ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা

পটিয়ায় প্রতিবন্ধী যুবতী ধর্ষিত

নিজস্ব প্রতিনিধি, পটিয়া

পটিয়া পৌর সদরে বাক প্রতিবন্ধী এক যুবতী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষিতাকে সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আল্লাই গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। লম্পট আবুল কাশেম (৫৬) পলাতক রয়েছে। তিনি একই এলাকার আবদুর রশিদের পুত্র। বাক প্রতিবন্ধী যুবতী ধর্ষণের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে।
এদিকে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এলাকার কিছু যুবক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষিতার মা শহর বানু বাদি হয়ে পটিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আল্লাই গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী যুবতীকে একা পেয়ে একই এলাকার লম্পট কাশেম রোববার দুপুরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। বিষয়টি ওই যুবতী তার মা ও পিতাকে ইশারায় জানান। ঘটনাটি জানাজানি হলে লম্পট কাশেম এলাকার কিছু যুবলীগ ও ছাত্রলীগের যুবকের মাধ্যমে তা ধামাচাপা দিতে চেষ্টা চালান। রাতে পুলিশ খবর পেয়ে উপ-পরিদর্শক আরিফুর রহমান দোলনসহ একদল পুলিশ ঘটনাস’লে ছুটে যান। প্রাথমিক পর্যায়ে সত্যতা প্রমাণ পাওয়ায় ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ওই যুবতী পটিয়া থানার ওসি শেখ মো. নেয়ামত উল্লাহকে ইশারায় ধর্ষণের ঘটনা জানালে চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
ধর্ষিতার মা জানিয়েছেন, ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর এলাকার কিছু যুবক তাদেরকে চাপ সৃষ্টি করছে। যাতে এই ঘটনা নিয়ে কোন মামলা মোকদ্দমা না করে।
ধর্ষিতার মা বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঘরে ছিলেন না। একই এলাকার আবুল কাশেম তাদের ঘরে দুধ দিতে গিয়ে তার প্রতিবন্ধী মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। শুধু তা নয় এটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য একটি প্রভাবশালী মহল বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে।
এ ব্যাপারে আবুল কাশেমের স্ত্রী হালিমা খাতুন বলেন, ৬ ছেলে ৬ মেয়ে নিয়ে তাদের সংসার। স্বামী কাশেম দীর্ঘদিন ধরে অসুস’ ছিল। ধর্ষণের ঘটনাটি মনে হয় সাজানো। এটি খতিয়ে দেখলে আসল রহস্য বের হয়ে আসবে।
পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মো. নেয়ামত উল্লাহ প্রাথমিকভাবে সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বাক প্রতিবন্ধী যুবতী ধর্ষণের শিকার হওয়ায় থানায় একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ধর্ষক যত বড় ক্ষমতাধর হোক না কেনো তাকে গ্রেফতার করা হবে।