পাসপোর্ট পেতে জনগণের ভোগানিত্ম প্রতিকারে উদাসীন থাকলে চলবে না

সম্পাদকীয়

মাসের পর মাস পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেও ভোগানিত্মর শিকার হচ্ছেন মানুষ । চাকরি, ব্যবসা, ভ্রমণ, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ সারতে প্রতিনিয়তই বিদেশে যেতে হয় দেশবাসীর। সরকারি বিধান অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরিতে কত দিনে পাসপোর্ট পাওয়া যাবে তার জন্য চার্টার রয়েছে। কিন’ পাসপোর্ট পেতে বিড়ম্বনা নিত্যসময়ের। পত্রপত্রিকায় এই সংস’ার অনিয়ম, দুর্নীতি, দালালদের দৌরাত্ম্য, এর অনিবার্য পরিণতি অতিরিক্ত অর্থব্যয় এবং হয়রানির খবর আসে। আমাদের পত্রিকায় চট্টগ্রামের পাসপোর্ট অফিসের নানাবিধ অনিয়ম, সময়মতো পাসপোর্ট পেতে মানুষের দুর্ভোগের বিসত্মারিত প্রতিবেদন উলেস্নখ করা হয়েছে। নগরীর মনসুরাবাদ এবং পাঁচলাইশ পাসপোর্ট কেন্দ্রে গেলে পাসপোর্টের জন্য মানুষের অবর্ণনীয় দুর্দশা এবং বিড়ম্বনার চিত্র দেখতে পাওয়া যাবে। তবে পাঁচলাইশ অফিসের কর্মকর্তা বই সংকটকে কারণ হিসেবে উলেস্নখ করলেও আরও বেশ কিছু কারণ অনুসন্ধান করতে পেরেছেন আমাদের প্রতিবেদক। এর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় সার্ভারে ত্রম্নটি, পাসপোর্ট ইস্যুতে প্রবাসীদের অগ্রাধিকার এবং দালালদের দৌরাত্ম্য। প্রতিবেদনে উলেস্নখ করা হয়েছে, পাসপোর্ট অফিসের বেশকিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী দালালচক্রের সাথে জড়িত, দালালদের মাধ্যমে আবেদনপত্র জমা দিলে সময়মতো পাসপোর্ট পেয়ে যাচ্ছেন সংশিস্নষ্টরা।

অথচ এ ধরনের কার্যকলাপ দুর্নীতি এবং জনগণকে তার যৌক্তিক অধিকার পেতে প্রবঞ্চনার সামিল। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ তাদের রিপোর্টে পাসপোর্ট পেতে দুর্নীতি, জনগণের বিড়ম্বনার কথা প্রায়ই উলেস্নখ করে। গণমাধ্যমেও এতদসংক্রানত্ম নানা প্রতিবেদন আসে। সরকার দুর্নীতির বিরম্নদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করলেও পাসপোর্ট অফিসে তার কোন প্রতিফলন নেই। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুর্নীতির বিরম্নদ্ধে কঠোর মনোভাব অবলম্বন করলেও সরকারের নানা দফতরের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ধরাকে সরাজ্ঞান করে যথারীতি তাদের দুষ্কর্ম চালিয়ে যেতে পারছেন। সেবাগ্রহীতারা নির্ধারিত ফি দিয়ে আবেদন করছেন, পাসপোর্ট সময়মতো না পাওয়ায় চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারছেন না অসুস’ ব্যক্তি, এটি খুবই অমানবিক। মধ্যপ্রাচ্যে চাকরি ঠিক হয়ে আছে, সময়মতো যোগদান না করলে চাকরি হারাতে হবে কিন’ পাসপোর্ট সময়মতো না পেলে তিনি কিভাবে বিদেশে যাবেন? পাসপোর্টের জন্য বারবার তদবির, দালাল ধরা- এসবেও প্রচুর সময়-অর্থ চলে যাচ্ছে। কর্মসংস’ান এবং রেমিটেন্সের বড়ো উৎস প্রবাসী শ্রমিক, অথচ পাসপোর্ট বিড়ম্বনায় পড়ে তাদের কর্মসংস’ানও অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে। আবার অনেকে ধর্মীয় কার্যাদি পালনেও বিদেশে যেতে চান, কিন’ পাসপোর্ট সময়মতো না পাওয়ায় তারা হতাশ হন। পাসপোর্ট না পেলে ভিসা বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা বলছেন অনেকে, এতে কর্মসংস’ানও অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক বই সংকটের কারণে আবেদন অনুসারে পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানান। তিনি দালালদের উৎপাত এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়মে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন সংবাদমাধ্যমে। আমাদের পত্রিকায় অনিয়ম-হয়রানির বেশ কিছু দৃষ্টানত্ম তুলে ধরা হয়েছে, পত্র-পত্রিকায় নানা লেখালেখি হয় পাসপোর্ট অফিসের নানা অনিয়ম দুর্নীতি-এ সবের সত্যতা সংশিস্নষ্ট দফতর অস্বীকার করবে কি করে। বই সংকট মেটাতে যুক্তরাজ্য থেকে ২০ লাখ বই আনার কথা বলেছেন পরিচালক আবু সাইদ, তিনি সার্ভারে ত্রম্নটির কথাও উলেস্নখ করেন তবে চলতি মাসে ই-পাসপোর্ট চালু হলে এ সংকট কেটে যাবে বলে তিনি জানান।

আমরা মনে করি সেবা পেতে জনগণের দুর্ভোগ, হয়রানি এবং দুর্নীতি ও দালালদের দৌরাত্ম্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপড়্গ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নেবে। কেননা এই বিষয়টি জনস্বার্থের দিক থেকে খুবই গুরম্নত্বপূর্ণ।