চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ

পূর্ণাঙ্গ কমিটির পাশাপাশি চলছে উপজেলা কমিটি গঠনের কাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পাশাপাশি জেলার আওতাধীন উপজেলা, পৌরসভা ও কলেজ কমিটি গঠনের কাজ চলছে। আগামী এক মাসের মধ্যে উপজেলা কমিটি ঘোষণা হতে পারে। তারপর পৌরসভা ও কলেজ কমিটি গঠন করার আভাস পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের বলেন, দক্ষিণ জেলার আওতাধীন উপজেলাগুলোর মধ্যে সাতকানিয়া কমিটি দেওয়া হয়েছে। এখন বাকি আনোয়ারা, বাঁশখালী, পটিয়া, লোহাগড়া, কর্ণফুলী ও বোয়ালখালী উপজেলা কমিটি। এসব ইউনিটের কমিটি গঠনের প্রস’তি প্রায় শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের সাথে আলোচনা করে আগামী এক মাসের মধ্যে এসব কমিটি ঘোষণা করা হবে।
তিনি আরো বলেন, উপজেলা কমিটি ঘোষণা করার পর পৌরসভা, কলেজ কমিটি গঠনের কাজ শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে তৃণমূল পর্যায়ে ছাত্রলীগকে সংগঠিত করার জন্য ওয়ার্ড পর্যন্ত কমিটি করা হবে।
দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নেতা বাঁশখালী উপজেলার এমরান উদ্দীন বলেন, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি হয়েছে প্রায় দেড় বছর চলছে। এখনো জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি। উপজেলা কমিটি করেনি। নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করার লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা কমিটি করে মেধাবিদের রাজনীতি জায়গা করে দেওয়া হোক। তাহলে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ আরো সংগঠিত ও শক্তিশালী একটি ইউনিটে পরিণত হবে।
দীর্ঘদিন পর ২০১৭ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের ৫১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন। কমিটিতে বোয়ালখালী উপজেলার এস এম বোরহান উদ্দীনকে সভাপতি ও আনোয়ারা উপজেলার আবু তাহেরকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কমিটি ঘোষণার দিনই দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যলয়ের সামনে ও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে পদবঞ্চিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। কমিটি প্রত্যাখ্যান করে নতুন কমিটি বাতিলেরও দাবি জানিয়েছিল তারা।
পরবর্তী দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ নিজেদের মতো করে দলীয় কর্মসূচি পালন করে। তারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। সভাপতি বোরহান উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের বিরোধে জড়িয়ে পড়েন কমিটির সহসভাপতি তাওহীদুল ইসলাম জেকি, মিজানুর রহমান মিজান, যুগ্ম সম্পাদক বদরুজ্জামান জুয়েলসহ প্রায় নেতাদের সাথে। সভাপতি সাধারণ সম্পাদক কমিটির অনান্য সিনিয়র নেতাদের বাদ দিয়ে নিজেরা আলাদা কর্মসূচি পালন করে আসছেন। তাদের বিপরীতে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য আবু সাদাত মো. সায়েমের অনুসারী হিসাবে পরিচিত তাওহীদুল ইসলাম চৌধুরী জ্যাকি আলাদা বলয় তৈরি করেন। তার সাথে যোগ দেন সহসভাপতি মিজানুর রহমান, ইশতিয়াক আলম, যুগ্ম সম্পাদক বদরুজ্জামান জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদ হোছাইনসহ প্রায় নেতারা। এরপর ২০১৮ সালের ৩০ জুন সাতকানিয়া উপজেলায় আব্দুল মান্নানকে সভাপতি ও তোফাজ্জল হোসেন তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেন দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বোরহান-সাধারণ সম্পাদক তাহের। সেই কমিটিকে পকেট কমিটি আখ্যায়িত করে তৃণমূল ছাত্রলীগের কমিটি করার ঘোষণা দিয়ে পাল্টা পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেন তাওহীদুল ইসলাম জ্যাকিসহ অন্যরা। যার কারণে দক্ষিণ জেলায় আর উপজেলা কমিটি ঘোষণা করেনি সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।
দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি তাওহীদুল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও ইউনিট কমিটি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা আজ পর্যন্ত দক্ষিণ জেলার কোন উপজেলায় ছাত্রলীগের কোন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে যেতে পারেনি। শুধু তাই নয়, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের যে ৫১ জন আছে তাদের নিয়ে একটিবারও বসতে পারেনি। সাতকানিয়া উপজেলায় পকেট কমিটি দিলেও তা তৃণমূল ছাত্রলীগের নেতারা প্রতিহত করে প্রকৃত ছাত্রলীগ নেতাদের দিয়ে আরেকটি কমিটি দিয়েছে সেখানে। সাবেক ছাত্রলীগের নেতাদের সাথে কোন ধরনের যোগাযোগ না করে ছাত্রলীগকে নিজেদের সম্পত্তি মনে করে যা খুশি তা করছে তারা। তৃণমূল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ ব্যর্থ কমিটি বাতিল করে নতুন নেতৃত্ব পেতে চায়। নতুন নেতৃত্বর জন্য নতুন কমিটি প্রয়োজন।
জানতে চাইলে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম বোরহান উদ্দীন সুপ্রভাতকে বলেন, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়েছে। সম্মেলনের পর চার মাস প্রায় কোন নেতা ছিল না। এরপর জাতীয় নির্বাচন চলে আসার কারণে চলে যায় আরো কিছু সময়। এখন কেন্দ্রীয় নেতারা ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত আছেন। তবে আশা করি আগামী মাস , দেড় মাসের মধ্যে জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হবে।
এক বছর মেয়াদ শেষ হলেও কমিটি অনুমোদন দিতে পারবেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ দেখবেন। তারা যদি মনে করে আমাদের কমিটি দিয়ে হবে না তাহলে তারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটি আমরা মেনে নিবে।
ইউনিট কমিটি বিষয়ে তিনি বলেন, সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দিয়েছি। সেখানে তারা কার্যক্রম চালাচ্ছে। পাল্টা কমিটি যারা দিয়েছে তাদের আমরা চিনি না। এ বিষয়ে কথা বলতেও চাই না।