সাংবাদিকদের সিডিএ চেয়ারম্যান

পাঁচ বছর পর নগরী হবে যানজট ও জলাবদ্ধতামুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
press-confarence-of-cda-cha

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেছেন, ‘আগামী পাঁচবছর পর চট্টগ্রাম নগর হবে যানজট ও জলাবদ্ধতামুক্ত।’ গতকাল শনিবার দুপুরে নগরের জিইসি ওয়েল পার্ক রেসিডেন্সে ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সমপ্রসারণ, সংষ্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে চালু করা হবে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার। ষোলশহর দুই নম্বর গেইট এলাকায় র্যা ম্প ও ল্যুপ নির্মাণ শেষ হলেই খুলে দেয়া হবে ফ্লাইওভারটি। এটি পুরোপুরি চালু হলে জিইসি মোড়ের চারটি র্যা ম্প কাজ শুরু হবে।’ প্রসঙ্গত, চলতি বছর ১৬ জুন এ ফ্লাইওভারটির একটি লেইন পরীক্ষামূলকভাবে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছিল।
অতি সম্প্রতি একনেকে পাস হওয়া ১৪ হাজার কোটি টাকার ৩টি মেগা প্রকল্প আগামী ৩ বছরের মধ্যে শেষ হবে বলে উল্লেখ করে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ তিন বছরে নগরের প্রধান ৩৬টি খালের সমপ্রসারণ, সংস্কার, মাটি খনন কাজ এবং ৪৮টি সেতু উঁচু করা হবে। প্রতিটি খালের পাড়ে ৪৭ কিলেমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হবে। বিভিন্ন খালে ২৮টি স্লুইস গেইট করা হবে। এগুলো নির্মাণের পর আগ্রাবাদ সিডিএ, হালিশহর, খাতুনগঞ্জ, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট এলাকায় আর জলাবদ্ধতা হবে না। ১৯৯৫ সালের ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান এবং ওয়াসার প্রণীত মাস্টারপ্ল্যান আপডেট-২০১৬’র সমন্বয়ে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।’
চলমান উন্নয়ন প্রকল্প, এসবের বাস্তবায়ন এবং একনেকে অনুমোদিত চট্টগ্রাম নগরে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘২০১৪ সালের ১২ নভেম্বর আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৬২ কোটি টাকা। পরে দুই নম্বর গেইট ও জিইসি মোড়ে র্যা ম্প ও লুপ যুক্ত হওয়ায় প্রকল্প ব্যয় বেড়ে হয়েছে ৬৯৮ কোটি টাকা। সেই সাথে প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।’
মতবিনিময়ে সিডিএ চেয়ারম্যান লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ আগামী অক্টোবর থেকে শুরু করার কথাও জানান। আবদুচ ছালাম বলেন, ‘৩২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ ফ্লাইওভারে টাইগারপাস, আগ্রাবাদ, বারিক বিল্ডিং, কাস্টমস মোড়, ইপিজেড, কেইপিজেড, কাঠগড় ও সি-বিচ এলাকায় গাড়ি ওঠা-নামার ব্যবস’া থাকবে।’
ফৌজদারহাট-বায়েজিদ বোস্তামি বাইপাস সড়কের কাজ প্রায় ৪০ শতাংশ শেষ হয়েছে বলে উল্লেখ করে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘২০১৮ সালে এ বাইপাস সড়কটি নগরবাসীকে উপহার দেয়া হবে। এছাড়া পতেঙ্গা-ফৌজদারহাট রিং রোডের কাজও ২০১৯ সাল নাগাদ শেষ হবে।’
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপসি’ত ছিলেন সিডিএ’র বোর্ড সদস্য জসিম উদ্দিন শাহ, কেবিএম শাহজাহান, স’পতি সোহেল শাকুর, সিডিএ প্রধান প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহিনুল ইসলাম খান ও উপসচিব অমল গুহ।