পানকৌড়ি

মনিরম্নল কবির বাধন

শীতের মাঝামাঝি। বেশ জাঁকিয়ে পড়ছে শীত এবার। ইট কাঠের শহরে তেমনটা বুঝতে না পারলেও গ্রামে এসে বেশ কেঁপেই উঠলো ভুবন। কতই বা আর লাগবে ঠান্ডা! এই মনোভাবে পাতলা বেস্নজারটা ই শুধু এনেছে সে। ফলস্বরম্নপ কাঁপা-কাঁপির জোয়ার উঠলো তার শরীরজুড়ে। অসহ্য ঠান্ডায় অনভ্যসত্ম ভুবনের প্রথম রাতটা শীতের রাতের থেকেও দীর্ঘই হলো। ভোরে যখন সূর্যের আগমনী গানে কুয়াশা কাটতে লাগলো তখনও জুবুথবু হয়ে রইলো ভুবন। বেলা গড়িয়ে রোদে যখন তেজ ফিরলো তখনই কেবল নড়েচড়ে মানুষ হলো ভুবন। ব্যসত্ম কাজের সূচি বাদ দিয়ে গঞ্জের বাজার থেকে মোটা কাপড়ের সোয়েটার আর হাতের কাজ করা চাদর কিনে চিনত্মা কমালো। নিজের সাথে কথা দিয়ে আবহাওয়াকে মানিয়ে নেওয়ার দুঃসাহস মন থেকে মুছে ফেললো।

মেহেরাজ উলস্নাহ। ভুবনের প্রাতিষ্ঠানিক নাম। প্রাতিষ্ঠানিক কাজেই এ গ্রামে এসেছে ভুবন। স্বনামধন্য একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকের ছাত্র সে। পাশাপাশি সামাজিক অনেক কাজের সাথে জাতীয় এক দৈনিক এ পার্ট টাইম জব করে ভুবন। সে পত্রিকার বিশেষ সংখ্যার এক প্রবন্ধ তৈরির তথ্যসূত্রে এ গ্রামে এসেছে ভুবন। উঠেছে নন্দীপুর হাই স্কুলের প্রধান শিড়্গক আব্দুল মন্নানের বাড়িতে। চলিস্নশোর্ধ্ব আব্দুল মন্নান আজ প্রায় পনেরো বছর ধরে শিড়্গকতা করে যাচ্ছেন এ বিদ্যালয়ে। চাহিদার মুখ চাপাতে সে এখনো ঠিকে থাকলেও! কোন মতে ঠিকে থাকা বিদ্যালয়টিতে শিড়্গক বলতে ওনাকে ঘিরে ওই দুই চার জনই। শত চাহিদার এ যুগে কলুর বলদ বা কয়জন খাটে! মহান কাজে হলেওবা কি! তাই তো গ্রামবাসীর বেশ কষ্টের অল্প আয়োজনে মন্নান সাহেবের মত চাহিদা মুখ চেপে এই কয়জনই আছেন শুধু। তবুও খুশি এই যে স্কুল তো চলছে। কথায় বলে না নাই মামার চেয়ে কানা মামাই ভালো!

নন্দীপুর গ্রাম। নদী উপকূলের অখ্যাত এক গ্রাম। প্রায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন এ গ্রামে বাস করে শ’পাঁচেক মানুষ। নদী সংযোগের স্পর্শে অধিকাংশ মানুষের জীবিকা কাটে মাছ ধরে।  বাকি অল্প কিছু নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে হাল চাষে জীবন চালায় টেনেটুনে। শানিত্মর এক গ্রাম এই নন্দীপুর। চাহিদার স্বল্পতার ফলে শানিত্ম প্রচুর। মিলেমিশে সবাই এখানে সবার। যার ফলে অভাব আসলেও ঘরে, তা ফেরে হাসি মুখে। কেননা নন্দীপুরে সূর্য হাসে সুখের ঝিলিকে।

শীতের জড়তা কাটতেই গ্রাম ভ্রমণে বের হলো ভুবন। হাসিমুখের মানুষ জনের সাথে গ্রামটাও ঝলমল করে হাসছে। পটে আঁকা এক গ্রাম। প্রকৃতি উজাড় করে ভরছে এর রম্নপ ভা-ার। মুগ্ধতা ছুঁয়ে গেলো ভবনের মন মননে। সরল স্রোতে সহজেই জনজীবনে মিশে গেলো ভুবন। সখ্যতা হলো উত্তরপাড়া বয়োবৃদ্ধ রমেশ পালের সাথে।

