পটিয়ায় কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ছবি অবমাননার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, পটিয়া

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি (ছবি) অবমাননার অভিযোগ উঠেছে পটিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুল খালেকের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অবমাননার এই ছবি ভাইরাল হলে তৃণমূল আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনা দেখা দেয়। সোমবার দুপুরে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আল্লাই কাগজী পাড়া এলাকায় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেছে। এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে। যে কোন সময় বড় ধরনের সংঘাতের আশংকা করছে এলাকাবাসী।
দলীয় ও স’ানীয় সূতে জানা গেছে, পটিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুল খালেক জাতীয় পার্টির একজন নেতা ছিলেন। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে পটিয়ার সরকার দলীয় সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীকে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। তবে যোগদানের বিষয়টি তৃণমূল আওয়ামী লীগ মেনে নিতে পারেনি। রোববার দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কর্মিসভায় দলীয়ভাবে প্রাক্তন জাতীয় পার্টি নেতা আবদুল খালেককে প্রতিনিধি সম্মেলনের কার্ড প্রদান করেন। ওই কার্ডে পদবী লেখা হয়েছে আবদুল খালেক ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। অথচ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হলেন মাস্টার খাইরুল বশর এবং সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন। আবদুল খালেক তার নিজ ফেইসবুক আইডি থেকে প্রতিনিধি সম্মেলনের কার্ডটি পোস্ট করেন। এতে তিনি লিখেছেন ‘জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যেই আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ টাকা দিয়ে কিনে ফেলেছি। যেহেতু টাকা দিয়ে এই পদ কিনেছি সেহেতু এই ব্যাপারে আর কেউ কিছু বললে মুখ সেলাই করে দেব’। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি (ছবি) ঢেকে দিয়ে কাউন্সিলর আবদুল খালেকের ছবি লাগিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট করলে তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ক্ষোভে ফোঁসে ওঠেন।
পটিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, জাতীয় পার্টি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া কাউন্সিলর আবদুল খালেক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননা নয় পুরো আওয়ামী লীগকে অবমাননা করেছে। বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতাদের অবগত করা হয়েছে এবং নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হলে প্রয়োজনে থানা কিংবা আদালতে মামলাও দায়ের করা হবে।
তবে অস্বীকার করেছেন পটিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর আবদুল খালেক। তিনি জানান, তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে কে বা কারা ঢুকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে তার (কাউন্সিলর) ছবি লাগিয়েছে। বিষয়টি তিনি লিখিতভাবে থানা পুলিশকে জানাবেন বলে জানান।