পটিয়ায় ১৬ বছর ভাড়ায় সাব-রেজিস্ট্রার অফিস

নিজস্ব প্রতিনিধি, পটিয়া

নিজস্ব ভবন না থাকায় ১৬ বছর ধরে চলছে পটিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস। সাবেক মহকুমা শহরের উপজেলা প্রশাসনের প্রধান ফটক এলাকায় ভাড়া বাসায় চলছে গুরম্নত্বপর্ণ এই অফিসটি। এখান থেকে বছরে প্রায় একশ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হলেও নিজস্ব ভবন না থাকায় জমি ক্রেতা-বিক্রেতারা প্রতিদিন ভোগানিত্মতে পড়ছেন। পটিয়া পৌরসদর, উপজেলার ১৭ ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী কর্ণফুলী উপজেলার ৫ ইউনিয়নের জায়গা রেজিস্ট্রি করার একমাত্র অফিস এটি। এই অফিসে নেই দলিল ও বালাম রাখার নিরাপদ কোনো স’ান। ২০০৩ সালে প্রবাস রঞ্জন বড়-য়া নামের ব্যক্তির কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে পটিয়া সাব-রেজিস্ট্রার অফিসটি এখনো চলছে। নিচতলায় পটিয়া সাব-রেজিস্ট্রার ও দ্বিতীয় তলায় পটিয়া দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছেন। প্রতিদিন সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে আসা ভূমিদাতা ও গ্রহীতাদের বসার স’ান পর্যনত্ম নেই। যার কারণে বয়স্ক নারী-পুরম্নষ ও মহিলাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্তমান সরকারের সময়ে উপজেলা সদরে সরকারি অর্থে বিভিন্ন গুরম্নত্বপূর্ণ ভবন নির্মাণ করা হলেও পটিয়ায় দীর্ঘদিনেও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের নিজস্ব ভবন নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

দলিল লেখক সমিতি ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সাব-রেজিস্ট্রার ভবন নির্মাণে সরকারিভাবে বরাদ্দ থাকলেও সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগের অভাবে পটিয়ায় তা বাসত্মবায়ন হচ্ছে না। যার কারণে পটিয়া উপজেলার ১৭ ইউনিয়ন, পৌরসদর ও কর্ণফুলী উপজেলার ৫ ইউনিয়নের ভুমি ক্রেতা-বিক্রেতারা প্রতিদিন রেজিস্ট্রি করতে এসে ভোগানিত্মতে পড়ছেন। পটিয়া সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে সাব-রেজিস্ট্রার, সহকারী, মোহরার, টিসি মোহরার, নকলনবিশ ছাড়াও দ্বিতীয় তলায় প্রায় ৮০জন দলিল লেখক রয়েছেন। দলিল লেখক সমিতির সদস্যদের অনেকে দ্বিতীয় তলায় বসার স’ান না পেয়ে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের বাইরে দোকান ভাড়া নিয়ে দলিল প্রস’তের কাজ করেন। পরে তারা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে এসব দলিল সম্পাদন করেন। পটিয়া পৌরসদর, উপজেলার হাইদগাঁও, কেলিশহর, কচুয়াই, খরনা, ভাটিখাইন, ছনহরা, বড়লিয়া, শোভনদন্ডী, জঙ্গলখাইন, হাবিলাসদ্বীপ, জিরি, আশিয়া, কাশিয়াইশ, কোলাগাঁও, কুসুমপুরা, ধলঘাট, দড়্গিণ ভূর্ষি ও পার্শ্ববর্তী কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা, চরলড়্গ্যা, চরপাথরঘাটা, বড়উঠান ও শিকলবাহা এলাকা সংশিস্নষ্ট মৌজার ভূমি পটিয়া সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে রেজিস্ট্রি সম্পাদিত হয়। এতে বছরে প্রায় একশ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়ে থাকে। স’ানীয়ভাবে কর আদায় করতে সম্প্রতি প্রতিটি উপাজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে এনআরবিসি ব্যাংকের অধীনে বুথও চালু করা হয়েছে। তবে পটিয়ায় জায়গা সংকুলান না হওয়ায় এখনো পর্যনত্ম বুথের কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না।

পটিয়া দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজি মো. শামসুদ্দোহা ও সাংগঠনিক সম্পাদক প্রণব দাশ জানিয়েছেন, জনগুরম্নত্বপূর্ণ পটিয়া সাব-রেজিস্ট্রার অফিস। কিন’ দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ভাড়া বাসায় চলছে। নিজস্ব ভবনের অভাবে সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ছাড়াও দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও দাতা-গ্রহীতারা ভোগানিত্মর শিকার হচ্ছেন। ইতোপূর্বে পটিয়া উপজেলা প্রশাসনের জায়গায় একটি নিজস্ব ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হলেও তা অদৃশ্য কারণে বাসত্মবায়ন হয়নি। যার কারণে ভাড়া বাসায় সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ও দলিল লেখক সমিতির কার্যক্রম চলছে।

পটিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে পটিয়া সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের নিজস্ব ভবন নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার অফিস নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন সহযোগিতা করলে পটিয়া সদরেই সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ভবন নির্মাণ সম্ভব। শীঘ্র্বই চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ করবেন বলে জানান তিনি। যাতে সরকারি অর্থে সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ভবন নির্মাণ কাজ যায়।

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসনের অভ্যনত্মরে সাব-রেজিস্টার অফিস ভবন নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। সাব-রেজিস্ট্রার অফিস যেহেতু রাজস্ব আদায় করবে, সেহেতু তাদের বাইরে থাকতে হবে।