পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভাসছে নিম্নাঞ্চল

পানিবন্দি চকরিয়া পেকুয়ার তিন লক্ষাধিক মানুষ

এম জিয়াবুল হক, চকরিয়া

তিনদিনের টানা বর্ষণে মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভাসছে চকরিয়া ও পেকুয়ার নিম্নাঞ্চল। গত রোববার পাহাড়ি ঢল নামতে শুরু করলে পৌরসভাসহ দুই উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের অন্তত ৩০ হাজারেরও বেশি বসতঘরে পানি প্রবেশ করে। পানিতে তলিয়ে গেছে গ্রামীণ সড়কগুলো। এ অবস’ার কারণে উপজেলার অভ্যন্তরীণ জিদ্দবাজার-মানিকপুর সড়ক, চিরিঙ্গা-বদরখালী সড়ক, কেবি জালাল উদ্দিন সড়ক ও বরইতলি-মগনামা সড়কসহ কয়েকটি আঞ্চলিক সড়কের উপর দিয়ে ঢলের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আঞ্চলিক সড়কে জীবনঝুঁকি নিয়ে অল্প সংখ্যক গণপরিবহন চলছে। এসব এলাকার অধিকাংশ বিদ্যালয়ে ঢলের পানি প্রবেশ করেছে। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার অমবস্যার জোয়ারে নদীতে পানি প্রবাহ বেড়ে গেলে চকরিয়া পৌরসভার একাংশ পাহাড়ি ঢলে ও বৃহৎ অপর অংশে পানিবন্দি রয়েছে হাজারো পরিবার।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পাহাড়ি ঢলের প্রবেশমুখ সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন ও কাকারা ইউনিয়ন ৪-৫ ফুট পানির নিচে তলিয়ে আছে। পাহাড়ি এলাকায় বর্ষণ অব্যাহত থাকলে বেড়িবাঁধ ভাঙ্গার আশংকা রয়েছে বলে জানান স’ানীয় বাসিন্দারা। এছাড়া চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, হারবাং, সাহারবিল, চিরিঙ্গা, পূর্ব বড় ভেওলা, বিএমচর, পশ্চিম বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, ফাঁশিয়াখালী, বদরখালী, ডুলাহাজারা, খুটাখালী ইউনিয়ন ও চকরিয়া পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডের মজিদিয়া মাদরাসা পাড়া, ভাঙ্গারমুখ, দিগরপান খালী, এক নম্বর ওয়ার্ডের চরপাড়া, ছাবেত পাড়া, কাজীর পাড়া, ৩নম্বর ওয়ার্ডের বাটাখালী সেতুর পাশের কয়েকটি গ্রামের অন্তত শতাধিক বসতঘর পানিতে ডুবে গেছে। অপরদিকে পেকুয়ার সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা, হরিনাফাড়ি, বিলহাছুরা, শিলখালী ইউনিয়নের হাজীর ঘোনা, মাঝের ঘোনা, জনতা বাজার, উজানটিয়া, মগনামা, রাজাখালী, টৈটং ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গিয়ে তিন লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
চকরিয়া পৌরসভার বাসিন্দা জিয়া উদ্দিন ফারুক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দাবি সত্বেও দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত নালা নির্মাণ না করা ও নালা পরিস্কার না করায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ২নং ওয়ার্ডের শমসের পাড়াসহ নিকটস’ মহল্লাগুলোতে। ওই এলাকার সিংহভাগ ঘরে পানি উঠেছে। এছাড়া বাটাখালী ব্রিজ থেকে থানার মোড় হয়ে মগবাজার পর্যন্ত জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আজিমুল হক আজিম জানিয়েছেন, টানা ভারী বর্ষণের কারণে রোববার সকালে মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামে। পানির প্রবল স্রোতে তাঁর ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা তলিয়ে যায়। দুইদিনের ভারী বর্ষণে ও নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ার কারণে ইউনিয়নের নদীর তীর এলাকার লোকজন চরম দুর্ভোগে রয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, গতকাল উপজেলা বরইতলী ও কাকারা ইউনিয়নে সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। বন্যাকবলিত পরিবারগুলোকে প্রাথমিকভাবে শুকনো খাবার দিতে সকল চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছি। চকরিয়া উপজেলার বন্যা পরিসি’তির ব্যাপারে জেলা প্রশাসককে অবহিত করে জরুরি ত্রাণ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম বলেন, চকরিয়া উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকার জনগণের খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বন্যার সার্বিক পরিসি’তি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রাণালয়ে জানানো হয়েছে। দুর্গতদের জন্য সরকারি বরাদ্দ আসতে বিলম্ব হলে আমি ব্যক্তিগতভাবে প্লাবিত এলাকায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেব।