পাওনা আদায়ে এবার নিজ মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ চসিক

মোহাম্মদ আলী

সরকারের ৩২টি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ২৭৩টি প্রতিষ্ঠানের ২ হাজার ২৮১টি হোল্ডিংয়ের বিপরীতে গৃহকর বাবদ পাওনা প্রায় ১৪৩ কোটি আদায়ে অবশেষে নিজ মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এসব পাওনা পরিশোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগে চিঠি (ডিও লেটার) দিয়েছেন চসিকের প্রধান নির্বাহী মো. সামসুদ্দোহা। ৩২টি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে খোদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে চসিকের পাওনা প্রায় এক কোটি ১৫ লাখ টাকা।
জানতে চাইলে ঢাকায় অবস্থানরত মো. সামসুদ্দোহা মুঠোফোনে সুপ্রভাতকে বলেন, ‘গত বুধবার আমি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছি। আজকের মধ্যে (বৃহস্পতিবার) চিঠি পাঠিয়ে দেওয়ার কথা।’
তিনি জানান, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সময়মত গৃহকর পরিশোধ করে না। প্রতিষ্ঠানের প্রধানরাও এ ব্যাপারে তাদের মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেন না। মন্ত্রণালয়ও তাই বরাদ্দ দেয় না। গৃহকর খাতের অর্থ কিন্তু অন্য খাতে ব্যয় করা যায় না। আমরা স্থানীয় সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করেছি। এবার আমরা স্থানীয় সরকার বিভাগে চিঠি দিলাম। আগামী রোববার অথবা সোমবারের মধ্যে বাকি ৩১টি মন্ত্রণালয়েও গৃহকর পরিশোধে অর্থ বরাদ্দের জন্য আলাদাভাবে চিঠি দেওয়া হবে।’
রাজস্ব বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে লিখা চিঠিতে প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আয়ের মূল উৎস গৃহকর ও রেইট। নগরবাসীর সার্বিক সেবা প্রদান নিশ্চিতকল্পে করপোরেশনে নিয়োজিত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি পরিশোধ, নগরীর আবর্জনা অপসারণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সড়ক, আলোকায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, খাল খনন ও নালা-নর্দমা সংস্কার পূর্বক জলাবদ্ধতা নিরসন ইত্যাদি বহুমুখী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সিংহভাগ ব্যয় গৃহকর ও রেইট থেকে নির্বাহ করা হয়। বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের নিকট চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিপুল অংকের বকেয়াসহ হাল গৃহকর ও রেইট পাওনা রয়েছে। ৩২টি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থা/প্রতিষ্ঠানের কাছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত বকেয়া ১২৮ কোটি ৫০ লাখ ১১ হাজার ২৭২ টাকা এবং ২০১৭-১৮ আর্থিক সালের ১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৮২ হাজার ৬০৪ টাকাসহ মোট ১৪২ কোটি ৪৪ লাখ ৯৩ হাজার ৮৭৭ টাকা পাওনা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করা হলে বলা হয়, মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় কর পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
গৃহকর পরিশোধে অধীনস্থ সংস্থার অনুকূলে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য চিঠিতে সচিবের কাছে অনুরোধ জানান প্রধান নির্বাহী মো. সামসুদ্দোহা।
চসিকের রাজস্ব বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ৩২টি মন্ত্রণালয় থেকে বকেয়া ও হাল গৃহকরসহ মোট পাওনার মধ্যে খোদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকেই এক কোটি ১৫ লাখ ৩৬ হাজার ১০৫ টাকা পাবে চসিক। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জাতীয় মৎস সমবায় সমিতি থেকে বকেয়া ও হালসহ সর্বোচ্চ ৩১ লাখ ৬১ হাজার ৭২৩ টাকা গৃহকর পাওনা রয়েছে চসিকের। এছাড়া চট্টগ্রাম ওয়াসা থেকে ১৯ লাখ ৩২ হাজার ৬৫০ টাকা, জেলা প্রশাসক কোর্ট হিল থেকে ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৮ টাকা, বাংলাদেশ মৎস উন্নয়ন করপোরেশন থেকে ১৮ লাখ ৯৪ হাজার ১৪০ টাকা, জেলা পরিষদ চট্টগ্রাম থেকে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৮০২ টাকা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধীদপ্তর থেকে ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৮০০ টাকা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল থেকে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৬৮ টাকা, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জেলা প্রশাসন থেকে ২ লাখ ৯৬ হাজার ১৪০ টাকা, আঞ্চলিক পরিচালক লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং নির্বাহী প্রকৌশলী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পাবলিক হেলথ থেকে ৩০ হাজার ৪ টাকা বকেয়া ও হাল গৃহকর পাওনা রয়েছে চসিকের।
উল্লেখ্য, গৃহকর পরিশোধে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর ৩২টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবদের পৃথক চিঠি দিয়েছিলেন চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। সর্বশেষ গত রোববার ৮৬ কোটি টাকা পাওনা পরিশোধে অর্থ বরাদ্দের জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়েছেন তিনি।