পর্যটননগরী কক্সবাজার : অবৈধ দখলে যাচ্ছে ফুটপাত

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার

শুরু হয়েছে ঈদের কেনাকাটা। কক্সবাজার শহরের অলিগলি এখন লোকে লোকারণ্য। ঈদকে পুঁজি করে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ও দেশের অন্যতম পর্যটন শহর কক্সবাজারের ফুটপাত দিন দিন অবৈধ দখলদারদের দখলে চলে যাচ্ছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনার কারণে সড়কের ওপর দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। এতে করে বিভিন্নভাবে যানজটের সৃষ্টি হয়, সম্মূখীন হতে হয় দুর্ঘটনার। ফুটপাতের ওপর অস্থায়ীভাবে জায়গা দখল করে বেচাকেনা শুরু করেছে বিভিন্ন বিক্রেতা। প্রশাসনের চোখে ধূলি দিয়ে শহরের প্রাণকেন্দ্র বাজারঘাটা, লালদিঘির পাড়সহ ভোলাবাবুর পেট্রোল পাম্পের ফুটপাতের স্থান দখল করে নিয়েছে ফল ও মাছ বিক্রেতারা। হাঁটার জন্য যথেষ্ট পরিমান জায়গা না থাকায় প্রধান সড়ককেই হাঁটার একমাত্র অবলম্বন হিসেবে বেছে নিয়েছে পথচারীরা।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ফুটপাত দখল করে বিভিন্ন প্রকার অস্থায়ী েেদাকানপাট তৈরি করে কেনাবেচার কারণে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ লাইনের যানজট। শুধু বাজারঘাটা নয় বরং ভোলাবাবুর পেট্রোল পাম্প, হাসপাতাল সড়ক, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সড়ক, ফাইয়ার সার্ভিসের পাশে, বন বিভাগের সামনেও চলছে তাদের রাজত্ব।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কিছু অসাধু চাঁদাবাজ রাজনৈতিক ব্যক্তির ছত্রছায়ায় শহরের প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন পয়েন্টে শত-শত অবৈধ দোকানঘর বসিয়ে মোটা অংকের ভাড়া আদায় করছে। শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিরা নয় বরং দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশও তাদের কাছ থেকে দৈনিক ও মাসোহারা নিয়ে থাকে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
সামপ্রতিক সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেও উচ্ছেদের পরপরই দেখা যায় পুনরায় একই পরিসরে তা স্থাপন করা হচ্ছে। তবে এর মধ্যে যদি কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির কোনো অবৈধ স্থাপনা থাকে তবে তা তারা রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে উচ্ছেদ তালিকা থেকে বাদ যায়।
এ ব্যাপারে পথচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন অফিসের কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে হাসপাতাল সড়কের চার রাস্তার মোড়ে ফুটপাতের পাশে অবস্থিত বিভিন্ন ধরনের সবজি-ফলের দোকান থাকার কারণে চলাফেরায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে রাস্তার ওপর চলাফেরা করতে হয় এবং বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন যানজটের সম্মুখীন হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করেছিলাম। তবে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যতদিন পর্যন্ত আমি থাকব ততদিন এই কক্সবাজারবাসীর সেবা করে যাব। পর্যটন কক্সবাজারকে মডেল হিসেবে গড়ে তুলব