মামুন হত্যার আসামিদের গ্রেফতার দাবি

পিএবি সড়ক অবরোধ, দীর্ঘ যানজট : যাত্রীদের দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, আনোয়ারা

কর্ণফুলী উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি প্রার্থী ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মামুনুর রশিদ হত্যার আসামিদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী (পিএবি) সড়ক অবরোধ করেছে স’ানীয় জনসাধারণ। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অবরোধ চলছিল।
গতকাল বুধবার রাত ৮টা থেকে অবরোধ শুরু হলে রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে ওই সড়কের আনোয়ারা চাতরী থেকে শুরু করে পটিয়া-ক্রসিং পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট হয়। ঘটনার ২০ দিন পরও প্রকৃত আসামিদের পুলিশ গ্রেফতার করতে না পারায় গ্রামবাসী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অবশেষে রাস্তায় নামেন।
অবরোধকারীরা মামুন হত্যার বিচারের দাবিতে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকে। আনোয়ারা থেকে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে আসার সময় সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের। তিনি বলেন, ‘ঘটনার ২০ দিন পার হয়ে গেলেও মামুন হত্যার আসামি একজন ছাড়া বাকিরা গ্রেফতার হয়নি। প্রশাসনের অবহেলা কারণে এখনো মূল আসামি অধরা।
বিক্ষুব্ধ ইয়াছিন, আজিজ, খোকন, সোলাইমান ও হাসান জানান, ‘মামুন হত্যার এতদিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত সব আসামি ধরতে পারেনি। এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত মামুন হত্যার আসামিদের গ্রেফতার করা না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না।
প্রসঙ্গত, এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও আধিপত্যের জেরে ছাত্রলীগ নেতা মামুনুর রশিদকে গত বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তার বাড়ির একশ গজ দূরে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। তার ডান হাতটি উপড়ে ফেলা হয়। এসময় মামুনের সাথে থাকা আরেক ছাত্রলীগ নেতা আজিজ প্রাণে রক্ষা পায়। বর্তমানে আজিজ আহত অবস’ায় চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার একদিন পর নিহতের বড়ভাই মো. ইয়াছিন বাদী হয়ে ৫ জনকে এজাহারনামীয় সহ অজ্ঞাত ৫/৬জনকে আসামি করে কর্ণফুলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ১ অক্টোবর মামলার ৩ নম্বর আসামি মোহাম্মদ ওমরকে কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর এলাকায় খালার বাসা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আসামিরা হচ্ছে বড়উঠান ইউনিয়নের শাহমীরপুর এলাকা নুরুল আলমের পুত্র মো. আজম (২৮), মকবুল আহমদের পুত্র মো. ওমর (২০), নুরুচ্ছফা প্রকাশ সাহেব মিয়ার পুত্র মো. আশিক (২৬), আবু তাহেরের পুত্র আলী আজগর (২৪) ও মোহাম্মদ ছৈয়দের পুত্র মো. শাহনুর (২২)। তারা উক্ত এলাকার ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
কর্ণফুলী থানার ওসি (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হাসান ইমাম বলেন, ‘হঠাৎ করে রাস্তার দুই পাশের চলাচলরত গাড়ি অবরোধ করা হয়। মামুন হত্যার বিচারের দাবিতে তারা রাস্তা অবরোধ করেছে। এ হত্যা মামলার তিন নম্বর আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই আসামি ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে। তারপরও কেন সড়ক অবরোধ করে মানুষকে কষ্ট দেয়া হচ্ছে তা আমার জানা নেই। অবরোধ তুলে দেয়ার চেষ্টা চলছে।’