প্রত্যাবাসন চুক্তির পরও একই চিত্র

পালিয়ে এসেছে আরো ৭৫ হাজার রোহিঙ্গা

নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া

প্রত্যাবাসন চুক্তির পরও উখিয়া সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে এ পর্যন্ত পালিয়ে এসেছে প্রায় ৭৫ হাজার রোহিঙ্গা। সীমান্তের ওপারে বর্মি সেনারা ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে, নানাভাবে নির্যাতন করে রোহিঙ্গাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। যার কারণে আতংকগ্রস্ত হয়ে অবশিষ্ট রোহিঙ্গারা এপারে ধেয়ে আসছে।
জানা গেছে, দায়সারা প্রত্যাবাসন চুক্তিকে মিয়ানমার সেনারা গুরুত্ব দিচ্ছে না। তারা প্রতিরাতেই বিভিন্ন গ্রামে হানা দিয়ে রোহিঙ্গাদের নির্যাতন করছে। সীমান্ত এলাকায় এসে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে রোহিঙ্গাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। মিয়ানমার সেনারা রোহিঙ্গা নির্যাতনের অভিনব কৌশল হিসেবে রাখাইনে অবস’ানরত রোহিঙ্গাদের জোর করে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন (এনভিসি) কার্ড নিতে বাধ্য করছে। যেকারণে অবশিষ্ট রোহিঙ্গারা এপারে ধেয়ে আসছে। গত ২৩ নভেম্বর প্রত্যাবাসন চুক্তির পর থেকে এ পর্যন্ত ৭৪ হাজার ৬শ ১৮জন রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে বলে আইওএম প্রকাশিত মাসিক তথ্য বিবরণীর উদ্বৃতি দিয়ে রোহিঙ্গা নেতা ডা. জাফর আলম জানিয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস’া (আইওএম) প্রোগ্রাম অফিসার শিরীন আক্তার জানান, শনিবার অফিস বন্ধ থাকার সঠিক তথ্য দেওয়া যাচ্ছেনা।
সীমান্তের তুমব্রু কোনারপাড়া জিরো পয়েন্টে অবস’ানরত রোহিঙ্গা নাগরিক দিল মোহাম্মদ, মৌলভী আরফাতসহ একাধিক রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, গত ১মাস ধরে সশস্ত্র মিয়ানমার সেনারা তাদের
দেয়া কাঁটা তারের বেড়া পুনর্নির্মাণসহ যাবতীয় সংস্কার কাজের অজুহাতে ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। তারা রাতের যে কোন সময় এসে সীমান্ত এলাকায় ফাঁকা গুলিবর্ষণ করছে। যে কারণে জিরো পয়েন্টে অবস’ানকারী রোহিঙ্গারা রাতে ঘুমাতে পারে না। আতংকের মধ্যে রাত যাপন করতে হচ্ছে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে।
সদ্য আগত রোহিঙ্গা সোনা মিয়া (১৮) মুজিব উল্লাহ (২৬) জানায়, মিয়ানমার সেনারা মংডুর বিভিন্ন স’ানে ঝুঁকি নিয়ে অবস’ানরত রোহিঙ্গাদের বাড়ি ঘরে গিয়ে এনভিসি কার্ড নিতে বাধ্য করছে। যারা কার্ড গ্রহণ করছে না তাদের মারধর করছে। বাজারে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছে। অনন্য উপায় হয়ে এসব রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের ধনখালী ও নাইক্ষ্যংদিয়া ঘাট হয়ে ফিশিং বোট ভাড়া করে উখিয়ার বিভিন্ন উপকূলে উঠছে।
বালুখালী ক্যাম্পের মাঝি রাকিবুল্লাহ, কুতুপালং ক্যাম্পের মাঝি মুহিবুল্লাহ, কুতুপালং ৬নং ক্যাম্পের মাঝি আরফাত, কুতুপালং ১নং ক্যাম্পে মাঝি জাহাঙ্গীর আলমসহ বেশ কয়েক রোহিঙ্গা মাঝির সাথে প্রত্যাবাসন নিয়ে আলাপ করা হলে তারা জানান, দায়সারা চুক্তি নিয়ে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে না। তবে মিয়ানমার সরকার তাদের নাগরিক অধিকারসহ হারানো বসতভিটা ও স্বাধীন চলাফেরার সুযোগ নিশ্চিত করলে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে।
উখিয়া উপজেলা প্রত্যাবাসন ও সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, প্রত্যাবাসন সংক্রান্তসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ক্যাম্পে কর্মরত এনজিওদের সাথে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার মতবিনিময় হয়েছে। তবে প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে তাদের মুখ থেকে কিছুই উঠে আসেনি।
তাই প্রত্যাবাসনের নামে মিয়ানমার সরকার উদ্ভূত পরিসি’তি সামাল দেওয়ার জন্য একটি লোক দেখানো সমঝোতা চুক্তি করেছে বলে তিনি দাবি করেন।