কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন

পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিতে অদ্ভুত শর্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার

কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল সামগ্রী সরবরাহ করার কাজ পছন্দের ঠিকাদারকে দিতে দরপত্রে অদ্ভুত শর্ত জুড়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে, দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে ঠিকাদারের কাছে থাকতে হবে ‘গ্রুপ ভিত্তিক ট্রেড লাইসেন্স’, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ঠিকাদারের ব্যাংক একাউন্টে পঞ্চাশ লাখ টাকা জমা থাকার প্রমাণপত্র, গত দুই বছরের মধ্যে কোন সরকারি প্রতিষ্ঠানে ‘গ্রুপ ভিত্তিক’ ৪০ লাখ টাকার ওষুধ অথবা ২০ লাখ টাকার মেডিক্যাল সামগ্রী সরবরাহের সনদপত্র বা কার্যাদেশ।
কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন ডা. কমর উদ্দিন এসব অদ্ভুত শর্ত জুড়ে দিয়ে গত ২৬ জানুয়ারি মেডিক্যাল পণ্য (এমএসআর) সামগ্রী সরবরাহের দরপত্রে আহ্বান করেন। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি সোমবার ওই দরপত্র খোলার দিন নির্ধারিত আছে।
এছাড়াও এর আগে একই পণ্য সামগ্রী সরবরাহের জন্য বাতিল হওয়া দরপত্রের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি নির্ধারণ করেছেন দরপত্র সিডিউলের মূল্য ও জামানতের পরিমাণ।
ঠিকাদারদের অভিযোগ সিভিল সার্জন ডা. মো. কমর উদ্দিন নিজ পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাওয়ার সুযোগ করে দিতে যোগসাজশ করে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত নীতিমালা বহির্ভূত এসব অদ্ভুত শর্ত জুড়ে দিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার ওই দরপত্র বাতিল করার জন্য কক্সবাজারের সিভিল সার্জনকে আইনগত নোটিশ দিয়েছেন ঢাকা, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সাতজন ঠিকাদার।
তবে ঠিকাদারদের পাঠানো আইনগত নোটিশ সম্পর্কে কিছুই জানেন না জানিয়ে সিভিল সার্জন ডা. মো. কমর উদ্দিন বলেন, ‘সিভিল সার্জন অফিসে এক বস্তা কাজ পড়ে আছে। এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় নেই।’
এর আগে এ দরপত্রের পণ্য সামগ্রী সরবরাহের জন্য গত বছরের ৩ নভেম্বর দরপত্র জমা দেওয়ার ও খোলার দিন নির্ধারণ করে দরপত্র আহ্বান করেছিলেন তিনি। ওই দরপত্রে ২০ থেকে ২৫ জন ঠিকাদার দরপত্র জমা দেয়। কিন’ সিভিল সার্জনের পছন্দের ঠিকাদার ওই দরপত্রের কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় কোন কারণ দর্শানো ছাড়া তিনি দরপত্র বাতিল করেন বলে জানান ওই দরপত্রে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন ঠিকাদার।
এরপর তিনি গোপনে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত নীতিমালা অনুসারে দুটি বাংলা ও ইংরেজী দৈনিক পত্রিকায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নিয়মকে উপেক্ষা করে একই পণ্য সামগ্রী সরবরাহ করার জন্য আবারও দরপত্র আহ্বান করেন। গত ১৭ জানুয়ারি দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ঢাকা এবং নোয়ালখালীর কয়েকটি ফার্মের মালিক ঠিকাদার হাসান মনসুর শাহিন দরপত্র জমা দিলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। এরপর এ ঘটনা গত ১৯ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ও কক্সবাজারের কয়েকটি স’ানীয় দৈনিকে প্রকাশিত হলে সাধারণ ঠিকাদারদের তোপের মুখে পড়ে দরপত্র বাতিল করতে বাধ্য হন সিভিল সার্জন।
সর্বশেষ অদ্ভুত শর্ত জুড়ে দিয়ে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি সোমবার দরপত্র জমা দেওয়ার ও খোলার দিন নির্ধারণ করে আবারও দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওই দরপত্র বাতিল করার জন্য গত বৃহস্পতিবার কয়েকজন ঠিকাদার কক্সবাজারের সিভিল সার্জনকে আইনগত নোটিশ দিয়েছেন।
নোটিশদাতা ঠিকাদারদের মধ্যে মেসার্স সাদমান ইন্টারপ্রাইজের মালিক সৈয়দ আবু তালেব জানান, বেআইনি এই দরপত্র বাতিল করার জন্য আমরা কক্সবাজার সিভিল সার্জনকে আইনগত নোটিশ দিয়েছি। নোটিশের কপি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও দেওয়া হয়েছে। দরপত্র বাতিল না করলে আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস’া গ্রহণ করবো।
তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বর মাসে ব্যাংকে ৫০ লাখ টাকা জমা থাকলে দুই মাস পরে আহ্বান করা দরপত্রে অংশগ্রহণ করা যাবে এমন শর্তজুড়ে দিয়েছেন সিভিল সার্জন। গ্রুপ ভিত্তিক ট্রেড লাইসেন্সটা কি? ব্যবসায়ীরা কি গ্রুপ হয়ে মানে সিন্ডিকেট তৈরি করে ট্রেড লাইসেন্স নেন নাকি? বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে গ্রুপ ভিত্তিক ট্রেড লাইসেন্সের ব্যবস’া আছে কিনা আমার জানা নেই।

আপনার মন্তব্য লিখুন