পিপলস হাসপাতাল

ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হলো নবজাতকের লাশ!

নিজস্ব প্রতিবেদক
peoples-hospital-(7)

মৃত নবজাতকের লাশ ডাস্টবিনে ফেলে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে নগরীর চকবাজারস’ বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র পিপলস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার দিনভর এ ঘটনা নিয়ে হাসপাতালটিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
পরে ফেলে দেওয়া নবজাতকের লাশটি সিটি করপোরেশনের ময়লার ভাগাড় থেকে খুঁেজ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করলে পরিসি’তি শান্ত হয়। জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে চান্দগাঁও থানার বাসিন্দা প্রবাসী মো. ফরিদের স্ত্রী আমেনা বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে পিপলস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ডা. কুসুম আকতারের তত্ত্বাবধানে সিজার অপারেশনের মাধ্যমে জমজ সন্তানের মা হন তিনি।
তবে দুটি বাচ্চার মধ্যে প্রথম বাচ্চাটি পেটের মধ্যে পচে গিয়ে মৃত ভূমিষ্ট হয় বলে দাবি; ডা. কুসুম আকতারের।
তিনি বলেন, গর্ভবতী হওয়ার পর থেকে আমেনা বেগম আমার কাছে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমেনার প্রথম সন্তানও আমার তত্ত্বাবধানে হয়েছিল। চলতি রমজানের প্রথম দিন তিনি চেকআপ করাতে চেম্বারে আসেন। পরে আল্ট্রসোনগ্রাফি করিয়ে গর্ভের একটি বাচ্চার অবস’া ভালো না বলে জানাই। জুনের শেষ সপ্তাহে আমেনার ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন’ মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে ফোন দিয়ে জানায় তার প্রচুর ব্যথা হচ্ছে। এরপর আমি তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে বলি। ঘণ্টা দুয়েক পর পিপলস হাসপাতালে অপারেশনের মাধ্যমে জমজ সন্তানের জন্ম দেয় আমেনা।
ডা. কুসুম আকতার আরও বলেন, দুটি বাচ্চার মধ্যে প্রথম বাচ্চাটি পচে মৃত ভূমিষ্ট হয়। বিষয়টি আমি তার শাশুড়িকে জানালে তিনি নবজাতকটি ফেলে দিতে বলেন। এরপর আমি সুস’ নবজাতকটি দেখে হাসপাতাল ত্যাগ করি। পরে আয়া মৃত নবজাতকটি ডাস্টবিনে ফেলে দিলে সকাল দশটার দিকে সেটি বর্জ্যের গাড়িতে তুলে দেয়া হয়।
‘এর আগে মৃত নবজাতকের ছবি তুলে রাখতে আমেনার শাশুড়িকে জানিয়েছি’ যোগ করেন ডা. কুসুম আকতার।
অন্যদিকে আমেনার পরিবারের অভিযোগ, মৃত নবজাতকটি তাদের না দেখিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
আমেনা বেগমের মা আশা খাতুন সুপ্রভাতকে বলেন, ডাক্তার মেয়ের শাশুড়িকে মৃত নবজাতকটির লাশ ফেলে দিবে কিনা জিজ্ঞেস করেছে; এমনটা শুনেছি। কিন’ আমাদের সাথে কেউ কথা বলেনি। তারা আমাদের কিছু না জানিয়ে বাচ্চাটি ফেলে দিয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিভাবকদের কাছে জানতে চাইলে তারা নবজাতকটি ফেলে দিতে বলে। তাই আমরা ফেলে দিয়েছি।
এব্যাপারে পিপলস হাসপাতালের ব্যবস’াপনা পরিচালক (এমডি) সুভাষ চন্দ্র সূত্রধর সাংবাদিকদের বলেন, মৃত নবজাতক ভূমিষ্ট হওয়ার পর আমেনা বেগমের শাশুড়িকে ডাক্তার জিজ্ঞেস করেন। সেসময় তিনি নবজাতকটি ফেলে দিতে বলেন। তবে একটি মানব শিশুকে এভাবে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়াটা অন্যায়। যেটি উচিৎ হয়নি। ইতোমধ্যে মৃত নবজাতকটি আমরা উদ্ধার করে অভিভাবকদের নিকট হস্তান্তর করেছি। তবুও আমরা জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস’া নিব। যেন এ ধরণের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
অপরদিকে পুলিশ বলছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত নবজাতকের লাশটি উদ্ধার করে দেয়ায় বিষয়টি সমাধান হয়েছে।
পাঁচলাইশ থানার উপ-পরিদর্শক মো. আজিজুর রহমান সুপ্রভাতকে বলেন, মৃত নবজাতকের লাশটি ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে অভিভাবকদের দাবির মুখে তারা লাশটি উদ্ধার করে। এখন কোনো পক্ষের অভিযোগ নেই।
এদিকে, অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, ঘটনা শুনেছি। তবে কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত করে গাফিলতি থাকলে ব্যবস’া নিব। এছাড়াও পিপলস হাসপাতালে নিবন্ধন আছে বলেও তিনি জানান।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ এপ্রিল প্রবর্তক মোড় এলাকার বেসরকারি শিশুরোগ নিরূপনী কেন্দ্র চাইল্ড কেয়ারে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বাসিন্দা মহিউদ্দিনের স্ত্রী রোকসানা আকতারের জীবিত মেয়ে নবজাতকের বদলে মৃত ছেলে নবজাতকের লাশ দেয়া নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে জীবিত নবজাতক ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয় চাইল্ড কেয়ার কর্তৃপক্ষ।