‘পরিবেশবান্ধব পর্যটনস্পট গড়ে তোলা হবে’

নিজস্ব প্রতিনিধি, চকরিয়া

চকরিয়ায় প্রকৃতি ও পরিবেশ বাঁচাই : স্লোগানে জীববৈচিত্রের সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে গঠিত ফাঁসিয়াখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও মেদাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির কাউন্সিল সভা গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও উপজেলা ক্রেল প্রকল্পের সাইট অফিসার মো. আব্দুল কাইয়ুমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আলম। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান, ্‌উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আতিক উল্‌লাহ, ফাঁসিয়াখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, সদস্যসচিব ফাসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মতিন, সহ-সভাপতি সাহাবুদ্দিন, এস এম আবুল হোসেন. বাহাদুর হক, ক্রেল প্রকল্পের কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন।
সভায় রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মতিন কমিটির আগের রেজুলেশন পাঠ করেন। একই সাথে দুটি সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির আর্থিক প্রতিবেদন তুলে ধরেন মেদাকচ্ছপিয়া সিএমসির কোষাধ্যক্ষ রাজিয়া সুলতানা ও ফাসিয়াখালীর কোষাধ্যক্ষ এলমুন্নাহার মুন্নী। এছাড়া ছয় মাসিক অগ্রগতি প্রতিবেদন আলোকপাত করেন ফাঁসিয়াখালী সিএমসির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ও মেদাকচ্ছপিয়া সিএমসির সভাপতি এস এম আবুল হোসেন।
সভায় নেকম-ক্রেল প্রকল্পের অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন আব্দুল কাইয়ুম। তিনি বলেন, ক্রেল প্রকল্প হল পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প যা ইউএসএইড-এর অর্থায়নে এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনালের কারিগরি সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। মাঠপর্যায়ে সকল কার্যক্রম সম্পাদন করছে ন্যাচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্ট (নেকম)। বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, পরিবেশ-প্রতিবেশ উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন ও পরিবেশবান্ধব টেকসই জীবিকায়ন নিয়ে কাজ করা এবং সংশ্লিষ্ট সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি ও স্টেকহোল্ডারদের সাথে সমন্বয় ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ। তিনি আরও বলেন, বিগত ছয় মাসে নেকম- ক্রেল প্রকল্প বেতের ও বাঁশের চারা রোপণ, ফলের বাগান, ড্রাগন ফলের চাষ, উন্নত সবজি চাষসহ বিকল্প জীবিকায়নের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তিনি ক্রেল প্রকল্পের সকল কর্মকাণ্ডের ওপর সচিত্র আলোকপাত করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম উপস্থিত দুটি সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সকলের কাছ থেকে সমস্যার কথা শোনেন। তিনি বনাঞ্চল অধ্যুষিত এলাকায় বালি উত্তোলনকারীদের সীমানা নির্ধারণ করতে ভূমি সার্ভেয়ার ও বনবিভাগের সার্ভেয়ারসহ টিম পাঠানোর আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে গাছ নিধন ও দখল-বেদখল বন্ধ করতে হবে। তার জন্য সমাজের সকল স্তরের মানুষকে যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বনাঞ্চলের ভেতর পরিবেশবান্ধব পর্যটনস্পট গড়ে তুলতে কাজ চলছে। পর্যটনশিল্পের বিকাশ হলে সেখানে আর বনজসম্পদ উজাড় ও দখল-বেদখলের প্রবণতা কমে যাবে।