কোতোয়ালীঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

পরিত্যক্ত ভবনে পাঠদান

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাউজান

রাউজান উপজেলার ৪ নম্বর গহিরা ইউনিয়নের কোতোয়ালীঘোনা এলাকায় হালদা নদীর তীরে ১৯৩২ সালে ৫৬ শতক জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠালগ্নে বাঁশের বেড়া টিনের ছাউনি দিয়ে নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে একটি ভবন নির্মাণ করে স্কুলের পাঠদান করা হয়। বর্ষায় ভবনটির ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। পুরাতন ভবনের ছাদে ও দেওয়ালের মধ্যে অসংখ্য ফাটল সৃষ্টি হয়েছে । গত ২০১১ সালে স’ানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর পুরাতন ভবনের পাশে একটি চার কক্ষবিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণ করে।
নতুন ভবনের একটি কক্ষে প্রধান শিকক্ষ ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অফিস। অবশিষ্ট ৩টি কক্ষে প্রাক প্রাথমিক, ১ম ও ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। নতুন ভবনে কক্ষ না থাকায় ৩য়, ৪র্থ, ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পুরাতন পরিত্যক্ত ভবনে পাঠদান করতে হচ্ছে। ভবনটির ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ছে বিভিন্ন স’ানে। পরিত্যক্ত ভবনের দেওয়ালে ও বিভিন্ন স’ানে ফাটল দেখা দিয়েছে। স’ানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী সরেজমিনে গিয়ে পুরাতন ভবনটি দেখে ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন বলে জানান স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা প্রপিতা দত্ত। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা প্রপিতা দত্ত ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সালাউদ্দিন সিকদার বলেন, পরিত্যক্ত ভবনটি মেরামত করার জন্য স’ানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়ার কথা থাকলে ও তা না পাওয়ায় পুরাতন পরিত্যক্ত ভবনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা প্রপিতা দত্ত ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সালাউদ্দিন সিকদার আরো জানান স্কুলে ১শ ১১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
৬জন শিক্ষক শিক্ষিকা থাকলেও ২জন শিক্ষককে ডেপুটশনে অন্য স্কুলে নিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। ২০১৮ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের ২৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে শতভাগ পাশের গৌরব অর্জন করে। ২০১৯ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ৩৫ জন শিক্ষার্থী পরিক্ষায় অংশ গ্রহন করবে। পুরাতন পরিত্যক্ত ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করায় শিক্ষার্থীদের অভিবাবক ও এলাকার লোকজন সব সময় শংকিত থাকেন। যে কোন দুর্ঘটনার শংকা নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শিক্ষাকার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।