পূজার আয়োজন

Untitled-1

হলুদ পোলাও, ছোলার কাবাব, ধোঁকার ডালনা আর চিনির ক্ষীর। পূজার দিনগুলোতে খাবার টেবিলে ভিন্ন স্বাদ যোগ করতে বীথি জগলুলের রেসিপিতে তৈরি করুন মজার সব খাবার।

হলুদ পোলাও
উপকরণ: চাল ২ কাপ। কাজুবাদাম ১০,১২টি। কিশমিশ ১০,১৫টি। দারুচিনি ২ টুকরা। এলাচ ৩,৪টি। লং ৫,৬টি। তেজপাতা ২টি। পানি ৪ কাপ। গরম মসলাগুঁড়া ১ চা-চামচ। হলুদগুঁড়া আধা চা-চামচ। জাফরান ১/৪ চা-চামচ। গোলাপজল ২,৩ ফোঁটা। লবণ ২ চা-চামচ। চিনি ২ টেবিল-চামচ (ইচ্ছা)। ঘি ৪ টেবিল-চামচ।
পদ্ধতি: চাল ও কিশমিশ ধুয়ে আধা ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে পানি ঝরিয়ে রাখুন। হাঁড়িতে ১ টেবিল-চামচ ঘি গরম করে সোনালি করে কাজুবাদাম ভেজে উঠিয়ে রাখুন। একই প্যানে বাকি ঘি গরম করে দারুচিনি, এলাচ, লং ও তেজপাতা ফোঁড়ন দিয়ে কিশমিশ ও চাল দিয়ে ভেজে নিন।
চাল ভাজার ফাঁকে অন্য একটি হাঁড়িতে পানি নিয়ে তাতে হলুদ, গরম মসলাগুঁড়া, জাফরান, চিনি ও গোলাপজল মিশিয়ে চুলায় বসান। ফুটে উঠলেই নামিয়ে রাখুন। চাল ভাজা হলে ফুটানো পানি ও লবণ মিশিয়ে নিন। চাল ও পানি একই স্তরে আসলে ভাজা কাজুবাদাম মিশিয়ে হাঁড়িটি তাওয়ার ওপর বসিয়ে ঢাকনা দিয়ে, আঁচ কমিয়ে মিনিট বিশেক দমে রাখুন।
মাঝখানে একবার কাঠের খুন্তি দিয়ে নেড়ে দেবেন। চাল সিদ্ধ হয়ে গেলে নামিয়ে ফেলুন। কাবাব কিংবা নিরামিশ দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন ভিন্ন স্বাদের হলুদ পোলাও।

চিনির ক্ষীর
উপকরণ: পোলাওয়ের চাল আধা কাপ। গরুর দুধ দেড় লিটার। চিনি ১ কাপ। আস্ত এলাচ, তেজপাতা ও দারুচিনি ৩,৪টি করে।
পদ্ধতি: হাঁড়িতে চিনি ছাড়া সব উপকরণ একসঙ্গে নিয়ে চুলায় জ্বাল দিন।
চাল ফুটে গেলে চিনি মিশিয়ে দিন। চিনির পানি শুকিয়ে গেলে দুধ একদম ঘন হয়ে আসলে নামিয়ে নিন। ঠাণ্ডা হলে কিশমিশ ও বাদাম ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

