পাহাড়ধসে মৃত্যু ঝড়-বন্যায় বিপর্যস্ত নগর-গ্রাম

সম্পাদকীয়

গত কয়েকদিনের প্রবল বৃষ্টিপাতে পাহাড়ধসে রাঙামাটির নানিয়ার চরে ১১ জন ও কক্সবাজারে ৪ জনের মৃত্যু ঘটেছে। মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর অধিকাংশ এলাকা ডুবে গেছে। আগ্রাবাদ-হালিশহর, চকবাজার, বাকলিয়া, মুরাদপুর, চাক্তাই খাতুনগঞ্জসহ নগরীর নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোমর সমান, কোথাও হাঁটু পরিমাণ পানি।
মা ও শিশু হাসপাতালের নীচতলায় পানি ঢুকেছে। অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাউজান, ফটিকছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফটিকছড়ি, লামা ও চকরিয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। চট্টগ্রাম-রাঙামাটি ও রাঙামাটি-বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবিতে নিখোঁজ ২০। এ মৌসুমে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত দুইশ ৬২ মিলিমিটার, আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বৃষ্টি থাকবে। চকবাজার-বাকলিয়ায় মানুষ দিনরাত পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় যানজট তীব্র হয়েছে। রমজানের কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকা মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকায় ব্যবসায়ীদের পণ্যসামগ্রী নষ্ট হয়েছে। আবাসিক এলাকার অধিবাসীদের সহায় সম্বল ভেসে গেছে।
ভারী বর্ষণ, ঝড়ো হাওয়ায় উখিয়া শরণার্থী শিবিরের বেশ কিছু বসতঘর ধসে পড়েছে। ৪ শতাধিক পরিবার আশ্রয়হীন হয়েছে। শূন্যরেখায় শরণার্থী ক্যাম্পে কোমর সমান পানি হয়েছে। আশ্রয় প্রার্থীরা আতঙ্কে আছে।
ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রাম মহানগরী, ৩ পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজারের পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীরা প্রবল ঝুঁকিতে রয়েছেন। এর মধ্যে উখিয়া টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরও রয়েছে। সামনের বৃষ্টিপাতে পাহাড়ধস, বন্যার ঝুঁকি বাড়বে। চট্টগ্রাম মহানগরীর খাল ও নর্দমাগুলির আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কার করা হলে পরিসি’তি এত খারাপ হতো না। সিডিএ-চসিক এর রশি টানাটানিতে ক্ষতি হয়েছে নগরবাসীর। এ বিষয়টি আগেই সচেতন নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যম সতর্ক করেছিল। এখন এই বর্ষাকালে খাল নালা-নর্দমা থেকে আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ কতটুকু ফলপ্রসূ হবে?
প্রশাসন নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশ থেকে অবৈধ বসতি উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে, মূল কাজ হচ্ছে পাহাড় কাটা বন্ধ করা এবং পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস রোধ করা কিন’ এই কাজটি করা হচ্ছে না ফলে প্রতিবছরই পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঘটে। তিন পার্বত্য জেলা এবং কক্সবাজার অঞ্চলে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস রোধ করা যাচ্ছে না তদুপরি এ সকল এলাকায় পাহাড় কাটাও চলেছে নির্বিচারে। প্রকৃতি তার প্রতিশোধ নেবে আর এটি প্রকৃতির নিজের সুরক্ষায় স্বাভাবিক নিয়ম।
প্রকৃতি ও পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে কিছুতেই নিবৃত্ত করা যাচ্ছে না মানুষকে। এখন বেশি প্রয়োজন পাহাড় ধস রোধে ব্যবস’া নেয়া, ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে তাদের ত্রাণ ও সাহায্যের ব্যবস’া করা। নিয়মিত প্রচার প্রচারণা চালিয়ে মানুষদের সতর্ক করতে হবে। জেলা-উপজেলার পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। ঈদে মানুষ বাড়ি ফিরবে, তাদের যাত্রা নিরাপদ করতে সড়কপথে বিশেষ ব্যবস’া নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সাহায্য ও পুনর্বাসনে জেলা, উপজেলা প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।