পরিবারের হাল ধরা হলো না সোমার

আজিজুল কদির

পরিবারের হাল ধরার আগেই ঘাতক কাভার্ডভ্যান কেড়ে নিল কলেজশিড়্গার্থী সোমা বড়ুয়ার প্রাণ। মাটি হয়ে গেল একটি পরিবারের স্বপ্ন। ধ্বংস হয়ে গেল বাঁচার শেষ অবলম্বনটুকু।
গতকাল সকাল ১০টার দিকে কোতোয়ালি মোড়ে কাভার্ডভ্যান চাপায় নিহত হন সোমা বড়ুয়া।
সরকারি সিটি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক বাণিজ্য বিভাগের প্রথম বর্ষের শিড়্গার্থী সোমা বড়ুয়ার (১৮) মর্মানিত্মক মৃত্যু কাঁদিয়েছে সবাইকে। গতকাল সকাল ১০টায় বাসযোগে কলেজে যাওয়ার পথে
কোতোয়ালী মোড়ে নেমে রাসত্মা পার হচ্ছিলেন সোমা। হঠাৎ বিপরীত দিক থেকে আসা কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় সোমা ছিটকে পড়েন রাসত্মার কিনারে। ওখানেই তার মৃত্যু হয়।
সোমা বড়ুয়া চান্দগাঁও থানার বাহার সিগন্যাল এলাকার বড়ুয়া পাড়ার রূপায়ণ বড়ুয়ার মেয়ে। তিন বোনের মধ্যে সোমা ছিলেন সবার ছোট। ২০১৮ সালে নুরম্নল ইসলাম পৌর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে সিটি কলেজে ভর্তি হন সোমা।
সোমার মামা কাঞ্চন বড়-য়ার সাথে কথা বলে জানা গেছে, তার মা কুমকুম বড়ুয়া বোয়ালখালীর একটি স্বাস’্যকেন্দ্রে অফিস সহায়ক হিসাবে কাজ করে সংসার চালিয়ে আসছেন। ১০ বছর আগে এক দুর্ঘটনার পর থেকে পিতা রূপায়ণ বড়ুয়া মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। এরপর থেকে সংসারের একমাত্র উপার্জনড়্গম ব্যক্তি মা কুমকুম বড়ুয়া। চাকরি করে বড় দুই মেয়েকে এইচএসসি পর্যনত্ম পড়িয়ে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়ে সোমাকে কলেজে ভর্তি করিয়ে উচ্চশিড়্গায় শিড়্গিত করে তুলবেন আশায় ছিলেন। সোমা লেখাপড়া শেষ করে একটা ভালো চাকরি নিয়ে পরিবারের হাল ধরবে। কিন’ কলেজ জীবনে সবে পা রাখতেই পরিবারের সেই স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিল ঘাতক কাভার্ডভ্যান।
প্রতিবেশী চাচা উৎপল বড়ুয়া বলেন, ছোটবেলা থেকে সোমা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলত। সবার সাথে হাসিখুশিতে মেতে থাকতো। পরিবারের অসচ্ছলতা দেখে সে অনেকবার চেয়েছে মাকে কোনো না কোনোভাবে সহায়তা করতে। কিন’ মায়ের আবদার ছিল লেখাপড়া শেষ করে সে পরিবারের হাল ধরম্নক, তার আগে নয়। তারপরও কলেজে ওঠার থেকে সে নিজ থেকে চাকরির সন্ধানে ছিল। ঘাতক কাভার্ডভ্যান চুরমার করে দিল সোমা ও তার পরিবারের স্বপ্ন।
সরকারি সিটি কলেজের অধ্যড়্গ ঝর্ণা খানম সুপ্রভাতকে বলেন, সোমা বড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনা বড়ই মর্মানিত্মক। অকস্মাৎ একটি স্বপ্নের এমন অপমৃত্যু মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি আমরা।