বয়সের ভারে নুয়ে পড়া রমেশ স্মরণ শক্তিতে এখনো বেশ চনমনে। ভুবনের সাথে বেশ ভাব হলো রমেশের। জীবন পাড়ের ভাঙা গড়ার গল্প বলছিলো রমেশ। বলছিলো অনেক গল্প। কষ্টের, আনন্দের কিংবা অনেক কিছুর বা হতাশারও। মনোযোগী ভুবন গেঁথে নিচ্ছিলো সব অনত্মর জুড়ে। গল্পের পথচলায় উঠে এলো জীবনের কথা, যৌবনের কথা। উঠো এলো উত্তাল সাগর ঘেঁষা এ অজ পাড়া গায়ে আঁছড়ে  পড়া স্বাধীনতার উত্তাল ঢেউয়ের কথা। আবেগের উত্তাপ ছড়িয়ে সময়ের গল্প বলে যাচ্ছিলো রমেশ পাল……..।

বুঝলে দাদু ভাই, সময় তখন গরমের পর। বর্ষা এসে তখনও পৌঁছায়নি। গ্রামজুড়ে সবাই তখন মাছ ধরার আয়োজনে ব্যসত্ম। আমাদের জেলেপাড়া তখন অনেক বড়। পাড়ার সবই ছিলো কর্মব্যসত্ম। বর্ষা মানে মাছের ভরা মৌসুম। আর এ সময়টা কেউ হেলায় ছাড়তে চায় না। ফলে প্রত্যেক ঘরে ছিলো প্রস’তির মহাব্যসত্মতা। এমনি এক দিন ছিলো সেটা। হালকা বৃষ্টি ছিলো সকাল থেকে। আমরা এক বোটের সবাই তখন জাল ঠিক করছিলাম পুবের মাঠে। হঠাৎ হাঁপাতে হাঁপাতে আসলো নিতাই মজুমদারের মেঝো বেটা অর্জুন। বড় বড় চোখে বর্ণনা করলো বিশাল জাহাজের। জেলেপাড়ার সবারই মোটামুটি চেনা থাকে সব ধরনের জলযান। ওর কাছে জাহাজের খবরে সত্মব্ধতা নেমে আসে পাড়াজুড়ে। ততদিনে নন্দীর কারণে দেশের খবরাখবর সবার জানা।

রোজ সন্ধ্যা হরিশংকরের দাওয়ায় বসে নন্দীর সদ্য আনা রেডিও তে সবাই শোনে স্বাধীনতার কথা। ঝিম মেরে বসে থাকে সবাই। হানদারের অত্যাচারের বর্ণনায় কেঁদে উঠে তো আবার মুক্তিবাহিনীর সাফল্যে আনন্দে নেচে উঠে। সবাই বোঝে একটা কিছু হচ্ছে। পাকিসত্মানি হানাদারদের বর্বরতার চিত্র ততদিনে তারা জেনে গেছে। মানুষ রম্নপে এ হায়েনারা যে, সব অর্থে জঘন্য তা জানে জেলেপাড়া। নন্দীপাড়ায় হেঁটে হেঁটে জাগিয়ে তুলেছে সবাইকে। শুধু জেলেপাড়া নয় সমসত্ম গ্রামের সবাই এখন মনে প্রাণে মুক্তি।  উদয়নগর তখন উদ্দীপ্ত মুক্তির সূর্য।  ও হ্যাঁ তোমাকে তো বলতে ভুলে গেছি,  আমাদের গ্রামের নাম তখন ছিলো উদয়নগর।

