পুলিশি প্রাচীরেও মানববন্ধনে সাড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে পুলিশি প্রাচীরের মধ্যে মানববন্ধন করেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এ মানববন্ধনে অংশ নেয়।
‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় উদ্দেশ্যমূলক সাজা’ দেওয়ার অভিযোগ এনে তার প্রতিবাদে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে গতকাল সোমবার চট্টগ্রামে বিএনপির তিন সাংগঠনিক জেলা পৃথকভাবে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে।
চট্টগ্রাম মহানগর ও উত্তর জেলা বিএনপি সকালে দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে নূর আহমদ সড়কে আর বিকেলে নিউ মার্কেট দোস্ত বিল্ডিং দলীয় কার্যালয়ের সামনে দক্ষিণ জেলা বিএনপি মানববন্ধনের আয়োজন করে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নিউ মার্কেট দোস্ত বিল্ডিং দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত দক্ষিণ জেলা বিএনপির মানববন্ধনকে ঘিরে রাখে রাখে পুলিশ। জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে এতে শতাধিক নেতাকর্মী অংশ গ্রহণ নেন। পৌনে একঘন্টা সময় ধরে মানববন্ধন চলাকালে অর্ধশতাধিক পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রাচীর তৈরি করে। এসময় রাস্তায় চলাচলরত পথচারী ও পার্শ্ববর্তী দোকানের ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। কিন’ কর্মসূচিকে ঘিরে শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
মানববন্ধনে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘দেশের মানুষ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার রায়কে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারের বিরুদ্ধে মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছে। জনগণ আগামী নির্বাচনে এর জবাব দেবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘পরিত্যক্ত কারাগারে একাকী বন্দি রেখে খালেদা জিয়ার মনোবলকে দুর্বল করা যাবে না। তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় আবার জনগণের মাঝে ফিরে আসবেন।’
এরআগে সকালে দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে নূর আহমদ সড়কে আয়োজিত মহানগর বিএনপির মানববন্ধনে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। নগর বিএনপির এ কর্মসূচিকে ঘিরে নূর আহমদ সড়ক, লাভলেন ও কাজীর দেউড়ি মোড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। পুলিশি বেস্টনির মধ্যে ব্যানার হাতে মাববন্ধনে দাঁড়ান নেতাকর্মীরা। নগরীর বিভিন্ন থানা-ওয়ার্ড থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিলসহকারে এতে অংশ নেয়। তবে মানববন্ধনে কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি।
মানবন্ধনে নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, ‘সরকার খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়ে তার জনপ্রিয়তা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকার মামলার রায়ের দিন ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করলেও খালেদা জিয়া অবিচলভাবে পরিসি’তি মোকাবেলা করেছেন। হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে আদালতে গিয়ে ইতিবাচক রাজনীতির দৃষ্টান্ত স’াপন করেছেন।’
মানববন্ধনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম ও কেন্দ্রীয় সদস্য সামশুল আলমসহ নগর কমিটির নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
এরআগে একই স’ানে পৃথকভাবে মানববন্ধন করে উত্তর জেলা বিএনপির দুটি পক্ষ। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও কারাবন্দি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের এ কর্মসূচিকে ঘিরেও নিরাপত্তা বেস্টনি গড়ে তুলে পুলিশ।
সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন জেলা বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। আর আসলাম চৌধুরীর পক্ষে মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি নাজিম উদ্দিন।
দুই পক্ষের এ পৃথক কর্মসূচিতেও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেয়। তবে দুই পক্ষের কর্মসূচিকে ঘিরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এক পক্ষের মানববন্ধনে ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন প্রশ্ন রাখেন, ‘৭৩ বছর বয়সী জনপ্রিয় রাজনীতিক বেগম খালেদা জিয়াকে পরিত্যাক্ত কারাগারে একাকী বন্দি করে রাখা হয়েছে। তাঁকে দেয়া হয়েছে সাধারণ কয়েদীর পোশাক ও খাবার। এতো রাগ, ক্ষোভ ও প্রতিহিংসা যার বিরুদ্ধে, তাঁর বিচারে যে সরকার হস্তক্ষেপ করেনি বাংলাদেশের মানুষ সেটা কিভাবে বিশ্বাস করে?’
‘বেগম জিয়াকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই তাঁকে মিথ্যা মামলায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সাজা দেওয়া হয়েছে’-’বলেন তিনি।
অপর পক্ষের মানববন্ধনে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও চাকসু ভিপি নাজিম উদ্দিন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে বলেন, ‘সবকিছুর শেষ আছে। এদেশে আইয়ুব খান, এরশাদ টিকে থাকতে পারেনি। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারও ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। হয়তো একটু সময় লাগছে। তবে শীঘ্রই সরকারের বিদায় ঘণ্টা বাজবে। সেদিন সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা দেশ ছেড়ে পালাতে পারবে না। জনগণ সেদিন নিজ নিজ অবস’ান থেকে তাদের প্রতিহত করবে।’