শোক দিবসের আলোচনায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ

পঁচাত্তরের মতো আর কোনো ষড়যন্ত্র হতে দেয়া হবে না

প্রধান বিচারপতি যোগ্যতা হারিয়েছেন : হাছান মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন-সুপ্রভাত
উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন-সুপ্রভাত

একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা আবারও এদেশে পঁচাত্তরের মতো ষড়যন্ত্র করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। কিন’ পঁচাত্তরের মতো আর কোনো ষড়যন্ত্র হতে দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
গতকাল শনিবার বিকেলে নগরীর মুসলিম ইনস্টিটিউট হলে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ ৪ দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেছিল। খুনিরা মনে করেছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে দেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। কিন’ তাদের সে স্বপ্ন পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে ।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে জাতির সমস্ত অর্জন ধ্বংস ও দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ব্যাহত করা হয়। কিন’ আল্লাহর অশেষ রহমতে বাংলার জনগণের সমর্থন নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে দেশকে উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের মধ্য দিয়ে জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে কিন’ এই হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত মেজর জিয়াসহ বাকি ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার এখনো হয়নি। এই ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারও একদিন এই বাংলার মাটিতে সম্পন্ন হবে।’
সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে রায় প্রদানের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। তিনি নিজের শপথ ভঙ্গ করেছেন, প্রধান বিচারপতি থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে তিনি এ মামলায় যিনি পক্ষ নন তাকে পক্ষ বানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনকে প্রতিপক্ষ বানিয়েছেন।’
উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক জসিম উদ্দিনের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, অধ্যাপক মো. মঈনুদ্দিন, অ্যাডভোকেট ফখরুদ্দিন চৌধুরী ও সিরাজুদৌল্লাহ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, সংসদ সদস্য দিদারুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনুচ গণি চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আনোয়ার চৌধুরী বাহার, কোষাধ্যক্ষ ও উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক বেদারুল আলম চৌধুরী প্রমুখ।