পরমাণু কমিশনে নতুন সিটি স্ক্যান ও গামা ক্যামেরা দুর্ভোগ থেকে মুক্তি রোগীদের

সালাহ উদ্দিন সায়েম

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নতুন সিটি স্ক্যান মেশিন আনা হলেও গত দুই মাসেও তা চালু করতে পারেনি কর্তৃপড়্গ। অথচ এ হাসপাতালের পেছনে পরমাণু কমিশনের ‘ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড এলায়েড সায়েন্স’ প্রতিষ্ঠানে নতুন সিটি স্ক্যান মেশিন এনে সেবা চালু করে দিয়েছে।
শুধু সিটি স্ক্যান নয়, এ প্রতিষ্ঠানে একই সাথে অত্যাধুনিক একটি গামা ক্যামেরা মেশিনও নিয়ে আনা হয়েছে। এতে দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেয়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত চিকিৎসা প্রার্থীরা। এছাড়া পরমাণু কমিশনে আরো একটি সিটি স্ক্যান মেশিন রয়েছে।
চমেক হাসপাতালে গত পাঁচ বছর ধরে সিটি স্ক্যান সেবা বন্ধ রয়েছে। এ হাসপাতালের সিটি স্ক্যানের সেবা বঞ্চিত গরীব রোগীরা এতোদিন ধরে পরমাণু কমিশনে সেবা নিয়ে আসছিলেন।
পরমাণু কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন রোগী এখানে সিটি স্ক্যান করায়। চমেক হাসপাতালে সিটি স্ক্যানের সেবা না থাকায় সেখানকার রোগীরা এখানে ভিড়ছে। এতে প্রতিদিন রোগীর চাপ বাড়ছে।
ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড এলায়েড সায়েন্স এর পরিচালক ডা. এ এইচ এম রকিবুল হক সুপ্রভাতকে বলেন, ‘সিটি স্ক্যান করতে রোগীদের চাপ ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকায় নতুন আরো একটি ফিলিপস ব্র্যান্ডের (১২৮ সস্নাইস) অত্যাধুনিক মেশিন নিয়ে আসা হয়েছে। দুটি মেশিনের মাধ্যমে এখন রোগীদের পরীড়্গা করা হচ্ছে।’
পরমাণু কমিশনে গত আড়াই বছর ধরে বিকল ছিল গামা ক্যামেরা মেশিন। দীর্ঘ ১০ বছরের পুরাতন এ মেশিনটি একেবারের কার্যড়্গমতা হারিয়ে ফেলে। তাই নতুন মেশিন নিয়ে আসা হয়। গত ডিসেম্বর থেকে এ মেশিনের মাধ্যমে রোগীদের সেবা দেওয়া শুরম্ন হয়েছে।
ডা. রকিবুল হক জানান, গামা ক্যামেরা মেশিনের মাধ্যমে তিন ধরনের পরীড়্গা করা যায়। এগুলো হলো-বোন স্ক্যানিং, থাইরয়েড স্ক্যানিং ও র্যানুগ্রাম স্ক্যানিং। গামারশ্মি দিয়ে কিডনির কার্যড়্গমতা, অবস’ান ও প্রকৃতি নির্ণয়, থাইরয়েড গ্রনি’র অবস’ান, টিউমার ও গ্রনি’র কার্যকারিতা নির্ণয়, অসি’র বিভিন্ন ধরনের টিউমার ও অন্য অঙ্গের টিউমার থেকে অসি’তে ক্যান্সার ছড়ানোর মতে গুরম্নত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর পরীড়্গাগুলো করা হয়।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কেবল পরমাণু কমিশনেই রয়েছে ব্যায়বহুল এই মেশিনটি। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও এ মেশিন নেই। বেসরকারিভাবে চট্টগ্রামে কেবল নগরের পাঁচলাইশ শেভরন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রয়েছে মেশিনটি।
জানা গেছে, পরমাণু কমিশনে গামা ক্যামেরায় স্ক্যানিং ও র্যানুগ্রাম স্ক্যানিং পরীড়্গা করতে লাগে ১ হাজার টাকা। আর থাইরয়েড স্ক্যানিং করতে লাগে ৫০০ টাকা।
কিন’ শেভরনে বোন স্ক্যানিং ও র্যানুগ্রাম স্ক্যানিং পরীড়্গা করতে লাগে ৫ হাজার টাকা আর থাইরয়েড স্ক্যানিং করতে লাগে ২ হাজার টাকা।
পরমাণু কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এসব পরীড়্গা করতে নগরী ছাড়াও ১৪টি উপজেলা এমনকি রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি থেকে প্রতিদিন ৩০-৪০ জন রোগী এখানে আসে