ধোঁকার ডালনা
ধোঁকার জন্য উপকরণ: ছোলার ডাল আধা কাপ। আদা ১ ইঞ্চির টুকরা। রসুন কোয়া ৬,৭ টি। কাঁচামরিচ ৫,৬ টি। হলুদগুঁড়া সামান্য। কালোজিরা ১ চা-চামচ। লবণ সামান্য। তেল ভাজার জন্য।
যেভাবে ধোঁকা বানাবেন: ডাল ধুয়ে ভিজিয়ে রাখুন। ডাল ফুলে নরম হয়ে গেলে পানি ঝরিয়ে নিন। সম্পূর্ণ পানি ঝরে গেলে শিল-পাটায় ডাল বেটে নিন। ডালের সঙ্গে আদা, রসুন ও কাঁচামরিচসহ বাটবেন। ডাল বাটা হলে এর সঙ্গে সামান্য হলুদ, লবণ ও কালোজিরা মিশিয়ে নিন। একটি থালায় তেল মাখিয়ে ডালের মিশ্রণটি আধা সে.মি. পুরু করে সমানভাবে চেপে চেপে বসিয়ে দিন। এবার প্লেটটি সাধারণ তাপমত্রার ফ্রিজারে আধা ঘণ্টার জন্যে রেখে দিন। তারপর ফ্রিজ থেকে প্লেট বের করে বরফি আকারে কেটে কড়াইয়ে তেল গরম করে সোনালি করে ভেজে তুলে রাখুন।
ধোঁকার ডালনা রান্নার জন্য: মাঝারি লাল আলু ৪,৫টি। পেঁয়াজ-কুচি ১ টেবিল-চামচ। আদা ও রসুন বাটা ১ চা-চামচ করে। হলুদ ও ধনে গুঁড়া ১ চা-চামচ করে। মরিচ ও জিরা গুঁড়া আধা চা-চামচ করে। গরম মসলাগুঁড়া ১ চা-চামচ। আস্ত গরম মসলা দরকার মতো। আস্ত জিরা ১ চা-চামচ। ঘি ১ চা-চামচ। চেরা কাঁচামরিচ ৭,৮টি। তেল প্রয়োজন মতো। লবণ স্বাদ মতো।
পদ্ধতি: চারকোণা করে আলু কেটে সামান্য হলুদ ও লবণ মাখিয়ে তেলে ভেজে তুলে রাখুন। হাঁড়িতে তেল গরম করে আস্ত গরম মসলা ও আস্ত জিরা ফোঁড়ন দিয়ে পেঁয়াজ কুচি দিন। পেঁয়াজ বাদামি হলে অল্প পানি দিয়ে গরম মসলা গুঁড়া ছাড়া বাকি সব বাটা ও গুঁড়া মসলা কষিয়ে নিন। মসলা বেশ ভালোভাবে কষানো হলে আবার একটু পানি দিয়ে ভেজে রাখা আলু কষিয়ে ঝোলের জন্যে পরিমাণ মতো পানি দিন। পানি ফুটে উঠলে ভেজে রাখা ধোঁকার অর্ধেক ঝোলের মধ্যে দিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে পাঁচ থেকে সাত মিনিট রান্না করুন। সাত মিনিট পর ঢাকনা খুলে দিন। ঝোল ঘন হয়ে এলে গরম মসলাগুঁড়া, চেরা কাঁচামরিচ ও ঘি মিশিয়ে কিছুক্ষণ দমে রেখে নামিয়ে ফেলুন। পোলাও কিংবা লুচির সঙ্গে পরিবেশন করুন দারুণ সুস্বাদু ধোঁকার ডালনা।

ছোলার কাবাব
উপকরণ: সিদ্ধ ছোলা ১ কাপ। সিদ্ধআলু মাঝারি ২টি। পেঁয়াজকুচি বড় ২টি। কাঁচামরিচ কুচি ৪,৫টি। ধনেপাতা কুচি ১/৪ কাপ। বেরেস্তা ২ টেবিল-চামচ। ভাজা শুকনামরিচ ১ টেবিল-চামচ। লেবুর ছোকলা কুচি ১ চা-চামচ। আদা ও রসুন বাটা দেড় চা-চামচ করে। চাট মসলা ১ টেবিল-চামচ। ভাজা জিরাগুঁড়া দেড় চা-চামচ। আস্ত জিরা ১ চা-চামচ। কর্নফ্লাওয়ার প্রয়োজন মতো। ডিম ১টি। লবণ স্বাদ মতো। তেল প্রয়োজন মতো।
পদ্ধতি: সিদ্ধ ছোলা শিলপাটায় আধা বাটা করে নিন। এইবার তেল ছাড়া বাকি সব উপকরণ খুব ভালোভাবে মাখিয়ে কাবাবের আকারে গড়ে নিন। একটি প্রশস্ত প্যানে মাঝারি আঁচে তেল গরম করে কাবাবগুলি সোনালি করে ভেজে, পেপার টাওয়েলের ওপর উঠিয়ে রাখুন, যাতে বাড়তি তেল শোষণ করে নেয়। যারা মুরগি খান তারা এর সঙ্গে মুরগির মাংস মিশিয়ে নিতে পারেন।