শেষ হলো অপর্ণাচরণ স্কুলের

পুনর্মিলনী উৎসব আনন্দের সাথে বিষাদের সুর

নিজস্ব প্রতিবেদক

কতকাল পর তারা আবার স্কুলজীবনটা ফিরে পেয়েছে। সোনাঝরা হারানো শৈশবটাকে হাতের নাগালে পেয়েছে। এজন্য তাদের মনে-প্রাণে আনন্দের কমতি ছিল না। কিন’ আজকের পর সবাই আবার যার যার জায়গায় ফিরে যাবে, প্রাণের সখীদের সাথে আবার কখন দেখা হবে বা ভবিষ্যতে আর কোনদিন আদৌ দেখা হবে কিনা তার কোন ইয়ত্তা নেই। সব মিলিয়ে পুনর্মিলনী উৎসবের দ্বিতীয় এবং শেষ দিনে এসে অপর্ণাচরণ স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রীদের মনে তাই আনন্দের পাশাপাশি বিষাদের সুরও বেজে উঠে। বিষয়টা যেন সানাইয়ের সুর এবং বিউগলের সুর একত্রে বেজে উঠেছে!
১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামে নারী শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্কুল অপর্ণাচরণ সিটি কর্পোরেশন স্কুল তার প্রতিষ্ঠার ৯০ বছরে এসে এই প্রথমবারের মতো ২দিন ব্যাপী পুনর্মিলনীর আয়োজন করে। গতকাল ছিল পুনর্মিলনীর ২য় এবং শেষ দিন। স্কুলের নিজস্ব মাঠ নেই বলে তারা সমাপনী দিনের উৎসবটি নিয়ে যায় নগরীর লাভলেইনস’ স্মরণিকা কমিউনিটি সেন্টারে। সেখানে প্রাক্তন ছাত্রীদের মিলন মেলায় তাদের আনন্দোৎসবে মেতে উঠার পাশাপাশি বিষাদে ভেঙে পড়তে দেখা গেছে।
শেষ দিনের অনুষ্ঠান কার্যক্রম শুরু হয় সকাল ৮টা থেকে। স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রী যেখানে ২০১৭ সালে এসএসসি পাস করা তন্বী-তরুণী থেকে শুরু করে ১৯৪৭ ব্যাচের বৃদ্ধা সবাই এক এক করে কমিউনিটি সেন্টারে জমায়েত হতে থাকেন। সবার আসা হয়ে গেলে সকাল ৯টায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর শুরু হয় নির্ধারিত আলোচনা অনুষ্ঠান। যেখানে প্রাক্তন ছাত্রী পরিষদের আহবায়ক প্রফেসর ড. জয়নব বেগম, যুগ্ম আহবায়ক পারভিন মাহমুদ এফসিএ, সদস্য সচিব সাফিয়া রহমান স্বাতী, শিক্ষাবিদ রীতা দত্তসহ স্কুলের প্রাক্তন কৃতী ছাত্রীরা স্কুলের স্মৃতিচারণ ও বক্তৃতা করেন।
প্রফেসর জয়নব বেগম তাঁর বক্তব্যে বলেন, আজকের দিনটি কেবল পুনর্মিলনের নয়, সুদূর অতীতে হারিয়ে যাওয়ার দিন। অপর্ণাচরণ স্কুলে আজ থেকে অনেকদিন আগে যে চারা গাছটি রোপণ করা হয়েছিল সেটি যে আজ ডালপালা-শাখাপ্রশাখা
মেলে চারিদিকে সুবাস ছড়াচ্ছে তা এখানে উপসি’ত কৃতি মুখগুলোকে দেখে বুঝতে পারছি।
পারভিন মাহমুদ এফসিএ বলেন, একটা শিক্ষিত জাতি পেতে হলে প্রয়োজন একটা শিক্ষিত মা। নেপোলিয়ান বোনাপার্টই সে কথা বলেছেন। অপর্ণাচরণ স্কুল জাতিকে অসংখ্য শিক্ষিত মা উপহার দেওয়ার কাজটি করে যাচ্ছে।
এছাড়া প্রায় প্রত্যেক বক্তাই তাদের বক্তৃতায় স্কুলে একটা মাঠ না থাকার জন্য আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, আজ আমাদের একটা মাঠ নাই বলে আমাদের স্কুল ছেড়ে এখানে (কমিউনিটি সেন্টার) এসে অনুষ্ঠান করতে হচ্ছে। এটা সত্যিই খুব দুঃখজনক।
অনুষ্ঠানে জানানো হয় স্কুলের ৯৫ বছর পূর্তি উৎসব এবং শত বছর পূর্তি উৎসব আরও জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন করা হবে। আলোচনা পর্ব শেষে বেঁচে থাকা প্রাক্তন শিক্ষকদের সম্মাননা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এছাড়া দিদিমণিও মাস্টার মশাইদের কথা; আমি ফেলে এসেছি স্কুল ইউনিফর্ম; মোরা উজ্জ্বল মোরা প্রজ্বল; বন্ধু চল রোদ্দুরে, মন কেমন মাঠ জুড়ে প্রভৃতি শিরোনামে খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত তথ্যচিত্র দেখানো হয়। এসব দেখে উপসি’ত সবাইকে আনন্দেআপ্লুত হতে দেখা গেছে।