আমাদের ছোট্ট উপকূলে ভিড়লো জাহাজ। গিজগিজ করে নামলো হানাদার। উদয়নগরের সূর্য সেদিন মেঘে ঢেকে গেলো। বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে গেলো গ্রামের এ প্রানত্ম থেকে ও প্রানত্ম। ঝড়ের বেগে পাল্টে গেলো চিত্র। মুক্তির উদ্দীপ্ত সুর্য হঠাৎ করে মলিন হয়ে পড়লো। জেলেপাড়ার জোয়ান ছেলে প্রায় সবাই মারা পড়লো। গ্রামের বেশ কিছু মানুষকে বেশ তেলতেলে হাসিতে পাকিসত্মানি মেজরের সাথে ঘুড়তে দেখা গেলো। রহিম শেখ, ইব্রাহীম আলী, জোয়ান মর্দ, হরিশংকর, জীবন ম-লসহ গ্রামের অনেকের জোয়ান মেয়েদের আত্মবিলাপে কেঁদে উঠলো উপকূল। বিধবা মমতার এক মাত্র কিশোরী কন্য ফাতেমা। ভয়ে আধামরা মেয়েটাকে মমতা লুকিয়ে রেখেছিলো গোয়াল ঘরে। বাড়ির পাশের রাজ্জাক আলি সেদিন দেখতেই বিলাপ উঠলো বিধবা মমতার। সেদিন সন্ধ্যায় ফাতেমার চিৎকার ভেসে আসলো উপকূল থেকে। রাজ্জাক আলি ছিলেন পাকিসত্মানি মেজরের সাথে তেলতেলে হাসি দেওয়া অন্যতম একজন। উদয়নগরকে কেন্দ্র করে চলতে লাগলো হানাদারদের ধ্বংসলীলা। জাহাজের পাশাপাশি বেশ কিছু বোট নিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে লাগলো তারা উপকূল। গ্রামের বেঁচে থাকা মানুষগুলো বেঁচে রইলো মানবেতরভাবে। তার মধ্যে ছিলাম আমি আদমও!

হানাদারদের হামলার প্রথম দিন থেকেই গ্রামে আর দেখা মিললো না নন্দীর। সবাই ভাবছিলো গণকবরে মনে হয় সেও ছিলো। প্রায় দিনই তার বৃদ্ধ পিতা হরিশংকরের কান্না ভেসে আসতো। মেয়েটাকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে মিলিটারি, ছেলেটা নিখোঁজ। সব খুইয়ে একেবারেই দম হারিয়ে ফেললো বৃদ্ধ হরিশংকর। পাশিপাশি বাড়ি হওয়ায় ওর কষ্টটা আমাকে বেশ পীড়া দিতো। বর্ষা তখন ঘন হয়ে আসছে। অঝোরে বর্ষণ হচ্ছিলো সেদিন। ভর সন্ধ্যায় দাওয়ায় উঠে আসলো নন্দী। তাকে দেখে হাসবো না কাঁদবো তাই ভুলে গেছি। “কাকাই খাইবার দাও যা পারো, ড়্গিধায় পেট চিড়ে যাবার লাগছে”- নন্দীর কথায় তন্দ্রা ভাঙলো। ভরপেটে খেয়ে দাওয়ায় ঘুমিয়ে পড়লো সে। রাজ্যের প্রশ্ন নিয়ে পাশে বসে রইলাম। রাতের শেষ প্রহরে জেগে উঠলো সে। জানালো এক অদ্ভুত কাহিনী।  হামলার দিন কোন মতে সরে পড়ে সে। গ্রামের শেষ মাথার বাঁশঝাড়ে রাত কাটলো। ধ্বংসলীলা দেখে ভোরেই গ্রাম ছাড়লো সে। পথে তার মতো আরো বেশ কয়েকজনের সাড়্গাৎ হলো। সবাই মিলে মেঘালয় থেকে অস্ত্র চালানো শিখে তারা এখন একটা দল। দলের নামও বেশ অদ্ভুত!  পানকৌড়ি!  পানকৌড়ি যেমন এখানে ডুব দিয়ে মুহূর্তে চলে যায় অন্যখানে, তারাও নাকি ঠিক তেমনি। নিজেদের স’ান পাল্টায় আক্রমণের মুহূর্তেই।

