পাক জেনারেলকে জড়িয়ে ধরে আক্রমণের মুখে সিধু

সুপ্রভাত বহির্বিশ্ব ডেস্ক

পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে গিয়ে সে দেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে সহাস্য কোলাকুলি করে বিতর্কে জড়িয়েছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও অধুনা রাজনীতিবিদ নভজোত সিং সিধু। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নিবাসে ইমরান খানের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানেই দেখা গেছে, সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া নিজে থেকেই এগিয়ে এসে ভারত থেকে আসা অতিথি সিধুকে জড়িয়ে ধরেছেন। অন্তত দুবার তাদের ‘হাগ’ করতে দেখা যায়। হাসিমুখে বেশ কিছু কথাবার্তারও আদানপ্রদান হয় তাদের মধ্যে। খবর বিবিসি বাংলার।
নভজোত সিধুর সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের সেই ছবি সামনে আসার পর থেকেই ভারতের সোশ্যাল মিডিয়াতে সিধুকে আক্রমণের মুখে পড়তে হচ্ছে।
অনেকেই মন্তব্য করেছেন, ‘শত্রু রাষ্ট্রের সেনাপ্রধানের সঙ্গে গলাগলি করে’ তিনি কাজটা মোটেই ভাল করেননি।
হরিয়ানার বিজেপি সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী অনিল ভিজ আরও এক ধাপ এগিয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘পাকিস্তানি সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে ধরে সিধু নিজের দেশের সঙ্গে বেইমানি করেছেন।’
এমন কী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর মৃত্যুতে ভারত যখন সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে তখন নভজোত সিধুর ওই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যাওয়াই উচিত হয়নি বলেও কেউ কেউ বলছেন। এই সব সমালোচনার মুখে নভজোত সিধু অবশ্য দাবি করেছেন, জেনারেল বাজওয়ার সঙ্গে তার শুধু শান্তি নিয়েই কথা হয়েছে। ভারতের একটি টিভি চ্যানেলকে সিধু বলেছেন, ‘জেনারেল বাজওয়া এগিয়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরেন – আর তারপরেই বলেন আমি এমন একজন সেনাপ্রধান যে আসলে ক্রিকেটার হতে চেয়েছিল!’ ‘উনি তার পরেই বললেন, নভজোত – উই ওয়ান্ট পিস!’
সিধু আরও জানিয়েছেন, পাকিস্তানের কর্তারপুরে যে গুরদোয়ারা দরবারা সাহিব আছে সেখানে আগামী ২০১৯ সালে গুরু নানকের ৫৫০তম জন্মবার্ষিকীতে ভারতের শিখ তীর্থযাত্রীদের জন্য একটি করিডোর খোলা হবে বলে পাকিস্তানি জেনারেল তাকে ‘নিজে থেকেই’ কথা দিয়েছেন।
শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গুরু নানক দেবের সমাধিস’ল পাকিস্তানের ওই গুরদোয়ারাতেই – আর শিখদের কাছে তা অত্যন্ত পবিত্র তীর্থস’ান বলে গণ্য হয়।
তবে ভিসার হয়রানির কারণে ভারত থেকে সেখানে যাওয়া মোটেই সহজ নয় – কিন’ সিধু বলছেন, পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের প্রতিশ্রুতি তার কাছে একটা ‘ড্রিম কাম ট্রু’ – অর্থাৎ স্বপ্ন পূরণের মতো ব্যাপার।
সীমান্তের দুপারে পাঞ্জাবের বাজওয়া, সিধু, সান্ধু, চিমা – এই সব পদবীর লোকেরা যে আসলে সবাই ‘জাঠ’ পরিবারভুক্ত এবং তারা পরস্পরের প্রতি আলাদা একটা টান অনুভব করেন, সেটাও অবশ্য জানাতে ভোলেননি এই সাবেক ক্রিকেটার।