পুণ্যের পশরা নিয়ে এসেছিল যে মাস

কুদরতের কালামে উচ্চারিত হয়েছে যে মাসটির নাম, সে মাহে রমযান। শাহরে রমাদ্বান নিয়ে এসেছে কুরআনের সওগাত। ব্যাপক নেয়ামতের অজস্র ধারা নিয়ে এল মাসটি। কুরআন বহ মাসটিকে মর্যাদা দিতে মহান রাব্বুল আলামীন তাঁর বান্দাদেরকে দিয়েছেন সিয়ামের নির্দেশ, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ (মাস)টি পাবে, সে যেন এতে রোযা রাখে।’ এ মাসটির যেমন স্বতন্ত্র মর্যাদা প্রদত্ত হয়েছে, তেমনি এ মাসে যাঁরা রোযা রাখে তাঁদেরও পুরস্কার আর মর্যাদার অন্ত রাখেননি দয়াময় প্রভু।
স্রোতের মতই বহমান কালের গতি। যে মাসটি পুণ্যের এন্তার পশরা নিয়ে এই সেদিন এল, আবার সহসাই যেন ফুরিয়ে গেল। আমাদেরই মানসিক তৃপ্তির পূর্ণ মানসে রোযা ও রোযার মাস নিয়ে চর্চা থাকবে অব্যাহত। মাহে রমযানের শুধু মহিমাই আল্লাহ্ ও রাসূল বর্ণনা
করেননি, এ মাসে রোযা পালনকারীদেরও এ মহিমার বয়ান দিয়েছেন। সে থেকে কীইবা আমাদের পুণ্য ঝুলিতে সঞ্চিত হতে পারে, সংক্ষেপে তার সার-নির্যাস দেখি।
রা+মীম+দ্বোয়াদ+আলিফ+নূন-এ পঞ্চবর্ণের সমষ্টিতে মাসটির নাম। যার প্রতিটি বর্ণে একেকটি নেয়ামতের ইঙ্গিত দেয়। যথা-‘রা’ দিয়ে রহমতে ইলাহী, ‘মীম’ দিয়ে মুহাব্বতে ইলাহী, ‘দ্বোয়াদ’ দিয়ে দ্বিমানে ইলাহী, ‘আলিফ’ দিয়ে আমানে ইলাহী এবং ‘নূন’ দিয়ে নূরে ইলাহী। আল্লাহ্র করুণা, তাঁর প্রেম ভালোবাসা, তাঁর জামানত (নিশ্চয়তার গ্যারান্টি), তাঁর নিরাপত্তা এবং তাঁর নূর বা ঐশী জ্যোতি। এসব নেয়ামত মাহে রমযান’র সওগাত।
পবিত্র কুরআনের কথা ভূমিকাতে বলা হয়েছে। মানুষের জন্য হেদায়ত-এর উজ্জ্বল নিদর্শনাদি, সত্য-মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণের মানদণ্ড পবিত্র কুরআনের মত এমন বৃহত্তম নিদর্শন মাহে রমযানেই আমরা পেয়েছি। কুরআন কল্যাণকর সকল জ্ঞানের আধার। হেদায়ত, রহমত, নসীহত, শেফা বা আরোগ্য, সুপারিশকারী বিজ্ঞানময় গ্রন’ আলকুরআন এ মাসে অবতীর্ণ। যে রাতে তা অবতীর্ণ হয়, তা কদরের রাত। এ গুলো মাসটির নেয়ামত।
রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত এ মাসেই তিনটি বিশেষ প্রাপ্তি। এটি রিযক বৃদ্ধির মাস। এ মাস নফল কাজের মর্যাদা ফরযের মর্যাদায় উন্নীত করে, আর ফরযের মর্যাদা বাড়ায় সত্তর গুণ। এ মাসের কারণেই রহমত, আসমান আর বেহেশতের দরজা উন্মুক্ত রাখা হয়। পক্ষান্তরে দোযখের দরজা বন্ধ করা হয় ও শয়তানকে বন্দী করা হয়।
রোযা এক অনন্য ইবাদত। অন্য ইবাদতে কোন বিশেষ কাজ করতে হয়, কিন’ রোযার মধ্যে কাঙ্ক্ষিত বিষয় পরিহার করতে হয়। এর দ্বারা ঐশী প্রেম অর্জিত হয়। অন্য ইবাদতে সওয়াব পাওয়া যায়। রোজার দ্বারা এর মালিক আল্লাহ্কে পাওয়া যায়।
রোযাদারের জন্য দু’টি বিশেষ আনন্দ। একটি ইফতারের আনন্দ, আরেকটি আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাতের আনন্দ। যা অন্য কেউ পায় না। আল্লাহ্র কাছে শুধু রোযাদার নয়; রোযাদারের মুখের ঘ্রাণও প্রিয় হয়ে যায়।
রোযাদার এমন নেক বান্দা। তার জন্য ফেরেশতারাও দুআ করেন। আবার তার জন্য বেহেশতের হুরেরাও দুআ ও প্রতীক্ষারত থাকে।
জান্নাতে বিশেষ দরজা আছে, যার নাম রাইয়ান। যে দরজা দিয়ে শুধু রোযাদারই প্রবেশ করবেন।
রোযাদারের খানা-পিনাও ইবাদত। যেমন সাহ্রী ও ইফতার ইবাদতে গণ্য। রোযাদারের বিশ্রাম, নিদ্রাসহ সর্বাবস’াই ইবাদতে শামিল। কারণ, রোযাদার নিদ্রিত অবস’ায়ও রোযার হালতে থাকেন।
রোযা বান্দার জন্য সুপারিশ করে, আল্লাহ্ সে সুপারিশ গ্রহণ করেন। রোযা অগণিত পুরস্কারের দুর্লভ সৌভাগ্য নিয়ে আসে। রোযা বান্দাকে আল্লাহ্র অন্যরকম নৈকট্য দান করে থাকে।