বেশ তাড়াহুড়োয় চলে গেলো নন্দী। অনেক জিজ্ঞাসা মুখ চেপে তার চলে যাওয়ায় বোবা দৃষ্টি ফেললাম। তার বাবাকে আসার খবর ভুলে ও না জানতে দিব্যি দিয়ে গেলো। সব আগের মতই চলছিলো। ছুতো খুঁজে রোজ কাউকে না কাউকে নির্যাতনের বলি হতে হয়। বর্ষা গড়িয়ে শীতের বার্তা আসলো। ইদানিং বেশ সরগরম দেখে যায় উপকূলে। রোজ তাদের বড় জাহাজ থেকে ছোট ছোট বোটে চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে আরম্ভ করলো পাকিসত্মানিরা। তবে অবস’ার পরিবর্তন হতে শুরম্ন করলো দ্রম্নতই। প্রায় তারা টহল সময়ে মানুষ আর বোট হারাতে লাগলো। ভোজবাজির মত হঠাৎ এসে পড়া গ্রেনেডে জ্বলতে আরম্ভ হলো তাদের বোট গুলো। সাঁতরে পাড়ে উঠতে গেলে মরতে হতো পাখির মতো। কোথা থেকে গ্রেনেড আসে কোথা থেকে গুলি! পাগলা কুত্তা অবস’া হলো পাকিসত্মানিদের। অদৃশ্য শক্তির ভয়ে তারা হামলে পড়লো উদয়নগরের উপর। রোজ কারো না কারো বাড়ি জ্বালিয়ে তৃষ্ণা মেটাতে আরম্ভ করলো তারা। এর মধ্যে নভেম্বর আসলো।

নভেম্বরের শেষ দিকে। বেশ শীত তখন। কুয়াশার চাদরে গ্রাম ঢাকা থাকে প্রায় দিন এমনি এক দিনে চুপিচুপি আমার বাড়িতে উঠে আসলো নন্দী। সাথে চারপাঁচ জন ছেলে। রোদের পোড়া চেহারা থেকে এখনও শিশুসুলভ মায়া যায় নি। নন্দীর মুখে শুনলাম তাদের গল্প। তারাই নাকি পানকৌড়ি।  গত তিন মাস ধরে উপকূলের পাকিসত্মানিদের ছেড়াবেড়া অবস’া তারাই করছে। এখন এসেছে অনিত্মম শয্য তৈরি করতে তাদের। তবে এই কয় মাসের অতর্কিত সব আক্রমণে বেশ দমে গেছে হানাদাররা। জাহাজ আর উপকূলে ফেলা ক্যাম্প ছেড়ে বের হয় না তারা। আর রোজ সকালে জাহাজ থেকে গ্রাম ও আশেপাশের চারদিকে কামান দাগে। কষ্টাটা তাই আগের মতই আছে উদয়নগরের। এ ভর রাতদুপুরে নন্দী আর তার পানকৌড়িকে দেখে মনের নিভে যাওয়া সব প্রদীপ জ্বলে উঠলো। পানকৌড়ি এর খাওয়া দাওয়ার সামর্থ্য আয়োজন করলাম। বেশ গল্প চলছিলো তাদের। হানাদারদের দুই ভাগ বিভক্তি বেশ সমস্যার সৃষ্টি করছে তাদের। কি ভাবে কি করবে তার আলাপে  রাত গভীর হলো। ক্লানত্ম তারা বাকি রাত বেশ আয়েশি ঘুমালো।

সেদিন নতুন মাস শুরম্ন হলো। বছরের শেষ মাস ছিলো। ডিসেম্বরের পয়লা দিন। বেশ ভোর। কুয়াশায় মনে হচ্ছে তখনও রাত। দুই ভাগ হলো পানকৌড়ি। একভাগে দলের সবাই। তারা আক্রমণ করবে উপকূলের ক্যাম্প। আর নন্দী যাবে জাহাজে। কুয়াশা ঢাকা নদীর ঢেউ সাঁতরে নিঃশব্দে জাহাজে উঠে মাইন পাতবে সে। বিশাল জাহাজে মাইন পোতা লাগবে বেশ অনেকগুলো। ধরা পড়া ভয়ের পাশাপাশি বিস্ফোরণে প্রাণ যাওয়া প্রায়ই নিশ্চিত। ওদের বিদেয় করে ঠাকুর ঘরে ঢুকলাম। নিজের সব সঁপে মায়ের কাছে আর্জি জানালাম দেশ মায়ের সত্যিকারের সনত্মানগুলোর জন্য। কত সময় কাটলো জানা নাই। হঠাৎ উপকূল থেকে ছুটে আসলো গুলির শব্দ। মুহূর্তে শুরম্ন হলো কানফাটা আওয়াজ।  আরো খানিক পর বেশ বিকট শব্দ আসলো নদীর বুক থেকে। কুয়াশা ভেদ করে লেলিহান অগ্নিশিখা আকাশ ছুতে লাগলো। পুরো গ্রাম ছুটে এলো পুবের মাঠে। সময় গড়িয়ে সূর্য উঠলো আকাশে। কুয়াশা কেটে গেলো। গ্রাম ভেঙে পড়লো উপকূলে। ক্যাম্প আছে আগের মতই! শুধু পুরো এলাকা জুড়ে রক্তের গড়াগড়ি। চোখ ছুটে গেলো নদীর বুকে। বিশাল রক্তচড়্গু করে দাঁড়িয়ে থাকা জাহাজের জায়গায় ভাসছে তার পোড়া আর ভাঙা সব অংশ। এখানে সেখানে ভাসছে পোড়া,  আধাপোড়া সব লাশ। সে এক বিভৎস দৃশ্য! চারদিকে এ এক ধ্বংসের মহাযজ্ঞ!  জীবন এখানে হিসাব মিলালো বিবর্ণ রম্নপে।

উদয়নগরে পহেলা ডিসেম্বরের সূর্য উঠলো মুক্তির উত্তাপে।  নন্দীর দেওয়া দেশের পাতাকাটা উড়িয়ে দিলাম পরম মমতায় বড় বাঁশের মাথায়। বাংলাদেশ শব্দে শ্বাস নিলাম প্রথমবারের মত। বেলা গড়ার সাথে সাথে গ্রামে প্রাণ ফিরলো পূর্ণ জোয়ারে। আমার বয়সি কয়েকজনকে মিলে নন্দীর সহযোদ্ধাদের খুঁজে বের করলাম। বেশ কয়েকজনকে নামিয়ে দিলাম নদী কূলে, কয়েকজন নামলো নৌকা নিয়ে। তন্ন তন্ন করে খুঁজেও পাওয়া গেলো না নন্দীকে। খোঁজায় ড়্গানত্ম দিয়ে ফিরলো সবাই। মন খারাপের ছায়াছবি সবার মুখজুড়ে। এক সাথে শুয়ে আছে পানকৌড়ি এর সবাই উদয়নগরের মাটিতে। শুধু নেই সেই মাটির ছেলে নন্দী। উদয়নগরের মাটির ঘ্রাণ মাখা নন্দীর আশ্রয় দিতে না পেরে উদয়নগর তাইতো নিজকে গুটিয়ে নিয়ে আজ পরিচিত হচ্ছে নন্দীপুর নামে। চৌষট্টি হাজার গ্রামের প্রিয় মাতৃভূমির ভালোবাসায় এভাবে বেঁচে থাকবে নন্দীরা সময়ের বহমান স্রোতজুড়ে। অসিত্মত্বজুড়ে সুবাস ছড়াবে মাটির ভালোবাসার।

সূর্য বাড়ি ফিরছে আরো অনেক আগে। রমেশ পালের দাওয়ায় বসে রাতের আহার সেরে তখন ও স্মৃতিচারনে মুগ্ধ ভুবন। নন্দীপুরে নন্দীর গল্পে সময় তখন মধ্যরাতের আরো পর। সেদিনের মত বিদায় জানিয়ে রমেশ পালকে রেখে পথে নামলো ভুবন। বাংলার পথ। এ দেশের প্রত্যেকটা পথ তৈরি হয়েছে লড়্গ নন্দীর রক্ত রাঙিয়ে। আঁধারে এ পথ হাঁটতে গিয়ে আজ তাইতো ভুবনের চোখ ভিজে উঠে, মাথা নুয়ে আসে। এ নুয়ে আসা মাথা চিৎকার করে বলে ভালো থেকো সব পানকৌড়িরা, সব নন্দীরা।

এই কয়দিনের আয়োজন ছেড়ে নীড়ের পথে ধরলো ভুবন।

ভুবন এসেছিলো মায়ের জন্য মাটির গল্প খুঁজতে। মায়ের জন্য এর থেকে আর ভালো কোন মাটির গল্প হতে পারে..?