পাওনা টাকা চাওয়ায় রাউজানের গৃহবধূকে পাহাড়ে নিয়ে হত্যা

0
121

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাউজান <
রাউজানের শাহানা আকতার (২৮) নামে এক গৃহবধূকে পাহাড়ে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে রাঙামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার মনাইরটেক নামক এলাকার পাহাড় থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত শাহানা আকতার রাউজান পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ছত্রপাড়া গ্রামের মান্নান উল্লাহ সিকদার বাড়ির হাছি মিয়া সিকদারের মেয়ে ও রাউজান সদর ইউনিয়নের নাতোয়ান বাগিছা এলাকার শমসের নগরের গুচ্ছ গ্রামের মো. সাঈদুল আলমের স্ত্রী।
কাউখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক মহিবুল ইসলাম বলেন, নিহত শাহানা আকতারের সঙ্গে তার শ্বশুর বাড়ির প্রতিবেশী সুজন বড়ুয়ার স্ত্রীর সাথে বোন ডাকাডাকি হয়। পরে শাহানা আকতারের কাছ থেকে সুজন বড়ুয়া ৩০ হাজার টাকা ধার নেয়। এই ধারের টাকা পরিশোধ নিয়ে সুজন বড়ুয়ার সাথে বিরোধ চলে আসছিল। শাহানা আকতারকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধারের সময় সুজন বড়ুয়া তাকে পাহাড়ে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে। নিহত শাহানা আকতারের গলায় ও শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে। কিল-ঘুষি, লাথি ও লাঠি দিয়ে এসব আঘাত করতে পারে বলে ধারণা পুলিশের।
নিহত শাহানার পরিবারের দাবি, রোববার রাতে সে তার শ্বশুরালয়ে ছিল, কোন এক সময় তাকে নিয়ে গেছে। পাহাড়ে শাহানা আকতারকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পায় দুই আদিবাসী ছেলে। এ সময় তারা শাহানার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। দুই আদিবাসীর কাছে সুজন বড়ুয়া তাকে পাহাড়ে নিয়ে গেছে উল্লেখ করে বাপের বাড়ি ও শ্বশুর বাড়ির ঠিকানা বলেন। পরে ওই দুই আদিবাসী পুলিশ ও স্বজনদের খবর দিলে পুলিশ ও স্বজনরা উপস্থিত হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদ উল্লাহ বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী মো. সাঈদুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। এদিকে সুজন বড়ুয়া পুলিশের নজরদারিতে আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ পরিদর্শক মহিবুল ইসলাম।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, বিষয়টি জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ১৩ বছর আগে রাউজান পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ছত্রপাড়া এলাকার হাছি মিয়া সিকদারের মেয়ে নিহত শাহানা আকতারের সঙ্গে রাউজান উপজেলা সদর ইউনিয়নের শমসের নগরের গুচ্ছ গ্রামের মো. সুলতান আহমেদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের দুই ছেলে সন্তান রয়েছে।