দোহাজারীতে ফের দু’পড়্গের সংঘর্ষ

পুলিশসহ ৩০ জন আহত ৫০ দোকান ভাঙচুর-লুটপাট

নিজস্ব প্রতিনিধি, চন্দনাইশ

চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসদরে দু’পড়্গের মধ্যে দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে গুলি ও ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশ পরিদর্শকসহ উভয়পড়্গের নারী-পুরম্নষ মিলে অনত্মত ৩০ জন আহত হয়েছেন। দোহাজারী বার্মা কলোনি ও স’ানীয়দের মধ্যে গত ২২ অক্টোবর রাত সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে দশটা পর্যনত্ম টানা এ সংঘর্ষ হয়। এসময় হামলাকারীরা ফুটপাতের কমপড়্গে ৫০টি দোকান ভাঙচুর করে ও লুটপাট চালায়। এতে ২০ লাখ টাকার ড়্গতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ড়্গতিগ্রসত্মরা। সংঘর্ষের সময় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে প্রায় দু’ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। দুর্ভোগে পড়ে দূরপালস্নার শত শত যাত্রী ও পথচারী। এ ঘটনায় পুলিশ ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে।
সংঘর্ষে গুরম্নতর আহত সাইফুল ইসলামকে (৩৫) চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস’া আশঙ্কাজনক জানা গেছে।
এ ঘটনায় এএসআই আতিকুর রহমান বাদি হয়ে ৩৪ জনের নাম উলেস্নখ ও ৯০/৯৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
জানা গেছে, বার্মা কলোনি এলাকায় ১৭ অক্টোবর রাতে একটি মুদি দোকানে চুরির ঘটনার পর ১৮ অক্টোবর অভিযোগ দায়ের করার পর ওই বিকেলেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষে প্রায় ১০ জন আহত হন। এরপর থেকে উভয় পড়্গের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তারই সূত্র ধরে গত ২২ অক্টোবর উভয় গ্রম্নপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আহতরা হলেন মোহাম্মদ শাকিব (১৯), আনোয়ার হোসেন (৩০), মোহাম্মদ আসিফ (১৮), মোহাম্মদ রফিকুল (২০), মোহাম্মদ আরিফ (১৮), মোহাম্মদ শারজান (২৫), নুর আলী (২৫), মো. ফরহাদ (২২), মো. আলমগীর (২৫), নুরম্ন (৩০), মো. দিদার (২২), (২৩), পারভেজ (১৮), মুন্না (২৫), খোকন (২০), শাকিল (১৮), লাকি (৩৫), পিংকি (৩০), লিটন (৩৫), হাসিনা আকতার (২৫), মুন্নি আকতার (৩০) এবং দোহাজারী তদন- কেন্দ্রের ইনচার্জ বিদ্যুৎ কুমার বড়-য়া (৪৪), এএসআই আতিকুর রহমান (৩৭), কনস্টেবল সালাউদ্দীন (২৩), ও নুরে রহমান (৩৭)।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে দোহাজারী তদনত্ম কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস’লে পৌঁছে পরিসি’তি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হলে পরে চন্দনাইশ থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে ২৪/২৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে পরিসি’তি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে উভয় পড়্গের ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতাররা হলেন, উলস্নাহপাড়ার আবদুল শুক্কুরের পুত্র নাজিম উদ্দীন (৩০), ইসলামের পালক পুত্র শহিদুল ইসলাম সোহাগ (২২), হাবিবুর রহমানের পুত্র বেলাল উদ্দীন রানা (২২), বার্মা কলোনির মৃত আজিজের পুত্র আবদুর রহিম (৪০), মো. ইমতিয়াজের পুত্র মোহাম্মদ সুমন (২০), মৃত নুর হোসেনের পুত্র করিমুলস্ন্লাহ (২০), ইসমাইলের পুত্র মোহাম্মদ উলস্নাহ (১৮), মনির আহমদের পুত্র মোহাম্মদ জিকু (২০) ও আবুল কাশেমের পুত্র আবদুল (২২)।
বর্তমানে এলাকার পরিসি’তি থমথমে। যে কোন সময় আবারও ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে চন্দনাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। সংঘর্ষের সত্যতা নিশ্চিত করে চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কেশব চক্রবর্ত্তী বলেন, পরিসি’তি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২৪/২৫ রাউন্ড ফাঁকাগুলো বর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।