেন। এছাড়া ভবিষ্যতের জন্য কিছু টাকা সঞ্চয়ের সামর্থ্যও তাঁর রয়েছে। সমাজের কাছে তিনি এখন উদাহরন। ২০১৬ সালের ১ নভেম্বর চট্টগ্রামে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে তাকে ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়। ২০১৭ সালে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর তাঁর সন্ধান পান। তার সকল তথ্য সংগ্রহ করে তাকে উপজেলা পর্যায়ে অর্থনৈতিক ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ট জয়িতা নির্বাচন করেন। ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে তাকে ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়। তাঁর সকল তথ্য যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে খালেদা বেগমকে জেলা পর্যায়ে অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জনকারী হিসাবে শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত করে।বৈষম্য, কলঙ্ক ও বাল্য বিবাহের শিকার খালেদা এখন স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করছেন এবং অনেকেই তাঁর দৃষ্টান্ত দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছে।