রোহিঙ্গা ক্যাম্প

পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনে ৫৮৫ কোটি টাকার প্রকল্প

সুপ্রভাত ডেস্ক

উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নিয়ে থাকা প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার জন্য খাবার পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস’া করতে ৫৮৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার। ওই অর্থের মধ্যে প্রায় ৩৬১ কোটি টাকার যোগান দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাকি ২২৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন কার্যক্রমে জরুরি সহায়তা’ শীর্ষক এ প্রকল্প অনুমোদন পায়।
পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল পরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘নতুন ও পুরনো মিলিয়ে উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি ক্যাম্পে শরণার্থী হিসেবে বসবাসরত ১০ লাখ মানুষের স্বাস’্য ও জীবন মান উন্নয়নে এ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’
এ প্রকল্পের আওতায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাইপলাইনের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ করা হবে। এছাড়া ক্যাম্পের বর্জ্য ব্যবস’াপনা ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস’ার উন্নয়ন করা হবে। মন্ত্রী বলেন, বৈঠকে এ প্রকল্পটিসহ প্রায় ১৯ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকার ২১টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ১৭ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা, প্রকল্প সহায়তা খাত থেকে প্রায় ২ হাজার ২২৮ কোটি টাকা এবং সংস’ার নিজস্ব অর্থায়নে ২৩৪ কোটি টাকার যোগান দেওয়া হবে।
বৈঠকে অনুমোদন পাওয়া অন্যান্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার পুনঃনির্মাণ প্রকল্প: ব্যয় প্রায় ৬২৫ কোটি টাকা, ৩৫টি ড্রেজারসহায়ক জলযানসহ সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প: ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা, দ্বিতীয় নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প: ব্যয় হবে এক হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনসহ নর্দমা ও ফুটপাত উন্নয়ন প্রকল্প: ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭৭৫ কোটি টাকা, বরিশাল শহরের জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজিত নগর উন্নয়ন প্রকল্প: ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩০ কোটি টাকা, দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে টেলিটক নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ প্রকল্প: ব্যয় ৪০৬ কোটি টাকা, ঢাকা (কাঁচপুর)- সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেইনে উন্নীতকরণ এবং পৃথক সার্ভিস লেইন নির্মাণ প্রকল্প: ব্যয় ৩ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকা, কেরাণীহাট-বান্দরবান জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস’তা ও উচ্চতায় উন্নীতকরণ প্রকল্প: ব্যয় হবে ২৩৫ কোটি টাকা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প: ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়ের সাতটি আঞ্চলিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প: ব্যয় হবে প্রায় ১২৭ কোটি টাকা, সিপিজিসিবিএল-সুমিতোমো ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স’াপনের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ ও আনুষঙ্গিক কার্য়ক্রম প্রকল্প: ব্যয় এক হাজার ২৭০ কোটি টাকা, পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সংযোগ সড়ক ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প: ব্যয় হবে প্রায় ২৫১ কোটি টাকা, এস্টাব্লিশমেন্ট অব থ্রি হ্যান্ডলুম সার্ভিস সেন্টার ইন ডিফরেন্ট লুম ইনটেনসিভ এরিয়া প্রকল্প: ব্যয় প্রায় ৮৯ কোটি টাকা, নরসিংদীর বাংলাদেশ তাঁত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো সমপ্রসারণ প্রকল্প: ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ কোটি টাকা, বৃহত্তর ময়মনসিংহ পল্লী অবকাঠামো উন্নয় প্রকল্প: ব্যয় ৬৯০ কোটি টাকা, গড়াই নদী ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষণ প্রকল্প: ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫৯২ কোটি টাকা, চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের চর বাগাদী পাম্প হাউস ও হাজিমারা রেগুলেটর পুনর্বাসন প্রকল্প: ব্যয় হবে ১১৭ কোটি টাকা, রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্প: ব্যয় হবে ৩২১ কোটি টাকা, মহিষ উন্নয়ন (২য় পর্য়ায়) প্রকল্প, ব্যয় হবে প্রায় ১৬৩ কোটি টাকা, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প: ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।