আন্তর্জাতিক গার্মেনটেক শুরু

পোশাকশিল্পে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার তুলে ধরতে এ মেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিক্স, গার্মেন্ট এক্সেসরিজ বাণিজ্য মেলা গার্মেনটেক চিটাগং-২০১৭ এর উদ্বোধন করছেন অতিথিরা-সুপ্রভাত
আন্তর্জাতিক ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিক্স, গার্মেন্ট এক্সেসরিজ বাণিজ্য মেলা গার্মেনটেক চিটাগং-২০১৭ এর উদ্বোধন করছেন অতিথিরা-সুপ্রভাত

গার্মেন্টস শিল্পে ব্যবহৃত আধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি, প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ব্যবসায়ীদের সামনে তুলে ধরতে চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিক্স, গার্মেন্ট এক্সেসরিজ বাণিজ্য মেলা গার্মেনটেক চিটাগং-২০১৭।
গতকাল বুধবার নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ এবং ভারতের যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানি এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেডের উদ্যোগে এ মেলা উদ্বোধন করা হয়। তিন দিনব্যাপী মেলা উদ্বোধন করেন বিজিএমইএ সহ সভাপতি মঈনউদ্দিন আহম্মেদ মিন্টু। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজিএপিএমইএ’র সভাপতি মো. আব্দুল কাদের খান ও পরিচালক শাহেদ আহমেদ আজাদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সহসভাপতি মঈনউদ্দিন আহম্মেদ মিন্টু বলেন, বাংলাদেশ আজ এগিয়ে চলেছে। সবক্ষেত্রে উন্নয়নের বিস্ময়। গার্মেন্টস শিল্প ১২ হাজার মিলিয়ন ডলার রপ্তানি দিয়ে শুরু হয়েছিল। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে গার্মেন্টসসহ সব সেক্টরে ৬০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য রয়েছে। তিনি বলেন, মডার্ন টেকনোলজি ব্যবহার করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে হবে। এজন্য প্রতিবছর এ ধরনের মেলা করা প্রয়োজন।
বিশ্বে বাংলাদেশ নিট পোশাকে ১ম ও উইভেনে ৩য় স্থান অর্জন করেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পোশাক শিল্পের অবদান অনস্বীকার্য।
এ মেলায় চীন, ভারত, তাইওয়ান, কোরিয়াসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশ থেকে ৭০টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে।
এ মেলা নিট ও উইভেন গার্মেন্টসে পোশাক প্রস্তুতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যেসব যন্ত্র ও উপকরণ লাগে তা প্রদর্শনী ও বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তাই মেলা প্রাঙ্গণ জুড়ে দেখা যায় দেশের নানা শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের। কেউ কেউ ঘুরে ঘুরে দেখছেন, আবার কেউ কেউ পণ্য ক্রয়ের ফরমায়েশ পত্র দিয়ে যন্ত্র ও উপকরণ বিপণন প্রতিষ্ঠানের সাথে সুসম্পর্ক ও বাণিজ্য করছে। সবার একমাত্র লক্ষ্য হলো পোশাক শিল্পে বাংলাদেশের অগ্রগতি ধরে রাখা।
চীনের গুয়াঙ্গসাই প্রতিষ্ঠানের প্রধান এঞ্জেলা চাই সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, আমরা বৈশ্বিক উন্নয়নের জন্য একসাথে সব জায়গায় কাজ করছি। আমরা চট্টগ্রামে আয়োজিত ‘গার্মেন্টেক চিটাগং-২০১৭’ মেলায় আমাদের লেজার কাটিং যন্ত্র এনেছি। বাংলাদেশে আমাদের কোন অফিস না থাকলেও প্রযুক্তির উন্নয়নে বিশ্ব বাণিজ্য অনেক সহজ হয়েছে। আমরাও এ সুবিধা নিচ্ছি। আমাদের এ লেজার যন্ত্রের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পছন্দমত নকশা অনুযায়ী কাপড় কাটা সমভব। এতে জনবলের প্রয়োজন কমে যাবে। ফলে প্রতিষ্ঠানের খরচ কমে আসবে।’
কোরিয়ান ইউনিয়ন টেক্সটাইলের বিপণন ব্যবস্থাপক রেড চার্ম সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন ধরনের কাপড় বিক্রয় করি। বিভিন্ন দেশের কাপড়ের মান একেক ধরনের। কেননা বিভিন্ন দেশের আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে আমরা কাপড় উৎপাদন করি। এ মেলায় আমরা সব ধরনের পোশাক এনেছি। কেননা এদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বায়ারের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক উৎপাদন করে রপ্তানি করতে হয়।’
চীনের হিকারি প্রতিষ্ঠানের বিপণন ব্যবস্থাপক গাররেট গাও সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমাদের যন্ত্রগুলো নিদের্শনা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে। ফলে দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে অল্প শ্রমিক দিয়ে পোশাক প্রস্তুত সমভব। এতে কমপ্লায়েন্সের ঝামেলা এড়িয়ে প্রতিষ্ঠানরা ব্যবসা পরিচালনা করতে সম্ভব হবে।’
আয়োজক সংস্থা এএসকে’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু সুলতান ভূঁইয়া বলেন, মূলত স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দেয়ার জন্য মেলার এমন আয়োজন। এতে সরাসরি বিভিন্ন প্রযুক্তি কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়। ফলে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রামের গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিকভাবে আরো এগিয়ে যাবে ।
এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেডের ডিরেক্টর নন্দা গোপাল বলেন, এএসকে ট্রেড মূলত বাংলাদেশ এবং ভারতের যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক টেকনোলজি প্রদর্শনীর মধ্যদিয়ে দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করা। সে লক্ষ্যে ১৬ বছর ধরে ঢাকায় এই ধরনের আন্তর্জাতিক মানের মেলা আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এএসকে’র পরিচালক মো. সেলিম, ইভেন্ট ও পি আর চারুকারু অ্যাড মিডিয়া এইড সার্ভিস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়ন এমএ হোসেন বাদল ও পরিচালক মো. সাইফুদ্দীন আজাদ।
এ মেলায় ভারতসহ ৯টি দেশের ১০০টি কোম্পানি অংশ নিচ্ছে। মেলায় ৪টি প্যাভিলিয়ন ও ১১০টি স্টলে গার্মেন্ট মেশিনারিসহ সব ধরনের এক্সেসরিজ রয়েছে। মেলাটি প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের উন্মুক্ত থাকবে।