পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়িতে বন্যা ত্রাণ ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিসি’তি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। বুধবার ভোর থেকে কিছু কিছু এলাকায় পানি সরে যাওয়ার পর ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতে দেখা গেছে। এখনও খাগড়াছড়ি সদর, পানছড়ি, মাটিরাঙা, দীঘিনালা, মানিকছড়ি ও মহালছড়ি উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে
তলিয়ে আছে। বন্যায় ফসলি ক্ষেত ও সড়ক ডুবে থাকায় বাজারে শাক সবজির সংকট তৈরি হয়েছে। ত্রাণ ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের কারণে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা নারী ও শিশুরা দুর্ভোগে রয়েছে।
গত সোমবার দিবাগত রাতে হঠাৎ করে চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বেড়ে গিয়ে ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন অফিস আদালতে ঢুকে পড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সকাল থেকে বৃষ্টিপাত না থাকলেও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স’ানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়স’লে সরে যেতে প্রচারণা চালাচ্ছে।
কয়েকদিনের টানা বর্ষণে প্রায় দশ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। তলিয়ে যায় খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম-ঢাকা আঞ্চলিক ও জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো।
খাগড়াছড়ি পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শাহ আলম বলেন, খাগড়াছড়ি পৌরসভার মুসলিমপাড়া, শব্দমিয়া পাড়া ও শান্তিনগর এলাকাসহ কিছু এলাকায় বন্যার পানি কমলেও এখনও অধিকাংশ তলিয়ে আছে। নিম্নাঞ্চলগুলোতে বর্ষার সময় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করার সুবিধার্থে নৌযান প্রদানে সরকারের কাছে অনুরোধ করেন তিনি।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, সব কটি উপজেলায় দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস’তি রয়েছে। জেলার বন্যা পরিসি’তি উন্নতির দিকে দাবি করে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ত্রাণ পাঠানোর প্রস’তি চলছে বলে জানান।
খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও শরণার্থী টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা জানান, তিনি মঙ্গলবার ও বুধবার জেলাশহর ছাড়াও কয়েকটি উপজেলার দুর্গত অবস’া সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। আকস্মিক বন্যায় মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি, স্বাস’্য, ত্রাণ ও পুর্নবাসন বিভাগকে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদানের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।